অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মস্তিষ্ক তেমন সাড়া দিচ্ছে না। স্নায়ুও ক্রমশ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। এছাড়াও, সেকেন্ডারি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। গ্লাসগো কোমা স্কেল অনুযায়ী, মস্তিষ্কের স্নায়ুর সাড়া দেওয়ার সূচক ৮ থেকে ৯-এর মধ্যে। তাই তাঁর মেডিক্যাল বোর্ডের ডাক্তাররা, বিশেষ করে বোর্ডের নিউরো দলের সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁকে 'এয়ার ওয়ে প্রোটেকশন' দিতে সোমবার দুপুর ৩টে নাগাদ ইন্টুবেশন সাপোর্ট দিতে শুরু করেছেন। আংশিক ভেন্টিলেশন সাপোর্টে আছেন তিনি। শেষ ৭২ ঘণ্টায় প্রবীন অভিনেতার অবস্থা খুব একটা উন্নতি ঘটেনি বলেই জানা গিয়েছে। তবে আংশিক ভেন্টিলেশনে দেওয়ার পর থেকে ডাক্তারদের কথায় তাঁর অবস্থা 'আনইভেন্টফুল' অর্থাৎ উন্নতি বা অবনতি কোনওটাই ঘটেনি।

এদিন সন্ধ্যার মেডিকাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে প্রবীন অভিনেতার মস্তিষ্ক এখনও সাড়া দিচ্ছে না। সেই সঙ্গে সেকেন্ডারি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন সৌমিত্র। সেইসঙ্গে রক্তে প্লেটলেটের পরিমাণ খুবই কমে গিয়েছে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, জিআই ব্লিডিং-এর কারণেই প্লেটলেট কমেছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-এর। সেই কারণে হেমাটোলজিস্ট বা রক্তরোগ বিশেষজ্ঢদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। তাদের পরামর্শ মতো রক্তের দ্রাব্যতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্চে।

সেইসঙ্গে শরীরে ইউরিয়ার পরিমাণ-ও বেশি রয়েছে। জিআই ব্লিডিং এবং ডিহাইড্রেশনের জন্যই এমনটা ঘটেছে। তার জন্য নেফ্রোলজিস্ট-এর পরামর্শ মতো বাইরে থেকে পর্যাপ্ত ফ্লুইড দেওয়া হচ্ছে অভিনেতার শরীরে।

তবে ইন্টুবেশনে দেওয়ার পরে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানিয়েছেন ডাক্তাররা। জিআই ব্লিডিং বন্ধ হয়েছে। রক্তচাপ ঠিক আছে। ৪০ শতাংশ অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হচ্ছে। ডাক্তাররা বলছেন যে সমস্ত কোমর্বিডিটি সামাল দিতে হচ্চে, তা মাথায় রেখে বলা যায় 'এই মুহূর্তে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।'