করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয় করে তিনি সুস্থ হয়ে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ফিরে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিজের দফতর সামলাচ্ছেন বরিস জনসন। কিন্তু কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে এখনও লড়াই চালিয়ে যেতে হবে তাঁর দেশকে। আর সেই কারণেই দেশে লকডাউনের মেয়াদ পয়লা জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে  দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বরিস বলেন, এই মুহূর্তে ব্রিটেনে লকডাউন তোলার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তবে পয়লা জুন থেকে শর্তসাপেক্ষে কিছু নিয়ম শিথিল করা হবে। যেমন জুনের ১ তারিখ থেকে কিছু দোকানপাট এবং পাবলিক প্লেস খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বিদেশ থেকে বিমান সফরে ব্রিটেনে আসা সকলকেই বাধ্যতামূলক ভাবে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন,  লকডাউন শিথিল করে দেওয়ার অর্থ এতদিন যাঁরা নিয়ম মেনে করোনা সংক্রমণ রুখে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তাঁদের সমস্ত প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়া। অতএব এখনই লকডাউন উঠবে না। পরবর্তী পরিকল্পনা কী হবে তা নিয়ে সোমবার ব্রিটেনের পার্লামেন্টে আলোচনা কথা জানিয়েছেন বরিস জনসন।

করোনা সংক্রমণে মৃত্যুর ঘটনায় ইউরোপের মধ্যে এখন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ব্রিটেন। বর্তমানে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লক্ষ ১৯ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৩২ হাজারের দোড়গোড়ায়। বর্তমানে করোনা সংক্রমণের চতুর্থ পর্যায়ে রয়েছে এই দেশ। পঞ্চম পর্যায়ে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তার থেকে কেবল মাত্র এক ধাপ পিছনে রয়েছে ব্রিটেন। এইরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশে মৃতের সংখ্যা লাখের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তৃতীয় দফার লকডাউনের মধ্যেই খুলছে স্কুল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে মিলল ছাড়পত্র

রেকর্ড গড়ে একদিনে আক্রান্ত ৪,২১৩, দেশে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ছাড়াল ৬৭ হাজারের গণ্ডি

এপ্রিলে চাকরি হারিয়েছেন ২ কোটি, বেকারত্ব সামাল দিতে এবার এইচ-ওয়ান বি ভিসা বন্ধের পথে আমেরিকা

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রা কতটা, তা চিহ্নিত করে দেশকে পাঁচটি জ়োনে ভাগ করে দেশবাসীকে সতর্ক করার প্রক্রিয়া চালু করতে যাচ্ছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এক থেকে পাঁচের মধ্যে প্রথম স্তর ‘সবুজ’ অর্থাৎ যেখানে সংক্রমণের মাত্রা সবচেয়ে কম। চূড়ান্ত স্তর ‘লাল’, যেখানে সংক্রমণ সর্বাধিক। এই জোন ভাগ অনুযায়ী যে যে জায়গায় প্রয়োজন, সেখানে বিধিনিষেধ বাড়াবে সরকার।

জানা যাচ্ছে, ব্রিটেনে দিনে গড় করোনাভাইরাস পরীক্ষা এক লাখে নিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। এই অবস্থায় পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে চুপিসারে কয়েক হাজার নমুনা যুক্তরষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, ব্রিটিশ গবেষণাগারে সমস্যা দেখা দেয়ায় গত সপ্তাহে ৫০ হাজার নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠান হয়েছে। স্ট্যানস্টিড বিমানবন্দর থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে এই নমুনা পাঠানো হয়েছে।