গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, ইসরাইলে হামাস গোষ্ঠীর রকেট হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ভারতের কেরলের বাসিন্দা সৌম্যা সন্তোষ-এর। ভারতে তাঁর স্বামী এবং ৯ বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলের উপ-রাষ্ট্রদূত রনি ইয়েদিদিয়া ক্লেইন জানিয়েছেন, সৌম্যার পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব নেবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। মা বা স্ত্রী-এর অভাব কোনওভাবে পূরণ হয় না। এই কথা মেনে নিয়ে তিনি জানান, যা ঘটেছে, তার ক্ষতিপূরণ হিসাবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এইটুকু করতে চায়।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ক্লেইন আরও জানিয়েছেন, ইসরাইল থেকে শুক্র অথবা শনিবার একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে নয়াদিল্লিতে নিয়ে আসা হবে সৌম্যা সন্তোষের দেহাবশেষ। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখান থেকে দেহাবশেষ কেরলে সৌম্যার নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। ক্লেইনের দাবি, এই ধরণের সংঘাতের সময়ে ইসরাইলে একজন ইসরাইলি যতটা সুরক্ষা পান, ততটাই সুরক্ষা দেওযা হয় কোনও ভারতীয়কে। এই বিষয়ে কোনও পার্থক্য করা হয় না।

সৌম্যা সন্তোষ আদতে কেরলের ইদুক্কি জেলার বাসিন্দা। গত সাত বছর ধরে ইসরাইলের আশ্কেলন শহরে  এক বৃদ্ধার বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন তিনি। তাঁর পরিবাররে  পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেরলে থাকা স্বামী, সন্তোষের সঙ্গেই ভিডিও কলে কথা বলছিলেন সৌম্যা। সেই সময় আচমকাই প্যালেস্তাইনপন্থী, হামাস গোষ্ঠীর ছোড়া একটি রকেট তাদের বাড়ির উপরে পড়েছিল। মুহূর্তে প্রাণ চলে যায়৩১ বছর বয়সী সৌম্যার।
 

দীর্ঘদিন ধরেই প্যালেস্তাইন রাষ্ট্রেরদাবি নিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে হামাস গোষ্ঠীর। গত কয়েকদিনে জেরুজালেম শহরে প্যালেস্তাইনপন্থীদের উপর ইসরাইলি পুলিশের দমন পীড়ন বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে। জায়গায় জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে প্যালেস্তাইনিরা। আর এরপরই গত মঙ্গলবার রাতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছিল হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে। দুই পক্ষ থেকেই অসংখ্য রকেট ছোড়া হয়।