বুধবার রাতে বিজয় মালিয়ার ভারতে ফেরার খবরে উত্তাল হয়েছিল দেশবৃহস্পতিবার সকালেই অবশ্য পরিষ্কার হয়ে যায় সে আজ ফিরছে নাকেন এদিন ফেরানো গেল না তাকেকবে ভারতের হাতে তাকে তুলে দেবে ব্রিটিশ সরকার 

বিভিন্ন ভারতীয় ব্যাঙ্ক থেকে ৯০০০ কোটি টাকা প্রতারণায় অভিযুক্ত পলাতক ব্যবসায়ী বিজয় মালিয়া ভারতে ফিরছে না বৃহস্পতিবার। বৃহস্পতিবারই নয়, খুব তাড়াতাড়ির মধ্যে তাকে ভারতের প্রত্যর্পণ করা যাবে না বলেই সাফ জানিয়ে দিল ব্রিটিশ সরকার। কাজেই মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলের উচ্চ সুরক্ষাযুক্ত কারাগারের কক্ষকে আরও বেশ কয়েকদিন অপেক্ষাই করতে হবে 'কিং অব গুড টাইমস'-এর জন্য।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বর্তমানে বিজয় মালিয়া ব্রিটেনেই রয়েছে। প্রাণপনে চেষ্টা করছে তার ভারতে প্রত্যর্পণ রোধের। কারণ দেশে তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট এবং সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। তবে আরও কয়েকটা দিন বিলেতের মাটিতে সুখেই কাটাতে পারবে ভারতের সবচেয়ে বড় মদ ব্যবসায়ী।

বুধবার রাতে সংবাদ সংস্থা আইএনএস জানিয়েছিল, বুধবার গভীর রাতে নয়তো বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার ভোরে কিংবা সকালে কোনও এক সময়ে মুম্বই এসে পৌঁছবে বিজয় মালিয়া। কিন্তু এদিন, ব্রিটেনে ভারতীয় হাইকমিশন-কে ব্রিটিশ সরকার জানিয়ে দিয়েছে এখনই মালিয়াকে প্রত্যর্পণ করা যাবে না।

ব্রিটেনে ভারতীয় হাইকমিশনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্রিটিশ আদালতে বিজয় মালিয়ার আইনী প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। কিছু গোপনীয় আইনী সমস্যা রয়েছে, যেগুলির সমাধান করা দরকার। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী আইনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কাউকে অন্য কোনও দেশের হাতে হস্তান্তর করা যায় না। সেই প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে, তাও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই খুব তাড়াতাড়ি তো নয়ই, ঠিক কবে তাকে ভারতে ফেরানো যাবে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। একইসঙ্গে ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে পারে বিজয় মালিয়া, এমনটাও মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। সেই ক্ষেত্রে তার ভারত সরকারের হাত থেকে পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

মদ ব্যবসার পাশাপাশি বিজয় মালিয়া কিংফিশার এয়ারলাইন্স নামে একটি উড়ান সংস্থা চালু করেছিলেন। সেই এয়ারলাইন্সের ব্যবসায়ে মাত্রাতিরিক্ত আভিজাত্য যোগ করার প্রবণতাই তাঁর কাল হয়েছিল বলে মনে করা হয়। উড়ান সংস্থাকে রক্ষা করতে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল ঋণ নিয়েছিল বিজয় মালিয়া। শেষ পর্যন্ত সেইসব ঋণ শোধ না করেই সে ২০১৬ সালের ২ মার্চ দেশ ছেড়ে পালিয়ে ব্রিটেনে চলে গিয়েছিল। ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসে নয়া আইন অনুসারে তাকে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী হিসাবে ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার।

মালিয়া অবশ্য ধারাবাহিকভাবে দাবি করেছে যে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানানো। তার আরও দাবি সে বারবারই কেন্দ্রের কাছে ঋণ মিটিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু কেন্দ্র তা সেই প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করেছে।