প্রয়াত ঋষি কাপুরবলিউডের 'ফার্স্ট ফ্যামিলি'র পরিচয় তিনি ছাপিয়ে গিয়েছিলেনসিনে দুনিয়ায় ঋষি কাপুরের থেকেও বেশি পরিচিত ছিলেন চিন্টুজি নামেকীভাবে পেয়েছিলেন তিনি এই ডাকনাম 

দুই বছর ধরে লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে চলছিল তাঁর দীর্ঘ লড়াই। বৃহস্পতিবার সকালে চলে গিয়েছেন ভারতীয় সিনেমমার 'অরিজিনাল চকলেট বয়' ঋষি কাপুর। ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে অবশ্যই তৈরি হবে অপূরণীয় শূন্যতা। বলিউডের 'ফার্স্ট ফ্যামিলি' কাপুর পরিবারের অন্যতম সদস্য হলেও নিজস্ব অভিনয় ও মানবিক গুণে সিনে জগতে আলাদা জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন তিনি। তাই আপামর ভক্তদের কাছে তাঁর পরিচয়টা কিন্তু, ঋষি কাপুর নয়, 'চিন্টু' বা 'চিন্টুজি'।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বস্তুত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরে তিনি এক টুইট পোস্টে জানিয়েছিলেন, চিন্টু থেকে 'ঋষি কাপুর' হিসাবে পরিচিত হতে তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছিল। ভারতীয় পরিবারে উদ্ভট ডাকনাম থাকবে না তা কি আর হয়? ওই চন্দ্রবিন্দুর গানের কথা আছে না, 'কটকটি চেট্টি ফুলঝুড়ি / ডাকবে না নামগুলো বিচ্ছিরি'। কিন্তু তারপরেও এই বিচ্ছিরি নামগুলোয় বাড়ির ছেলেমেয়েদের ডাকা হয়। 'ববি'র নায়কেরও তাঁর ডাকনামটা পছন্দ ছিল না। নিজের ছেলেমেয়েরও কোনও ডাকনাম দেননি সেই কারণে। তবে 'চিন্টুজি' নামের পিছনে কিন্তু একটা ইতিহাস আছে।

Scroll to load tweet…

এক সর্বভারতীয় পত্রিকায় ঋষি কাপুর নিজেই সেই ইতিহাস জানিয়েছিলেন। একেবারে ছেলেবেলায় ঋষির সঙ্গে চিন্টু নামটা জুড়ে গিয়েছিল। তখন তাঁর দাদা রণধীর কাপুর সবে স্কুলে ভর্তি হয়েছেন। একটা কবিতা তাঁর খুব মনে ধরেছিল, 'ছোটে সে চিন্টু মিয়া, লম্বি সি পুছ, জাহা জায়ে চিন্টু মিয়া, ওহাঁ জায়ে পুছ'। এই লাইনগুলি তিনি সারাদিন আউরাতেন। ঋষি তখন সবে হয়েছেন, ব্যাস তাঁর নামই হয়ে গেল সেই 'লম্বি পুছ'ওয়ালা চিন্টু মিয়ার নামে।

কাপুর পরিবারের আভিজাত্যকে ধরে রেখেও যেভাবে, অভিনয় দক্ষতায় ও মানবির গুণাবলীতে 'কাপুর' নামের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন ঋষি, তাতে চিন্টু নামটা তাঁর যতই অপক্ছন্দের হোক, সিনে জগৎ তাঁকে চিন্টু নামেই মনে রাখবে।