- Home
- Business News
- 8th Pay Commission: মূল বেতন + ডিএ + ২.১ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বেতন ১০৬% বৃদ্ধি! পুরো হিসেব বুঝুন
8th Pay Commission: মূল বেতন + ডিএ + ২.১ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বেতন ১০৬% বৃদ্ধি! পুরো হিসেব বুঝুন
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন নিয়ে ফের জোরালো হচ্ছে একটি পুরনো দাবি। ৮ম বেতন কমিশনের কাছে কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, মহার্ঘ ভাতা বা DA-এর একটি অংশ বেসিক পের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হোক।

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন নিয়ে ফের জোরালো হচ্ছে একটি পুরনো দাবি। ৮ম বেতন কমিশনের কাছে কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, মহার্ঘ ভাতা বা DA-এর একটি অংশ বেসিক পের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হোক। এমনটা হলে শুধু বেসিক বেতনই বাড়বে না, তার প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন ভাতা এবং ভবিষ্যতের বেতন বৃদ্ধির হিসাবেও। তবে DA মর্জার নিয়ে এখনও কেন্দ্রের তরফে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ৮ম বেতন কমিশন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কর্মচারী ও পেনশনভোগী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। ৯ সেপ্টেম্বর থেকে পুদুচেরিতে এই আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে চেন্নাইয়েও বৈঠক হয়েছে। আগামী ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর চণ্ডীগড়ে পরবর্তী দফার আলোচনা হওয়ার কথা। সেখানে কর্মী, পেনশনভোগী এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি নিজেদের দাবি ও পরামর্শ কমিশনের সামনে তুলে ধরবে।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বছরে দু’বার DA বাড়ানো হয়—জানুয়ারি এবং জুলাই থেকে। কিন্তু DA বাড়লেও তা সরাসরি বেসিক পের অংশ হয়ে যায় না। কর্মচারী সংগঠনগুলির যুক্তি, DA-এর একটি অংশ বেসিক পের সঙ্গে মিশে গেলে অপেক্ষাকৃত কম বেসিক বেতনের কর্মীরা বেশি উপকৃত হবেন। কারণ বেসিক বেতন বাড়লে তার সঙ্গে যুক্ত কিছু ভাতা এবং পরবর্তী বেতন বৃদ্ধির হিসাবেও তার প্রভাব পড়তে পারে। অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল পেনশনার্স অ্যান্ড সুপারঅ্যানুয়েটস ফেডারেশন (AINPSEF)-এর একটি হিসাব অনুযায়ী, DA মর্জার এবং বেতন সংশোধনের মতো দাবিগুলি মানা হলে আগামী বছরগুলিতে কর্মীদের মোট বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হতে পারে।
বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন DA মর্জারের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা প্রস্তাব দিয়েছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অব পোস্টাল এমপ্লয়িজ (NFPE) এবং AINPSEF-এর দাবি, ২৫ শতাংশ DA বেসিক পের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হোক। অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান রেলওয়ে টেকনিক্যাল সুপারভাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন (IRTSA) এবং পেনশনার্স অ্যান্ড সিনিয়র সিটিজেন অ্যাসোসিয়েশন (PSNM) ৫০ শতাংশ DA পর্যন্ত মর্জারের প্রস্তাব দিয়েছে। ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM)-এর প্রস্তাব, DA ২৫ শতাংশের বেশি হলে তা বেসিক পের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হোক। শুধু DA মর্জার নয়, বিভিন্ন ভাতা নিয়েও বড় দাবি রয়েছে। NC-JCM এবং অল ইন্ডিয়া ডিফেন্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AIDEF) সমস্ত ভাতা তিনগুণ করার এবং DA বৃদ্ধির সঙ্গে তা যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রেও সংগঠনগুলির আলাদা দাবি রয়েছে। NFPE, NC-JCM এবং AIDEF ৬ শতাংশ, AINPSEF ও PSNM ৭ শতাংশ এবং IRTSA ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের সুপারিশ করেছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে লেভেল-১ কর্মীর প্রাথমিক বেসিক পে ১৮,০০০ টাকা। যদি ৮ম বেতন কমিশনে ২.১ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ধরা হয়, তাহলে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সংশোধিত বেসিক পে হতে পারে ৩৭,৮০০ টাকা। AINPSEF-এর হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০৩২ নাগাদ এই কর্মীর বেসিক পে প্রায় ৫৬,৭২৮ টাকা এবং DA প্রায় ১৩,৬১৫ টাকা হতে পারে। এর পর ১ জানুয়ারি ২০৩৩ নাগাদ গ্রস বেতন প্রায় ৭৭,৬৯৪ টাকা হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। তবে DA মর্জার হলে ২০৩৩ সালে লেভেল-১ কর্মীর নতুন বেসিক পে ঠিক কত হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। সরকার DA মর্জার এবং বেতন সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই চূড়ান্ত হিসাব স্পষ্ট হবে।
লেভেল-৬ কর্মীদের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রাথমিক বেসিক পে ৩৫,৪০০ টাকা। ২.১ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ধরলে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সংশোধিত বেসিক পে দাঁড়াতে পারে ৭৪,৩৪০ টাকা। AINPSEF-এর অনুমান অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০৩২ নাগাদ বেসিক পে প্রায় ১,১১,৫৬৪ টাকা এবং DA প্রায় ২৬,৭৭৫ টাকা হতে পারে। আর ১ জানুয়ারি ২০৩৩ নাগাদ গ্রস বেতন প্রায় ১,৫২,৭৯৮ টাকা হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৬ সালের সংশোধিত ৭৪,৩৪০ টাকার বেসিক পের তুলনায় তা দ্বিগুণেরও বেশি। তবে এই সমস্ত হিসাবই কর্মচারী সংগঠনের অনুমান। এগুলি এখনও সরকারের ঘোষিত বেতন কাঠামো নয়।
DA-এর একটি অংশ বেসিক পের সঙ্গে মিশে গেলে তার প্রভাব শুধু মাসিক বেতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বেসিক পে বাড়লে বেসিকের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ভাতা এবং ভবিষ্যতের বেতন বৃদ্ধির হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। এই কারণেই ৮ম বেতন কমিশনের কাছে DA মর্জারের দাবি তুলেছে কর্মচারী সংগঠনগুলি। তবে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে এই দাবি সরকার মেনে নেবে কি না। ৮ম বেতন কমিশন বর্তমানে বিভিন্ন কর্মচারী ও পেনশনভোগী সংগঠনের মতামত সংগ্রহ করছে। কমিশনের সুপারিশের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকার।