অপারেশন থিয়েটারেএকেবারে খুলি কেটে চলছে মস্তিষ্কের গুরুতর অপারেশন। আর সেই অবস্থাতেই বিছানায় শুয়ে নাকে অক্সিজেনের নল লাগিয়ে বেহালায় একের পর এক সুর তুলছেন ৫৩ বছর বয়সী এক মহিলা রোগী। ব্রিটেনের এক হাসপাতালের এই ভিডিওই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই ভাবতে পারেন, বোধহয় রোগীকে চিন্তামুক্ত রাখতে এই ব্যবস্থা। কিন্তু, তা নয়, এর পিছনে ছিল, ওই মহিলার ৪০ বছরের পুরোনো প্রেম বাঁচিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন - রাজপরিবার ছেড়ে কি এবার পর্নোগ্রাফি, মেগান মর্কেল পেলেন 'কাজে'র প্রস্তাব

জানা গিয়েছে ওই মহিলার নাম ডগমার টার্নার। আইল অব উইট নামে এক সংস্থায় তিনি ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট হিসাবে কাজ করতেন। তবে পেশার থেকেও বড় তাঁর নেশা। গত ৪০০ বছর ধরে তিনি বেহালা বাজান। তাতেই মনের শান্তি খুঁজে পান। সম্প্রতি তাঁর মস্তিষ্কের ডানদিকের সামনের অংশে একটি বড় টিউমার ধরা পড়েছিল।

আরও পড়ুন - হ্য়ারি-মেগান রাজ পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় কাজ হারাচ্ছেন বাকিংহামের ১৫জন কর্মী

ডাক্তাররা জানান টিউমারটি সহজেই অপারেশনের মাধ্যমে কেটে  বাদ দিয়ে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু, একটা বড় ঝুঁকি ছিল অপারেশনে। আর সেটাই সবথেকে বেশি চিন্তায় ফেলেছিল বেহালা অন্তঃপ্রাণ ডগমার টার্নার-কে। ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, মস্তিষ্কের অংশ তাঁর বাঁ-হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে সেটির খুব কাছে রয়েছে টিউমারটি। অপারেশন করতে গেলে বাঁ-হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়ায় প্রভাব পড়তে পারে। আর বেহালার তারের উপর বাঁ হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়াতেই নানান রকম সুর ওঠে। কাজেই অপারেশনের পর টার্নার-এর বেহালা বাজানো বন্ধ হয়ে যেতে পারত।

এই ঝুঁকি নিয়ে অপারেশন করাতে দ্বিধায় ছিলেন তিনি। তবে শে পর্যন্ত একটি আশ্চর্যজনক সমাধান নিয়ে এসে হাজির হন কিংস কলেজ হাসপাতালের কনসালট্যান্ট নিউরোসার্জন প্রফেসর কিউমার্স আশকান। তিনি বাকি ডাক্তারদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করেন, প্রথমে বাইরে থেকে টার্নার-এর মস্তিষ্কের মানচিত্রকরণ করা হবে। তারপর খুলি কেটে টিউমার অপারেশন শুরু করা হবে। আর সেই সময় টানা টার্নার-কে বেহালা বাজাতে দেওয়া হবে। অপারেশন চলাকালীন বেহালা বাজাতে অসুবিধা হলেই সতর্কতা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন - স্যান্ডুইচ চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লেন কোটিপতি ভারতীয় ব্যাঙ্কার, হাতেনাতে পেলেন শাস্তিও

এইভাবেই শেষ পর্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে টার্নারের বেহালা বাজানোর প্রতিভা-কে ধরে রেখেই তাঁর মস্তিষ্ক থেকে অতিরিক্ত মাংসপিণ্ডটি বাদ দিতে সক্ষম হন ডাক্তাররা। অপারেশন চলাকালীন টার্নার গুস্তাভ মাহলা-র তৈরি বাজনা, জর্জ গার্সউইন-এর জ্যাজ ক্লাসিক 'সামারটাইম', স্প্যানিশ গীতিকার ও গায়ক হুলিও ইগলেসিয়াস-এর সংগীত বাজান। তিনি জানিয়েছেন ১০ বছর বয়স থেকেই তিনি বেহালা বাজান। বেহালাহীন জীবন তিনি ভাবতেও পারেন না। এই অভিনব অপারেশনের জন্য টার্নার কিংস কলেজ হাসপাতালের সার্জনদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।