পুরুষ সমাজের পোশাক হোক রঙিন, তাঁর ডিজাইনের ধাঁচও পাক অন্য মাত্রা, এমনই স্বপ্ন বুনেছিলেন ডিজাইনার শর্বরী দত্ত। বাস্তবে করেছিলেনও তাই। ঢেলে সাজিয়েছিলেন তাঁর কালেকশনের বাহার। মনকে সতেজ রাখতে রঙিন পোশাকের এক মাধুর্যই আলাদা, একাধিকবার তাঁর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে হাল ফ্যাশনের নয়া নয়া দিক। থেমে থাকা নয়, প্রতিবারই যেন নতুন কিছু সংযোজন থাকত তাঁর বুননে। 

আরও পড়ুনঃ 'ফ্যাশনে পুরুষকে পৌঁছে দেন আন্তর্জাতিক স্তরে', ডিজাইনার শর্বরী দত্তের মৃত্যুতে শকড ঋতু-রাজ

সেই পাট ভাঙা সাজের ইতিকথা লিখে যিনি সকলের নয়নের মণি হয়ে উঠেছিলেন, সেই বিখ্যাত ডিজাইনার শর্বরী দত্ত আজ নেই। থমকে গেল ফ্য়াশন জগতের এক অধ্যায়। তবে শূণ্যকে শূণ্য করে নয়, তা পূর্ণ করেই গিয়েছে শর্বরী দত্ত। সেই ভাবনা, দর্শণকেই পাথেয় করে এগিয়ে যেতে হবে, আশায় বুক বাঁধছেন শূণ্য কর্ণধার রেশমি বাগচি। তাঁর কথায়- 'প্রতিটা মুহূর্তেই নতুন ভাবনাকে রঙ দিতেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও ভাবতে পিছু পা হননি তিনি।' এ এক অন্য পুজো, কোভিড কোমায় যখন গোটা বিশ্ব, তখনই পজিটিভিটির বার্তা দিতে ফ্যাশন নিয়ে খসরা করে চলেছিলেন শর্বরী দত্ত। 

 

 

বৃহস্পতিবারই পুজোর একাধিক শ্যুট নিয়ে লোকেশন দেখতে যাওয়ার কথা ছিল শর্বরী দত্তের। তা নিয়ে রেশমির সঙ্গে কথাও হয়। বুধবার রাতে ফাইনাল কথা বলার জন্যই ফোন করেছিলেন রেশমি, কিন্তু ফোন বেজে যায়।- 'ভেবেছিলাম, ফোন হয়তো সাইলেন্ট করা আছে। তাই আর ফোন করিনি। এরপরই রাত সাড়ে ১১টায় খবর পেলাম। ক্ষণিকের জন্য সব যেন স্তব্ধ...।' 

 

 

ফ্যাশন দুনিয়াতে শর্বরী দত্ত একজন মহীরূহ, তাঁর সৃষ্টিতে থাকা নতুনত্বের ছোঁয়া পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে শূণ্যে। সামনেই পুজো। ব্যস্ত তেমন না হলেও, বেশ কিছু পরিকল্পনা ছিল শর্বরী দত্তের। 'একটা মিউজিক ভিডিও বানানোর কথা চলছিল। যেখানে নতুন কালেকশন নিয়ে আসা হত, কয়েকটি লোকেশন শ্যুটিং-এর জন্য ফাইনালও করা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সে সব কাজ অসম্পূর্ণ রেখে এভাবে দিদি চলে যাবেন দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি।'