বদলে গেল সীতাভোগ আর মিহিদানা বর্ধমানের মিষ্টির দোকানেই পরীক্ষামূলক চেষ্টা নতুন স্বাদ মন জয় করেছে মিষ্টিপ্রেমীদের  ১১৫ বছর আগে প্রথম তৈরি হয়েছল এই দুই মিষ্টির পদ  

সীতাভোগ আর মিহিদানা মানেই বর্ধমান। বছরের পর বছর ধরে মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে অমোঘ আকর্ষণ ছিল এই দুই মিষ্টির পদ। এবারের শীতে নলেন গুড়ের ছোঁয়াতে আরও লোভনীয় হয়ে উঠেছে বর্ধমানের সীতাভোগ- মিহিদানা। যা বিক্রি হচ্ছে হটকেক-এর মতো। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নলেন গুড়ের ছোঁয়ায় রঙের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গিয়েছে সীতাভোগ- মিহিদানার স্বাদও। তবে এই বদলই সীতাভোগ আর মিহিদানার চাহিদা যেন আরও বেড়ে গিয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে বর্ধমান শহরের একটি অভিজাত মিষ্টির দোকান এ বছর নলেন গুড় মিশিয়ে সীতাভোগ এবং মিহিদানা তৈরি করেছিল। আর এখন নলেন গুড়ের সীতাভোগ- মিহিদানার চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন দোকানের কারিগররা। 

আরও পড়ুন- এক ল্যাংচায় ভুড়িভোজ, লাটাগুড়ির জঙ্গল সাফারিতে শীতকাল কাঁপাচ্ছে মিষ্টি

আরও পড়ুন- পালিত হচ্ছে 'পোষ্য' মাছের জন্মদিন, হল কেক কাটাও, দেখুন সেই ভিডিও

সীতাভোগ- মিহিদানার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একশো বছরেরও পুরনো ইতিহাস। ১৯০৪ সালে বর্ধমান এসেছিলেন বড়লাট লর্ড কার্জন। তাঁর আপ্যায়নেই নতুন ধরনের মিষ্টি তৈরির জন্য বর্ধমানের বড়বাজারের ভৈরব চন্দ্র নাগকে নির্দেশ দেন সেখানকার রাজা। রাজ বরাত পেয়েই সীতাভোগ- মিহিদানা তৈরি করেন ভৈরব চন্দ্র নাগ। তার পর থেকে ১১৫ বছর ধরে মিষ্টিপ্রেমীদের মন জয় করে চলেছে সীতাভোগ- মিহিদানা। 

ইতিমধ্যেই বর্ধমানের সীতাভোগ- মিহিদানা জিআই ট্যাগ পেয়েছে। যে মিষ্টি বিপণিতে এই নলেনগুড়ের সীতাভোগ- মিহিদানা বিক্রি হচ্ছে তার কর্ণধার প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, 'এবছর খুব ভাল মানের নলেন গুড় পাওয়া যাচ্ছে। তাই ভাবলাম ১০০ বছর ধরে যে মিষ্টি চলছে তাকে একটু অন্য রকম করে মানুষের কাছে তুলে ধরি। সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ। আর এই মিষ্টি মানুষের মন জয় করেছে।'

প্রসেনজিৎবাবুর দাবি যে মিথ্যে নয় তা সীতাভোগ- মিহিদানা কেনার জন্য দোকানের সামনে উপচে পড়া ভিড় দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যায়। অনেকেই নতুন রূপের এবং স্বাদের সীতাভোগ- মিহিদানার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। যা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় খোঁজ পেয়েও অনেকে নতুন স্বাদের সীতাভোগ- মিহিদানা চেখে দেখতে আসথছেন।