মুম্বই যাওয়া হয়েছিল কাজের সূত্রে। তখনও বোঝেননি এভাবে আটকে পড়বেন সেখানে। পরিবার, নিজের শহর সবকিছু থেকে সুদূরে লকডাউন কাটছে বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের তবে তাতে তেমন ক্ষেদ নেই অভিনেতার। এমন পরিস্থিতিতে যে পজিটিভিটিটাই প্রয়োজনীয়, সাক্ষাৎকারের শুরুতেই তা বুঝিয়ে দিলেন অভিনেতা। লকডাউনের সময়ও ব্যস্ততা কম নেই বিক্রমের। তবুও খানিক সময় বের করে এশিয়ানেট নিউজ বাংলার প্রতিনিধি অদ্রিকা দাসের সঙ্গে টেলিফনিক আড্ডা মজলেন অভইনেতা। জানালেন এই পরিস্থিতির ঠিক কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে ভয় রয়েছেন। শেয়ার করলেন লকডাউন শেষ হওয়া মাত্রই কী করবেন তিনি।

অদ্রিকা- লকডাউন কেমন কাটছে?
বিক্রম- ওয়েল। আমি এখন মুম্বইতে। কাজের সূত্রে এসেছিলাম। এমন আটকে গিয়েছে। ছেলেবেলার বন্ধু অভিনবের বাড়িতে আছি। মা, বাবা, বোনের থেকে বেশ দূরে। 

অদ্রিকা- এমন অবস্থায় মুম্বইতে আটকে গেলেন, সমস্যাও বাড়ছে নিশ্চই ক্রমশ?
বিক্রম- না! আমি ঠিক এটাকে সমস্যা বলতে পারব না। এটাই বলব না যে দুঃখিত। চ্যালেঞ্জিং তো বটেই। তবে বিভিন্ন কাজ শিখছি। পরিস্থিতির বিষয় আরও বেশি ওয়াকিবহল হচ্ছি। তাই খারাপ ভাল ভেবে লাভ নেই। যা করছি তা সবটাই একটা সামাজিক কারণের জন্য। কলকাতায় থাকলে ভাল হতে নিশ্চই, মা, বাবা, বোনকে সাহায্য করতে পারতাম। ওনারা আমার জন্য একটু কম চিন্তা করতেন। 

আরও পড়ুনঃলকডাউন না মানলেই তোলা হবে অ্যাম্বুলেন্সে, ভিডিও শেয়ার করলেন বিক্রম

অদ্রিকা- বন্ধুর বাড়িতে মানে তো পরিস্থিতিটা বেশ আলাদা? 
বিক্রম- আলাদা তবে কিছুটা। কারণ বাড়িতে থাকলেও বাড়ির কাজ করতাম, সেটা এখানে করছি। সময় কাটাচ্ছি গান শুনে, ফিল্মস কিংবা সিরিজ দেখে, মাঝে মধ্যে একটু লেখালিখিতেও মন দিচ্ছি। আসলে এতদিন ধরে আটকে থাকাটা, কাজে না যেতে পারা একবারেই সুখকর নয়। অধিকাংশ মানুষরাই কাজে যেতে পছন্দ করেন, আমিও করি। আমি প্রতিদিন ক্যামেরাটাকে মিস করি, ক্রিউদের মিস করি, শ্যুটিং সেট, সহকর্মী, পরিবারের পাশাপাশি এদেরও মিস করি।

অদ্রিকা- আপনার ইনস্টাগ্রাম থেকে এটা পরিষ্কার যে এগুলো ছাড়াও পাহাড়কে খুব মিস করছেন।
বিক্রম- ছোট থেকে আমি পাহাড় ছাড়া অন্য কোথাও গিয়েছি কি না সন্দেহ আছে। সময় পেলেই আমি পাহাড়ে ছুটে যাই। আমার বাবাও আসলে পাহাড় খুব ভালবাসেন। বছরে দু'বার তো যাওয়ার চেষ্টা করি। লকডাউনে আন্ধেরিতে বসে আরও বেশি মিস করছি। এখানে সকাল সাতটা থেকে এগারোটা বাইরে যেতে পারি। সারাদিন গৃহহন্দি। লকডাউন কাটলেই বাড়ি যাব, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবো, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা করব, আমার একটা ফার ফ্যামিলি আছে (বিক্রমের পোষ্য) সকলের সঙ্গে দেখা করে কাজের পর একটা শর্ট ব্রেক নিয়ে পাহাড়ে পালাব।

অদ্রিকা- ট্রেকিং, হাইকিং, ক্যাম্পিংয়ে কতটা ইন্টারেস্ট রয়েছে?
বিক্রম- ট্রেকিংয়ে ট্রাই করেছি। কিন্তু আমার মনে ফিটনেস আরেকটু বাড়াতে হবে। বেশ কঠিন জিনিস তো। আমি বেশিরভাগ বাইকেই পাহাড় এক্সপ্লোর করেছি।

আরও পড়ুনঃলকডাউনে এ কী অবস্থা বিক্রমের, সাহায্য চাইছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়

অদ্রিকা- আচ্ছা, এই যে বেশ কিছু লোকজন লকডাউনের গুরুত্ব বুঝছে না সেই ব্যাপারে আপনার টেক কী?
বিক্রম- আমি সম্প্রতি একটা শব্দ শুনলাম। কোভিডিয়টস। অনেক এরম বোকা মানুষই বাইরে আছে। জানি না এরা কেন গুরুত্ব দিচ্ছি না। এনারা হয়তো জানেন না যে করোনাভাইরাসটা কীভাবে ছড়াচ্ছে। কতজন হাসপাতালে দুই সপ্তাহ কাটাচ্ছে সুস্থ হওয়ার জন্য। আমরা কেউই চাইব না এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে কেউ যাক। জানি সহজ নয়, এভাবে বাড়িতে বন্দিদশায় থাকা। আমার বাড়িতেও দাদু-দিদাকে আটকানো মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। তারা বেরতে চাইছেন। কিন্তু আমাদেরও কিছু করার নেই। ভাইরাসের এখনও কোনও অ্যান্টিডট নেই, ঔষুধ নেই। তাই লকডাউনে থাকা ছাড়া কোনও উপায় নেই। 

অদ্রিকা- সোশ্যাল মিডিয়ায় মনোরঞ্জনের জন্য কোনও চ্যালেঞ্জে যোগদান করা, রান্নার ছবি পোস্ট করা, এগুলোকে একদল ভাল ভাবে নিচ্ছে না। তাদের কথায়, বিশ্বের এই পরিস্থিতিতে এই ধরণের বিনোদনের ভাগিদার হওয়ার কোনও মানে হয় না। কোনটা ভুল মনে হয় আপনার?
বিক্রম- বিষয়টির দুটো দিক আছে। আমরা একদিকে লকডাউন, তাই  কোনও ভাবে নিজেদের ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছি। সারাদিন বাড়িতে বসে থাকলে মানসিক অবসাদেও ভুগতে পারেন মানুষ। যেটা রীতিমত ভয়ের। তাই আমরা নতুন কিছু করছি। আর আমাদের অভ্যেশই হল সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু না কিছু পোস্ট করা। যারা এর বিরোধিতা করছেন তারা নিশ্চই পরিস্থিতি অত্যন্ত চিন্তিত কিন্তু মানুষেরও বিনোদন দরকার এই সময়। আর যারা বিনোদনের জন্য এগুলো করছেন তারাও একটু সেনসেবল হলে কোনও অসুবিধে নেই। তাই ভুল ঠিক আলাদা করে বলার নেই।

আরও পড়ুনঃবিক্রমের সঙ্গে কাজ করতে অনিচ্ছুক ঐন্দ্রিলা, সরাসরি জানিয়ে দিলেন অভিনেত্রী

অদ্রিকা- এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে মানুষ যথাসম্ভব সতর্ক থাকার চেষ্টা করছে। আপনার কাছে কোন কোন জিনিসে মানুষের বেশি সতর্ক থাকা উচিত? কী বার্তা দিতে চান ভক্তদের?
বিক্রম- শুধু ভক্তদের নয়, সকলেই। যারা আমার কাজ দেখেছেন বা দেখেননি, পছন্দ করেছেন বা করেননি, আমি সকলকেই বলতে চাই নিজের মানসিক অবস্থার কথা ভাবতে। বা একের অপরের মানসিক অবস্থার কথা চিন্তা করতে। কারণ আমরা যে পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছি এটা সাধারন নয়। এভাবে আমরা অভ্যস্ত নই। তাই বাড়িতে সারাদিন থাকলে ডিপ্রেশনের একটা চান্স থেকে যায়। সেই বিষয় আমাদের একটু গুরুত্ব দিতে হবে। আশা করি আমরা সকলে এই করোনা যুদ্ধে জয়ী হবো।