তেরো বছর ধরে জ্ঞাতি ভাইয়ের পরিচয় দিয়ে নিজের সঙ্গীর সঙ্গে থাকতে হয়েছিল জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত পরিচালক অপূর্ব আনসারিকে। নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে প্রেমিক সিদ্ধান্ত পিল্লাইয়ের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে তিনি জানান, কীভাবে সমকামীতা, পরিচয় সবকিছু লুকিয়ে একসঙ্গে থাকতে হয়েছিল তাঁদের। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এলজিবিটিকিউ বৈধ হিসেবে ঘোষিত হয়। অপূর্ব এই সম্প্রদায়ের জন্য যথাসম্ভব লড়ে গিয়েছেন। আজও লড়ছেন। তবে তাঁর এই লড়াই শুরু হয়েছিল বহু আগে। যে সময় সমকামী মানুষদের দেখলেই পাপ এবং অপরাধ হিসেবে গণ্য করত সমাজ।

আরও পড়ুনঃ'কাট' শুনতেই পেলেন না জ্যাকি-টাইগার, রেমোর প্র্যাঙ্কের অজান্তেই চুম্বনে লিপ্ত হলেন হিরো-হিরোইন

নিজের ট্যুইটে তিনি লেখেন, "দীর্ঘ তেরো বছর আমরা জ্ঞাতি ভাই হিসেবে বাড়ি ভাড়া করে থাকতাম। আমরা বাড়িতে পর্দা ফেলে রাখতাম যাতে কেউ আমাদের আসল পরিচয় না পায়। এখন আমরা নতুন বাড়ি কিনেছি। একসঙ্গে নতুন জীবনে পাড়ি দিয়েছি। সমাজকে পরিবার পরিজনকে বলতে পারছি যে আমরা একে অপরকে ভালবাসি। পরিবারেও ব্যাপারটা মেনে নিয়েছে।" সিদ্ধান্তের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে পোস্টটি করেন অপূর্ব। তিনি এক সাক্ষাৎকারে জানান, "আমি এতদিন ইন্ডাস্ট্রিতে থেকে বুঝেছি লোকজন তোমার ব্যক্তিগত মতামতের জন্য চিনবে, মন্তব্য করবে। তোমার কাজকে কেউ দাম দেবে না।"

আরও পড়ুনঃভারতের পঙ্গপাল হামলা 'পাপের ফল', জাইরার টুইট ঘিরে জোর জল্পনা নেটদুনিয়ায়

 

জোয়া আখতার এবং রীমা কাগতির 'মেড ইন হেভেন'-এ তিনি নিজের জীবনকেই সকলের সামনে রেখেছিলেন। অপূর্বের ট্যুইটেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। সিরিজে করণ একজন সমকামী ছিল। যে বাড়িতে সে ভাড়া থাকত সেখানে সারাক্ষণই পর্দা ফেলে রাখত করণ। নিজের পরিচয় বাড়ির মালিকের কাছে লুকিয়ে গিয়েছিল সে। পরবর্তীকালে সব জানাজানি হয়ে যায়। সিরিজটিতে যে সময়টি দেখানো হয়েছে তা ২০১৮ সালের আগে। অর্থাৎ যে সময় এলজিবিটি সম্প্রদায় বৈধ হয়নি। অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হত তাদের। মেড ইন হেভেনে করণকে জেলও খাটতে হয় যেহেতু সে একজন পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় পুলিশের নজরে আসে।