দুই ভারতীয়কে মুক্ত করার জন্য রীতিমত উত্তাল হয়ে উঠল স্কটল্যান্ড। টানা ৮ ঘণ্টা প্রতিবেশীদের অবরোধ বিক্ষোভ আর মানবাধিকার আইনজীবীর সাহায্যে স্কলল্যান্ডের পুলিশের হাত থেকে মুক্ত হন দুই ভারতীয়। দুজনকে সন্দেহভাজন অভিবাসন অপরাধে অভিযুক্ত করে ডিটেনশন ভ্যানে আটকে রেখেছিল স্কটিশ পুলিশ। যদিও স্থানীয়দের দাবি দুই ব্যক্তি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ব্রিটেনের রয়েছেন। 

দিদির দেওয়া ফুটবল উপহার, অভিনব কায়দায় সংবর্ধনা নারায়ণগড়ের বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্টকে ...

দুই ভারতীয় হলেন সুমিত সচদেব ও লখনবীর সিং। একজন শেফ আর অন্যজনের পেশায় মেকানিক- দুজনের বয়স ৩০-এর কোটায়। তাঁদের বৈধ নাগরিক নন- এই অভিযোগে স্কটিশপুলিশ ও ব্রিটেনের এনফোর্সমেন্টের ৬ কর্তা বৃহস্পতিবার গ্লাসগোর পোলোকশিল্ডস এলাকায় দুই ভারতীয় বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকেই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়ে। তারপর ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওযার উদ্দেশ্যে একটি ভ্যানে তোলা হয়। কিন্তু এই খরব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। তারপরই জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুরু হয় প্রবল বিক্ষোভ অবরোধ। পুলিশের ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার ভ্যান আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান ব্রিটেনের বাসিন্দারা। দাবি ছিল একটা- অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে দুই ভারতীয়কে।

করোনাভাইরাস আদৃশ্য শত্রু, এই লড়াইয়ে জিততেই হবে দেশকে বললেন 'প্রধান সেবক' মোদী ..

পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত এক আইনজীবী  আমির আনোয়ার , ইদের দিনে স্থানীয় হোম অফিসের আধিকর্তাদের উস্কানিমূলক পরিকল্পনা বলেই গোটা বিষয়টিকে চিহ্নিত করেছেন তিনি। তবে গ্লাসগোর মানুষ সেই পরিকল্পনা বানচাল করে দিয়েছেন।  একই সঙ্গে বলেছেন, পুলিশও এই দুই ব্যক্তির সম্পর্কে অবৈধ কোনও তথ্য পায়নি। তিনি আরও বলেন এই শহরটি শরনার্থীরা নিজেদের রক্তা আর ঘাম ঝরিয়ে বসবাসের উপযোগী করে তুলেছিল। আর সেই কারণেই পরিবার নিয়েই দুই আটক ব্যক্তির পাশে তাঁরা দাঁড়িয়েছেন। 

উইঘুরে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারই চিনের জনসংখ্যার হার কমিয়ে দিল, প্রশ্ন অস্ট্রেলিয়ার ...

লখবীর জানিয়েছেন এই ঘটনায় তিনি খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে প্রতিবেশীরা তাঁদের পাশে দাঁড়ানোয় তিনি তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই ঘটনার ভিডিও নিমেশে ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তাতে দেখা গেছে আটক দুই ভারতীয়র পক্ষেই সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে বারবার এলাকা ছেড়ে তবে যেতেও বলেন। টুইটারে স্কটল্যান্ডের মন্ত্রী নিকোলা স্টারজন অভিবাসন নীতি নিয়ে রীতিমত হতাশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে করোনাকালে এই ভিড় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। 

"

হোম অফিসের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে অভিবাসন অভিযুক্ত অপরাধ সম্পর্কিত অভিযোগে এই অভিযান চালান হয়েছিল। স্কটল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে  দুজনকে আপাতত জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। পরিবার নিয়ে দেশে ফিরে যেতেও বলা হয়েছে।সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য আর সুস্বাস্থ্যের জন্য আগামী দিনে কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।