গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হয়েছেন বাংলা সিনেমার বিখ্যাত অভিনেতা তাপস পাল। সোমবার ভোররাতে মৃত্যু হয় তার। মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। পরিবার সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। এই রোগের কারণে কথা বলা ও চলাফেরাতেও সমস্যা হচ্ছিল অভিনেতার। ১ ফেব্রুয়ারি বান্দ্রার একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি ভেন্টিলেশনে ছিলেন। ৬ ফেব্রুয়ারি ভেন্টিলেশন থেকে অভিনেতাকে বার করে আনা হয়। তারপর হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেতা। রাত ৩ টে ৩৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা তাপস পাল।

 

 বিখ্যাত অভিনেতা তাপস পালের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলি ইন্ডাস্ট্রিতে। তার মৃত্যুতে প্রত্যেকেই শোকাহত।  সিনেমা জগত থেকে রাজনৈতিক মহল সকলেই তার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন।  কিন্তু মৃত্যুর কয়েকদিন কাটতে না কাটতেই অভিনেতার পুরোনো একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সূত্র থেকে জানা গেছে, শেষ সময়েও আবারও কাজে ফিরতে চেয়েছিলেন তাপস পাল। এমনকী কাজ খোঁজার জন্য ইন্দ্রাণী হালদার, অরিন্দম শীলকেও ফোন করেছিলেন অভিনেতা। অরিন্দম শীলকে ফোন করেও কাজের জন্য অনুরোধ করেছিলেন তাপস। শুধু তাই নয়, ইন্দ্রাণী হালদারকেও বলেছিলেন প্রযোজক-পরিচালকদের  সঙ্গে কথা বলে দেখতে কোনও কাজ আছে কিনা। এমনকী তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনীও ফোন করে বলেছিলেন নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চান তাপস। আর তাই কাজে ফিরতে চেয়েছিলেন। 


পরিচালক তরুণ মজুমদারের 'দাদার কীর্তি' ছবি দিয়ে টলিউডে অভিনয় শুরু করেছুলেন তাপস পাল। অভিনয় জীবনেও নিজের অভিবনয়ের জন্য প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। তারপর থেকে একের পর সিনেমায় অভিনয় করে তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। 'বলিদান', 'গুরুদক্ষিণা', র মতো সুপারহিট ছবি ছিল তার ঝুলিতে। ১৯৫৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হুগলির চন্দননগরে জন্ম হয় তাপস পালের। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল তাপসের। কলেজে পড়াকালীন অভিনয়ে আসা তাপসের। বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেন তাপস পাল। বলি অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতের বিপরীতেও 'অবোধ' ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তাপস পাল। ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারও রয়েছে তাপসের ঝুলিতে। ২০০১ সালে তৃণমুল কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে পা রাখেন অভিনেতা। তারপর ২০০৬ সালে পরপর বিধানসভা নির্বাচনে জেতেন অভিনেতা। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে পরপর দুবার কৃষ্ণনগর লোকসভা থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে আসার পর অভিনয়ে সেভাবে বিশেষ নজর কাড়েননি তাপস। ২০১৬ সালের শেষে রোজভ্যালি কান্ডে গ্রেফতার করা হয় তাপসকে। দীর্ঘদিন জেলেও দিন কাটাতে হয়েছে অভিনেতাকে। ২০১৮ সালে তিনি জামিন পান।  তারপর রাজনীতিতেও আর দেখা যায়নি তাকে।