ইদ উল ফিতর শান্তি-সংহতির উৎসবআর এই উৎসবের দিনেই বিলেতের রাস্তায় সংঘর্ষে জড়ালেন মুসলিমরা বলে দাবিভাইরাল হল তার ভিডিওকিন্তু এই ভিডিওটি সত্যি না ভুয়ো 

২৫ মে ভারতের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে ইদ-উল-ফিতর পালন করা হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অধিকাংশ জায়গাতেই এবার আর উৎসব করা যায়নি, স্তিমিতভাবেই কেটেছে ইদ। অথচ, তারমধ্যেই ইদ-কে কেন্দ্র করে ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম শহরে রাস্তার মধ্যেই দুই দল মুসলমানের মধ্যে তীব্র মারামারি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এইরকম একটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হচ্ছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

৩০ সেকেন্ড দীর্ঘ ওই ভিডিও-তে প্রচলিত মুসলিম পোশাক সজ্জিত বেশ কয়েকজন পুরুষ-কে লাথি-ঘুষি-চড়-থাপ্পর মারতে দেখা যাচ্ছে। আতঙ্কে বেশ কয়েকজন মহিলাকে চিৎকার করতেও দেখা গিয়েছে। পুরুষদের আটকানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। এই ভিডিও পোস্ট করে কেউ কেউ ব্যঙ্গাত্মক অর্থে লিখেছেন, 'বার্মিংহামে রাস্তার আনন্দদায়ক দৃশ্য, দারুণ খুশিতে উদযাপিত হল ইদ।' কেউল আবার বলেছেন, 'রমাজান এবং ইগ-উল-ফিতর বার্মিংহামের স্পার্কব্রুকের মুসলিমদের জন্য একটি দারুণ শান্তিপূর্ণ সময়'। ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

Scroll to load tweet…

কিন্তু, সত্যিই কি ইদের দিন এমনটা ঘটল বিলেতের রাস্তায়? রমজান মাসের শেষে পবিত্র ও খুশির ইদের দিন নিজেদের মধ্যে এইরকতম তীব্র ঝামেলায় জড়ালেন বিলেতের মুসলিমরা? নাকি এর পিছনে ব্রিটেনের ক্রমবর্ধমান ইসলাম বিদ্বেষ কাজ করছে? প্রশ্নগুলো উঠেছে, কারণ এখন ব্রিটেনে লকডাউন শিথিল হলেও জমায়েত একেবারে বন্ধ। আর, ভিডিওতে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের কারোর মুখে মাস্ক নেই, যা করোনা পরবর্তী বিশ্বে অবিশ্বাস্য।

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে ভিডিওটির কিছু স্ক্রিনশট নিয়ে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে বিপরীত তথ্যানুসন্ধান চালানো হয়েছে। আর সেই অনুসন্ধানে পাওয়া গিয়েছে, ভিডিওটি অন্তত এক বছরের পুরনো। 'দ্য মিরর', 'ডেইলি মেইল'-এর মতো ব্রিটেনের প্রথম সারির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এই ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে।

সেইসব প্রতিবেদন অনুসারে ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট, বার্মিংহাম শহরের অ্যাস্টন এলাকার প্রেস্টবারি রোডে। জানা গিয়েছে এই মারামারির সূত্রপাত হয়েছিল এক বিয়ে উপলক্ষ্যে উপস্থিত দুই মহিলার বিতর্কের মধ্য দিয়ে। সেই থেকে সেই দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছড়ায়, যার রীতিমতো গোষ্ঠী সংঘর্ষের আকার নিয়েছিল।

কাজেই, জোর দিয়ে বলা যায়, ভিডিওটির সঙ্গে ইদ উদযাপন বা রমজান মাসের কোনও সম্পর্ক নেই। একটি পারিবারিক দ্বন্দ্বের পুরনো ভিডিও-কে এই পবিত্র মাস ও উৎসবের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে ইসলাম ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে মাত্র। এই ভিডিও যদি কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় পেয়ে থাকেন, তবে সেই গুজব বিশ্বাস করার কারণ নেই।