উত্তম কুমার ও সুপ্রিয়া দেবীর সমধ্যে থাকা সম্পর্কের সমীকরণের কথা কে না জানে। পর্দার সামনে যেমন একের পর এক ঝড় তুলে স্বর্ণযুগে কালজয়ী ছবি উপহার দিয়েছেন এই জুটি দর্শকদের, ঠিক তেমনই পর্দার পেছনে তাঁদের মধ্যে থাকা সম্পর্ক ছিল এক আবেগ-অনুভুতি। যা লিখে বলেও ব্যক্ত করে উঠতে পারেননি উত্তম কুমার। কেবলই বলে যেতে পেরেছিলেন, তিনিন সুপ্রিয়া দেবীকে কোনও দিনও ঠকাতে চাননি। অথচ, এই মানুষটাই একদিন মহানায়কের আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। 

 

 

১৯৬৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর উত্তম কুমারের বাড়ি- 

সম্পর্কের সমীকরণ যেমনই হোক না কেন এক সঙ্গে থাকার পরিকল্পনা কোনও দিনই করেননি উত্তম কুমার ও সুপ্রিয়া দেবী। তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায় পৌঁচ্ছে যায় যে এমনই সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেছিলেন উত্তম কুমার। ২৯ সেপ্টেম্বর, গৌরী দেবীর জন্মদিনের আসর। সেখানেই কথায় কথায় বাকবিতন্ডাতে জড়িয়ে পড়েন গৌরী দেবী ও উত্তম কুমার। প্রথমটাতে নিজেকে সামলে নিতে চেয়েছিলেন মহানায়ক। বোঝাতেও চেয়েছিলেন গৌরী দেবীকে। কিন্তু তিনি ছিলেন বুঝতে নারাজ। এমনই সময় মেজাজ হারায় উত্তম কুমার। বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন। 

 

 

আশ্রয় দেবে...

বাড়ি থেকে বেরিয়ে শুরু হয় ভাবনা, কোথায় যাবেন, মাথায় আসে একটাই ঠিকানা, ময়রা স্ট্রিট। বেল বাজাতেই দরজা খোলেন সুপ্রিয়া দেবী, দেখেন বিদ্ধস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে উত্তম কুমার। চোখের পলকে চাইলেন একটু আশ্রয়। মায়া জড়ানো চোখে সুপ্রিয়ার মমতাই তখন দিয়েছিল মহানায়ককে পরম আশ্রয়। যেখানে তিনি আবারও খুঁজে পেয়েছিলেন নিজের জীবনের ছন্দ। ভালো থাকার রসদ। ধীরে ধীরে সবটা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল তাঁর বেণুর দরবারে। 

 

 

উত্তমের কলম-

উত্তম কুমারের লেখা বই আমার আমিতে বিস্তারিত লেখা রয়েছে এই ঘটনা। নিজেই লিখেছিলেন, সুপ্রিয়া দেবীর সেবা যত্নে কীভাবে তিনি ধীরে ধীরে সব যন্ত্রণা কাটিয়ে উঠছিলেন। কীভাবে সুপ্রিয়া দেবীর আশ্রয় তাঁকে শান্তির খোঁজ দিয়েছিল। তবে একটা কথা উল্লেখ করতে ভোলেননি উত্তম কুমার, তিনিন সুপ্রিয়া দেবীকে ঠকাতে চাননি।