২৩ জানুয়ারি স্কুল বন্ধ ছিল। অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে শুক্রবার নেতাজির ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইতে হল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। স্কুলের প্রধানশিক্ষিকাকে শোকজ করেছেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের ঘটনা।

কী ব্যাপার? ২৩ জানুয়ারি পঠনপাঠন চালু রাখার প্রশ্ন নেই, কিন্তু স্কুলে যেতে হয় পড়ুয়াদের। রাজ্যের প্রতিটি স্কুলের ঘটা করে পালিত হয় নেতাজির সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আর তর সয়নি। জামালপুরের কোলসরা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একদিন আগে অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিন পালন করে ফেলেন তাঁরা! শুধু তাই নয়, ২৩ জানুয়ারি আবার স্কুলে ছুটিও ঘোষণা করে দেওয়া হয়! তেমনই অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।  বৃহস্পতিবার সকালে যখন প্রধান শিক্ষিকা ও আরও এক শিক্ষক স্কুলে আসেন, তখন তাঁদের ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা।  বিক্ষোভকারীদের দাবি, ২২ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিন পালন ও ২৩ জানুয়ারি স্কুলের ছুটি ঘোষণার কথা স্বীকার করে নেন খোদ প্রধানশিক্ষিকাই। 

আরও পড়ুন: অনুব্রত মণ্ডলের 'জামাই' হতে চেয়েছিলেন, শ্রীঘরে ঠাঁই হল টিকটক তারকার

সেই ঘটনার জের চলে শুক্রবারও। সকালে কোলসরা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জমায়েত করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিক্ষিক-শিক্ষিকারা স্কুলে ঢুকতেই আবার শুরু হয় বিক্ষোভ। গ্রামবাসীরা সাফ জানিয়ে দেন, ২৩ জানুয়ারির ঘটনার জন্য নেতাজির ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যে দাবি মেনে নেওয়া ছাড়া আর উপায়ও ছিল না! শেষপর্যন্ত স্কুল চত্বরে নেতাজির ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চান কোলসরা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।