বছর খানেক বড্ড বেশি টেলিস্কোপের দিকে ঘেষে গিয়েছিল ছেলেটা। সময় থাকুক বা না থাকুক সারাক্ষণই হয়তো আকাশের পানে চেয়ে থাকত টেলিস্কোপটার মাধ্যমে। অ্যাস্ট্রোফিজিকস, অ্যাস্ট্রোনমির বই ছড়িয়ে টেবিলের চারিদিকে। পৃথিবীটাকে বোধহয় তেমন পছন্দ ছিল না সুশান্তের। তাই হয়তো বাড়ে বাড়ে অন্য ডিমেনশনের কথা, কক্ষপথ, ভিন্ন গ্রহ নিয়েই চিন্তাভাবনা চলত তাঁর। তবে পছন্দের এই জিনিসগুলিও আটকাতে পারল তাঁকে। নাকি অন্য জগতের হাতছানিতেই চলে গেলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। নেটিজেন বলছে নেপোটিজম, সংবাদমাধ্যম বলছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সেলেব্রিটিরা বলছে মানসিক অবসাদ। যেই মানুষটা চলে গেল তাঁর সঙ্গে কারণটাও আকাশে মিলিয়ে গিয়েছে। আসল সত্য কারও কাছেই হয়তো আর প্রকাশ্যে আসবে না।

আরও পড়ুনঃসূদূর ফ্রান্স থেকে সম্মান, সুশান্তের প্যাশন বলিউড না বুঝলেও শ্রদ্ধা জানাল স্পেস ইউনিভার্সিটি

বেশ দামী এই টেলিস্কোপ নিয়েই সারাক্ষণ চলত সুশান্তের পোস্ট। কখনও তারাদের নিয়ে ইনস্টাগ্রামে ছবি আপলোড, তো কখনও ভিন্ন গ্রহ নিয়ে। সত্যি বলিউডে বড়ই আনফিট ছিল সুশান্ত। পাঁচজনের হাঁড়ির খবর নয়, বলিউড সেলেবদের বাড়িতে লেট নাইট পার্টি নয়, একে ওকে হিংসা করে বিতর্ক ছড়ানো নয়, এসব না করলে কি আর বলিউডের মেনস্ট্রিম অভিনেতাদের মধ্যে পড়া যায়। অভিনয়ের জগৎ তাঁকে আকর্ষিত করলেও সেই টেলিস্কোপের মধ্যে দিয়ে দেখা দুনিয়াটাই বড় প্রিয় ছিল তাঁর। কত সাক্ষাৎকারে বলেওছিলেন অভিনেতা না হলে অ্যাস্ট্রনট হতেন তিনি। চাঁদে একটা জায়গা কিনে রেখেছিলেন তিনি। খুব আদুরে সুরে ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, "আমার সাইড"। এত ভালবেসে বোধহয় নিজের বান্দ্রার বাড়িও কাউকে কখনও দেখাননি।

আরও পড়ুনঃএক সিদ্ধান্তেই বদলে গিয়েছিল ঐশ্বর্য- শাহরুখের সম্পর্ক, আজও ক্ষমা করেননি বলিউডের বাদশা-কে

বলিউড ডিড নট ডিজার্ভ ইউ। বলিউডের তোমায় পাওয়ার যোগ্যতা ছিল না। এই কথাতেই ভাসছে সোশ্যাল মিডিয়া। একসঙ্গে এতগুলি প্রযোজনা সংস্থা থেকে ব্যান হওয়া, একের পর এক ছবি ফ্লপ হওয়া, বলিউডের কোথাও নেই সম্মান, শ্রদ্ধা, কোনায় ঠেলে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। তবুও টেলিস্কোপের মধ্যে দিয়ে সেই বাইরের জগতটাকেই কাছে টেনে নিয়েছিলেন এত দুঃখের মধ্যেও। পৃথিবীটা কি এতটাই অপছন্দ ছিল সুশান্তের। একাকিত্বের সঙ্গী একজনই, টেলিস্কোপ। আজ ফাঁকা ঘরে পড়ে আছে মেইড ১৪ এলএক্স সিক্স হান্ড্রেড। আর কেউ সময় কাটানোর নেই ওর সঙ্গে। যে ঘরের মধ্যে ঘুর ঘুর করতে করতে মাঝে মধ্যে ওকে নেড়ে চেড়ে দেখত, সে আর নেই। খুব শখের এই টেলিস্কোপটা, ফাঁকা ঘরে বন্দি।