বলিউডকে বিদায় জানিয়ে চলে গেলেন বলি অভিনেতা ইরফান খান। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলি অভিনেতা ইরফান খান। আজও তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বি-টাউনের তাবড় তাবড় অভিনেতা থেকে অভিনেত্রীরা। তবে অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই নন, সাধারণ মানুষরাও তাকে জড়িয়ে রেখেছে আষ্টেপৃষ্ঠে। মহারাষ্ট্রের গ্রাম লগতপুরী। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক ইতিহাস। সেই ইতিহাস অনেকেরই অজানা।  গ্রামে সিনেমাহল নেই তাতে কোনও আক্ষেপ নেই বাসিন্দাদের। ৩০ কিলোমিটার সুদূর পথ পেরিয়ে ইরফানের সিনেমা দেখতে তারা যান অনেক দূরে। কারণ তিনি পর্দার হিরো নন,তিনি হলেন বাস্তবের হিরো।

আরও পড়ুুন-চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখে জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেত্রী, খোলসা করলেন নিজেই...

মহারাষ্ট্রের লগতপুরী গ্রামের প্রতিটি মানুষের সঙ্গেই নিবিড় সম্পর্ক ছিল ইরফানের। কারণ একটা তিনি রিয়েল হিরো। সকলের মনে আজও উজ্জ্বল তার উপস্থিতি। শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীরা কৃতজ্ঞ অভিনেতার কাছে। শুধু ছাত্র-ছাত্রী নন, বহু দিনদরিদ্র পরিবারও তার কাছে ঋণী। বরাবরই নিজের সবাটাই উজার করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেতা। সেই মানুষটার প্রতি  শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল সেই গ্রামের বাসিন্দারাই। তাদের মতে, এটাই রিয়েল হিরোকে গুরুদক্ষিণার আসল সময়।

আরও পড়ুন-লিপলক থেকে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য, বিতর্কেই পেজ থ্রি-র শিরোনামে পূজা বেদী...

ইরফানের স্মৃতিকে আজীবন অমর করে রাখতে চান গ্রামবাসীর। তার ভালবাসায় গ্রামের নাম বদলে হতে চলেছে হিরো-চি-ওয়াদি, মারাঠি অর্থে যার মানে হিরোর প্রতিবেশী। সারাজীবন ইরফানের প্রতিবেশী হয়েই থাকতে চায় সকলে। তাই এই নামবদল। আজ আর তিনি নেই। তার সমস্ত স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই গ্রামে। গ্রামের জেলা পরিষদের সদস্য গোরখ বোড়কে জানিয়েছেন, 'ইরফান সবসময়েই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। পড়াশুনা থেকে দারিদ্রতা, স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নতি,  যে কোনও জরুরি পরিষেবা সব কিছুতেই সবার আগে এগিয়ে এসেছেন তিনি। আমাদের এই গ্রামের সকলের অভিভাবক ছিলেন তিনি। গ্রামের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন তিনি।' পান সিং তোমর অভিনেতাকে এভাবেই কুর্নিশ জানালেন গ্রামবাসীরা।