মাঝখানে বছর চারেক তাঁর কোনও খোঁজই পাওয়া যায়নি। যেন কর্পূরের মতো উবে গিয়েছিলেন। আসলে বাঙালির সর্বভারতীয় আইকন বলতে তো এইমুহূর্তে যে কয়জন মানুষ আছেন তাঁদের  মধ্যে তিনি রয়েছেন সর্বাগ্রে। এমন এক আইকন যখন নিরুদ্দেশে আত্মগোপন করে থাকেন তখন চিন্তা হওয়া ছাড়া কোনও গতি থাকে না। তাই মিঠুন চক্রবর্তীর খবরা-খবর নেওয়াটা বাঙালির অভ্যাসের মধ্যেই পড়ে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ফের সকলের সামনে এসেছেন মিঠুন। যেখানে তাঁকে প্রত্যক্ষ করেছেন অগণিত মানুষ। 

মিঠুনপ্রেমীদের সকলেরই জিজ্ঞাস্য কেমন আছেন বাঙালির মেগাস্টার? সন্দেহ নেই ডিস্কো ডান্সারের জিমি-র ছিপছিপে চেহারায় এখন বার্ধক্য থাবা বসিয়েছে। কিন্তু, গানের তালে শরীরি হিল্লোল হোক বা কেতাদুরস্ত অভিনেতার ভঙ্গিমা- এখনও সবেতেই তিনি সমানতালে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারেন তা তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন। 

সম্প্রতি একটি রিয়্যালিটি শো-এ তাব্বুর সঙ্গে যেভাবে 'জুলি জুলি' গানে পা মেলালেন তা ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। তাব্বু-ও কম যান না। 

 

 

এই মুহূর্তে নাচের একটি রিয়্যালিটি শো-এ প্রধান বিচারক হিসাবে কাজ করছেন মিঠুন। বাংলা টেলিভিশনে চলা এই রিয়্যালিটি শো-এ তাঁর সঙ্গে আছেন সোহম চক্রবর্তী ও শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও মিঠুন আরও একটি বাংলা ছবিতে অভিনয় করছেন। মানস মুকুল পাল পরিচালিত এই ছবিটির নাম 'সহজ পাঠের গল্প'। বাঙালি বিপ্লবী দীনেশ গুপ্ত-র জীবনী নিয়ে এই ছবির কাহিনি। 

সম্প্রতি মিঠুন খবরের শিরোনামেও এসেছিলেন অক্টোবরের শুরুতে তিনি নাগপুরে আরএসএস-এর দপ্তরেও হাজির হয়েছিলেন। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা ছিল। কিন্তু আগে থেকে সময় না নিয়ে রাখায় মিঠুনের সেই সাক্ষাৎ ব্যর্থ হয়। শেষপর্যন্ত স্থানীয় আরএসএস নেতা প্রসাদ মহাঙ্করের সঙ্গে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করে বেরিয়ে আসেন তিনি। 

তাঁর আরএসএস দপ্তরে যাওয়া নিয়ে কম জল্পনা ছড়ায়নি। অনেকেই বলতে শুরু করেন এককালে নকশাল আন্দোলনে জড়িয়ে যাওয়া মিঠুন এখন আরএসএস-এর সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। অভিনয় জীবনে যখন খ্যাতির শিখরে মিঠুন সে সময় তাঁর সঙ্গে সুভাষ চক্রবর্তী, জ্যোতি বসু-দের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর বামেদের ঘরের ছেলেতেই পরিণত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সুভাষের প্রয়াণ হতেই তিনি আস্তে আস্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দিকে ভিড়তে থাকেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন। কিন্তু, সারদাকাণ্ড এবং ইডি-জেরায় মনভারাক্রান্ত হয়ে নিজেকে গৃহবন্দী করে নিয়েছিলেন। এরপর থেকেই নানা শারীরিক অসুস্থতার সম্মুখিন হয়েছেন তিনি। কিন্তু, সুস্থ হয়ে ওঠে মিঠুন প্রমাণ করলেন তিনি বাঙালির সাধের মেগাস্টার আইকন হিসাবে এখনও সচল।