রসনার পিছনে আবার কোন রহস্য! আর সেই রহস্যের খোঁজে খোদ ডাক পড়েছে গোয়েন্দা প্রবরের। চমকে যাবেন না। ভাবছেন ওই রসনার তৃপ্তি সন্ধানে কারওর কিছু হয়ে গিয়েছে! একদম-ই না। সকলেই সুস্থ রয়েছেন এবং বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। বরং এমন রান্নার রসনায় তৃপ্তিভেজা ঢেকুর তুলতে তুলতে মাথা চুলকোতে হচ্ছে সকলকে। কেউই ঠাহর করতে পারছেন না, এমন অসামান্য রান্নার রহস্যটা ঠিক কী? আর তাই ডাক পড়েছে যেমন-তেমন গোয়েন্দার নয়! খোদ আবির চট্টোপাধ্যায়ের। যিনি একাধারে ফেলু মিত্তির, অন্যদিকে দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন খুঁজতে যাওয়া সোনাদা এবং শরদিন্দু-র ব্যোমকেশ। তিনি তাই খুঁজতে শুরু করেছেন সুদীপা বউদির রান্না রহস্য। 

গোয়েন্দাদের কাছে খুন-রাহাজানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অদ্ভুতুড়ে সব অপরাধের সমধানের চাবিকাঠি কোনও না কোনওভাবে চলে আসে। কিন্তু, তা বলে রান্না রহস্যের পর্দাফাঁস! এ তো রান্না-র স্বাদ না নিলে অসম্ভব। গোয়েন্দাদের মগদজাস্ত্র তো তীব্র ও প্রখর বলেই জানা রয়েছে। আর যার চরিত্রে সত্যজিৎ-এর ফেলু মিত্তির থেকে শুরু করে শরদিন্দু-র ক্ষুরধার মাথা-র ব্যোমকেশ এবং ইতিহাসবিদ অধ্যাপক তথা ধাঁধার উত্তরে গুপ্তধন খুঁজে বেড়ানো সোনাদা- রয়েছেন, তাঁর মগজাস্ত্র নিয়ে তো কোনও প্রশ্নই উঠতে পারে না। আবিরের ভক্তকূল-ও এমন কিন্তু কিন্তু প্রসঙ্গ-কে তুড়ি মেরেই উড়িয়ে দেবে। 

আরও পড়ুনঃ'বাড়িতে বসে কে ড্রাগস নেয়', করণের NCB জেরার পর মুখ খুললেন ভিকি

 

 

পেটুক গোয়েন্দাদের খোঁজ তেমন খুব একটা পাওয়া যায় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে-ই দেখা যায় গোয়েন্দাদের অ্যাস্টিস্ট্যান্ট বা সঙ্গী-সাথীরাই বেশি করে পেটুক হয়। তবে পেটুক ও খাদ্য রসিকদের মধ্যে একটা সুক্ষ ভেদ রয়েছে। খাদ্যরসিক সকলেই। কিন্তু, এর জন্য পেটুক হওয়ার দরকার পড়়ে না। ফলে, যারা আবিরকে পেটুক বলে ভেবে বসেছিলেন তাঁরা বরং তাঁকে খাদ্য রসিক বলেই মনে করতে পারেন। তাই হয়তো সুদীপা বউদির রান্না রহস্য ভেদে চলে এসেছিলেন তিনি। বলতে গেলে অনেকটা রথ দেখা কলা বেচার মতো। একদিকে সুদীপা বউদির রান্নার গুণগাণ-কেও চেখে নেওয়া যাবে আবার রহস্যটাও ভেদ করার বিষয়টাও সেরে ফেলা যাবে। 

আরও পড়ুনঃক্রপ টপে Navel হটনেস রচনার, উদ্দাম নাচে মত্ত 'দিদি', ভিডিও দেখে চোখ কপালে উঠল ভক্তদের

সুদীপা বউদি তো আবার যেমন-তেমন রাঁধুনী নন, তিনি তো সুদীপার রান্নাঘর ব্র্যান্ডের ধারক-বাহক। সুতরাং তাঁর রান্না রহস্যের ভেদ করাটা অনেকটা লখনউ-এর ভুলভুলাইয়াতে হারিয়ে গিয়ে বের হওয়ার পথটা খুঁজে পাওয়ার মতো। কারণ, সুদীপা বউদির রান্নার জিভে ঠেকালেই মগজের মধ্যে রসনার হিং-টিং-ছট গুলো এমন দপদপ করতে থাকে যে চারিদিকে নিয়ন আলোর দাপাদাপি থেকে শুরু করে রসনার চোরাবালিতে মন যেন হারিয়ে যেতে থাকে। ফলে, এমন রান্নার রহস্যভেদ চাট্টিখানি কথা নয়। বলতে গেলে রসনার স্বাদও নিতে হবে আবার মগজাস্ত্রের কারখানাটাকেও সচল রাখতে হবে। তাকে রসনার স্বাদে বুঁদ হতে দেওয়া যাবে না। 

ঢাক-ঢোল পিটিয়ে-ই আবিরকে খোদ সুদীপা বউদির দুই সহচর ও সহচরিনী শিবপ্রসাদ ও নন্দিতা নিয়ে গিয়েছিলেন জোকাতে। সেখানেই মহাসাড়ম্বরে পাত পেড়ে আবিরকে সুন্দর-পরিপাটি করে তাঁর রান্না করা খাবার খাইয়ে দিয়েছেন সুদীপা। স্বাদের আহ্লাদে ঢেকুর তুলতে তুলতে আবির রান্না রহস্যের ভেদ কি করতে পারলেন? তা নিয়ে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন শিবপ্রসাদ ও নন্দিতা। আর মিটিমিটি হাসিতে কিছুই বলতে চাইছেন না সুদীপা বউদি। আবিরের কথা তিনি রহস্যের সমাধানের যা বলার তা নাকি শিবপ্রসাদ ও নন্দিতাকে-ই বলে দিয়েছেন। এমন রান্না রহস্যের আসল পর্দাফাঁস না-কি এই দুইজনেই করবেন! দেখেছো কাণ্ড!