১০০ বছর পার হতে চলেছে। তবু এতটুকু ফিকে হয়নি সেই ক্ষত। ১৯১৯ সালের  ১৩ এপ্রিলের কুখ্যাত জালিয়ানওয়ালানাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আজও আমাদের তাড়িত করে। পঞ্জাব প্রদেশে ব্রিটিশ সেনানায়ক রেহিনাল্ড ও ডায়ারের নির্দেশে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের বীভৎসতা পাঠ্যবইতে পড়ে আজও শিউরে ওঠে সব শিশুরা। সেই ঘটনার জন্যেই এবার জনসমক্ষে শোক প্রকাশ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।

গত বুধবার পার্লামেন্ট থেকেই এই ঘটনার কথা স্মরণ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী  বললেন," যা হয়েছে তার জন্যে আমরা গভীর ভাবে লজ্জিত। আমি ব্যক্তিগত ভাবে ভারত ও ব্রিটেনের বর্তমান সম্পর্কের সমৃদ্ধিতে খুশি। ব্রিটেনের সমাজের উন্নতিতেও বহু ভারতীয়র অবদান রয়েছে।  আমি জানি এই গোটা পার্লামেন্টই ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের ক্রমোন্নতির দিকে তাকিয়ে রয়েছে।"

এই বয়ান শোনার পরে বিরোধীদের দাবি, ভাঙলেন তবু মচকালেন না থেরেসা। লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন এক সংবাদমাধ্যমকে বিবৃতি দিতে গিয়ে  বলছেন, "আমরা চাই যা হয়েছে তাঁর জন্যে প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনা।" প্রসঙ্গত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির আগের দিনই পার্লামেন্ট উত্তাল হয় ১০০ বছর পরে জালিয়ানওয়ালানাবাগ হত্যাকাণ্ডে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নে। লেবার পার্টির সাংসদ বীরেন্দ্র শর্মা,কনসারভেটিভ পার্টির সাংসদ ব্ল্যাকস্মিথ সকলেই একযোগে দাবি করেন, এই নির্লজ্জতার পক্ষে বহুকাল কৈফয়ত দিয়ে গিয়েছে ব্রিটিড়শ সরকার। এখন সময় এসেছে ক্ষমা চাওয়ার। ব্রিটিশ সরকারকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ব্ল্যাকম্যান আরও বলেন, ব্রিটিশ শিশুদের জানা উচিত এই ঘটনার কথা। মোট ৮০ জন বিরোধী সংসদ ভবনে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তারপরেই এই ভাষণ দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পঞ্জাবের অমৃতসর শহরে  জালিয়ানওয়ালাবাগ নামক একটি বদ্ধ উদ্যানে সমবেত নিরস্ত্র জনগণের উপর গুলিবর্ষণ করা  হয়েছিল ব্রিটিশ ব্রিগেডিয়ার রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে। ঘটনাস্থলে ১৬৫০ রাউন্ড গুলি খরচ করে ব্রিটিশ সরকার। আনুমানিক  ২০০০ নিরপরাধ মানুষের প্রাণ যায় এই গণহত্যায়। 
 
 ১৯৮৩ সালে পরিদর্শনে এসে রাণী এলিজাবেথ এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। ১৯৯৭ সালের ১৪ অক্টোবর রাণী এলিজাবেথ দ্বিতীয়বার জালিয়ানওয়ালাবাগ পরিদর্শন করেন। এই সময়ে তিনি প্রথমবার মুখ খুলে বলেছিলেন, এই দুঃখ থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। অর্থাৎ ক্ষমা তিনিও চাননি এক অর্থে।