আবারও প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল অক্সফোর্ড  বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্ট্র্যোজেনেকার বিকাশ করা করোনাভাইরাসের প্রতিষেধকটি। চূড়ান্ত পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলাকালীন প্রতিশেধকটি নিয়ে রীতিমত উৎসাহী ছিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছিল করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের তৈরি টিকা ৭০ শতাংশ কার্যকারিতা দেখাতে পেরেছে। ৯০ শতাংশেরও বেশি কার্যকারিতা দেখানোর বিষয়ে তাঁরা আশা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সব হিসেব ওলটপালট করেছিল টিকা গ্রহণকারী কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবীর কাছ থেকে জোগাড় করা সমীক্ষা রিপোর্টে। তারপরই অ্যাস্ট্রোজেনকা ও অক্সফোর্ডের পক্ষ থেকে স্বীকার করে নেওয়া হয় তাদের প্রতিষেধকে কিছু গোলমাল রয়েছে। 

অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রোজেনের তরফ থেকে জানান হয়েছে, ট্রায়ালরানে ধরা পড়েছে, যাদের প্রতিষেধকের সম্পূর্ণ দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছিল তাদের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের কার্যকারিতা মাত্র ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে যাদের অর্ধেক পরিমাণে প্রতিষেধকের ডোস দেওয়া হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ কার্যকারিতা দেখা গেছে।

২৬/১১-র বার্ষিকীতে মন ছুঁয়ে যাওয়া বার্তা রতন টাটার, মানবতাকেই এগিয়ে রাখলেন তিনি ...

'সমস্যা হলে রাজনীতি ছেড়েদেব', কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে পারদ চড়ছে দুই রাজ্যের প্রধানদের মধ্যে ...

মূলত দুটি ডোসের প্রতিষেধক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাহলে কেন এজাতীয় ঘটনা ঘটল? এজাতীয় একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়ে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নেয়  প্রতিষেধকটি তৈরির সময় কিছু সমস্যা থেকে যেতে পারে। ভুলের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা গেছে, ট্রায়াল রানের সময় কিছু মানুষকে প্রতিষেধকের অর্ধেকটা ডোস দেওয়া হয়েছিল। ত্রুটির কারণ লুকিয়ে ছিল প্রতিষেধকের শিশির মধ্যে। কিছু শিশিতে প্রতিষেধের পরিমাণ অনেকটাই কম ছিল। যদিও অ্যাস্ট্রোজেনেকার মূল বিবৃতিতে তা প্রকাশ করা হয়নি। যদিও অক্সফোর্ডের পক্ষ থেকে জানান হয়েছিল, যখন স্বল্পমাত্রায় ডোজ ব্যবহার করা হয়েছিল তখন নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল। দু-পক্ষের সঙ্গে চুক্তি করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারা আরও জানিয়েছে, ঘণত্বের পরিমাণের জন্যই এই সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে বর্তমানে প্রতিষেধকের প্রতিটি ব্যাচেই সমপরিমাণ ওষুধ রয়েছে। অ্যাস্ট্রোর মুখপাত্র জানিয়েছিলেন,  সমীক্ষায় কোনও ত্রুটি রাখা হয়নি। 

অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রোজেনের বিকাশ করা প্রতিষেধক রীতিমত আশা জাগিয়েছিল করোনাক্লান্ত বিশ্বকে। অক্সফোর্ডের এই প্রতিষেধক তৈরির জন্য চুক্তিবদ্ধ রয়েছে ভারতের পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট। তাই অক্সফোর্ডের প্রতিষেধকে ত্রুটি ধরাপড়ায় রীতিমত হতাশা তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।