জল্পনা চলছিল বেশ কয়েকদিন ধরেই অবশেষে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ্যে এল সেই খবর। ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র্ সচিবের পদে বসলেন প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভুত প্রীতি প্য়াটেল। ব্রিটেনের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় বংশোদ্ভুত প্রীতি প্যাটেলকে নিয়ে একটা জোর গুঞ্জন ছিলই। সেইসব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে সেদেশের স্বরাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পেলেন প্রীতি।

ব্রিটেনের রাজনীতিতে প্রীতি একেবারেই নতুন মুখ নন। গুজরাতের বাসিন্দা প্রীতির পরিবার ষাটের দশকে পাকাপাকিভাবে ইংল্যান্ডে চলে যায়। সেখানেই জন্ম হয় প্রীতির। সেখানে পড়াশোনা শেষ করে প্রীতি ২০১০ সালে কনজারভেটিভদের হয়ে প্রথমবার ভোটে অংশ নেন। আর প্রথমবারই সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হন প্রীতি। তাঁর কাজকর্মের দ্বারা প্রথম থেকেই তৎকালীন ডেভিড ক্যামেরনের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন প্রীতি। পাক বংশোদ্ভুত সাজিদ জাভিদের স্থানেই নিয়োগ করা হয়েছে ভারতীয় বংশোদ্ভুত প্রীতিকে। 

এদিন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিবের দায়ভার কাঁধে তুলে নিয়ে প্রীতি বলেন, দেশকে রক্ষা করার জন্য তাঁর যা যা করার তিনি করবেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, দেশের মানুষের সুরক্ষার জন্য তাঁর যা যা কর্তব্য তিনি তার সবটাই পালন করবেন। প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুরাগী বলেই পরিচিত প্রীতি। ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত ভারতীয় সম্প্রদায়ের একাধিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন তিনি এবং ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একনিষ্ঠ সমর্থক হিসাবেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। 

প্রসঙ্গত এর আগে একাধিক বিদেশ সংক্রান্ত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়ভার ছিল তাঁর কাঁধে। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন তিনি। পরে পার্লামেন্টের নিয়ম বহির্ভুত কাজ করে সমাচোলনার মুখে পড়ে এই পদ থেকে নিজেই সরে গিয়েছিলেন প্রীতি। বরিস জনসন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সিংহাসনে বসার পর মন্ত্রীসভায় রদবদল আনতে পারেন বলে ধারণা ছিল অনেকের। আর তাঁরই সাজানো মন্ত্রীসভায় যে অন্যতম পোড়খাওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই রাজনীতিবিদ যে একটা গুরুত্বপুর্ণ স্থানেই অভিষিক্ত হবেন সেটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশিষ্ট মহল।