কেরিয়ারের শুরুতেই বাজিমাত করেছিলেন সুর-সম্রাজ্ঞী। ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার, যে কোনও শিল্পীর কাছেই এক কথায় বলতে গেলে বিশাল প্রাপ্তী। সেই পুরস্কার হাতে পেয়েও তা নিতে অস্বীকার করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর। 

লতা ১৯৪৪ সালে মারাঠি ছবি 'কিটি হাসাল' এর জন্য প্রথম গান গেয়েছিলেন। তার আগে মঞ্চে উপস্থিতি দেখা যেত লতা মঙ্গেশকরের (Lata Mangeshkar)। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। লতা মঙ্গেশকর (Lata Mangeshkar), এক কথায় বলতে গেলে এই নাম সিনে দুনিয়া তথা ভারতের শিল্প ও সংস্কৃতির এক স্বর্ণযুগ অধ্যায়, যেখানে পরতে-পরতে জড়িয়ে রয়েছে সুরেলা ইতিহাস (Indian History)। ভারতকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়ে সেরার সেরা তকমা যাঁরা ছিঁনিয়ে এনেছেন বারে বারে, গর্বিত করেছেন ভারতকে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কান্ডারি হলেন সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর (Lata Mangeshkar)। যাঁর কণ্ঠে স্বয়ং সবস্বতীর বাস বললে খুব একটাস ভুল বলা হবে না। সেই সুর-সম্রাজ্ঞীর মুকুটেই একের পর এক শ্রেষ্ঠত্বের সম্মানের পালক উঠতে থাকে। ৮০ বছরের সঙ্গীত সফরে জিতে নিয়ে ছিলেন ৮০টিরও বেশি পুরস্কার। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

১৯৬৯ সালে পদ্মভূষণ সম্মান, ১৯৮৯ সালে দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে পদ্মবিভূষণ, ২০০১ সালে ভারত রত্ন সম্মান, ২০০৮ লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-সহ আরও কত কি। কিন্তু কেরিয়ারের শুরুতেই বাজিমাত করেছিলেন সুর-সম্রাজ্ঞী। ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার, যে কোনও শিল্পীর কাছেই এক কথায় বলতে গেলে বিশাল প্রাপ্তী। সেই পুরস্কার হাতে পেয়েও তা নিতে অস্বীকার করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর। জানিয়েছিলেন, এটি একটি নগ্ন মেয়ের মূর্তী, এটা যেন তাঁকে একটি রুমালে জড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপরই লতা মঙ্গেশকরের সম্মান বেড়ে গিয়েছিল গুণীজনদের মাঝে দ্বিগুণ। প্রশংসায় বারে বারে এই সংবাদ সকলের মুখে মুখে ফিরেছিল। আর ফিল্ম ফেয়ারের তরফ থেকেও হ্যান্ডক্রাফ্টের একটি রুমালে জড়িয়ে এই পুরষ্কার দেওয়া হয়। 

কেরিয়ারে বেশ কয়েকবার ফিল্মফেয়ার উঠে আসে তাঁর হাতে। ১৯৭০ সালে আপ মুঝে আচ্ছা লাগনে লাগা গানের জন্য পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার। ১৯৯৩ সালে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট, ৯৯৪ সালে স্পেশ্যাল অ্যাওয়ার্ড দিদি তেরা দেওয়ার দিওয়ানা গানের জন্য পেয়েছিলেন ফিল্মফেয়ার। ২০০৪ সালে পেয়েছিলেন গ্লোল্ডেন ট্রোফি, ফিল্মফেয়ারের ৫০ বছরের পূর্তীতে। বর্তমানে সেই নাইটেঙ্গেলই কঠিন লড়াইয়ে সামিল, চলছে অ্যাগ্রেসিভ থেরাপি, এখনও পর্যন্ত টলারেটিং প্রসিডিউরে সুর-সম্রাজ্ঞী। রবিবার হাসপাতালের পক্ষ থেকে এমন খবর সামনে আসা মাত্রই লতা মঙ্গেশকরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন ভক্তমহল।