ষোড়শ অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান অরবিন্দ পানাগারিয়ার মতে, ডলারের তুলনায় রুপির দাম ১০০ ছাড়ালেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে টাকাকে দুর্বল হতে দেওয়াই সঠিক পদক্ষেপ হবে বলে তিনি রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে পরামর্শ দিয়েছেন।
ষোড়শ অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং নীতি আয়োগের প্রাক্তন ভাইস-চেয়ারম্যান অরবিন্দ পানাগারিয়া রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে (RBI) এক বড়সড় পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ডলারের তুলনায় রুপির দাম ১০০ ছুঁয়ে ফেলবে, এই মনস্তাত্ত্বিক ভয় থেকে আরবিআই-এর বেরিয়ে আসা উচিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় মুদ্রাকে দুর্বল হতে দেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।

অরবিন্দ পানাগরিয়ার পরামর্শ
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ আরবিআই-কে উদ্দেশ্য করে পানাগারিয়া বলেন, বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই ব্যাহত হওয়ার কারণে মুদ্রার ওঠানামা সামলাতে গিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যাকে মাইলফলক হিসেবে দেখা উচিত নয়।
তিনি লেখেন, "প্রিয় @RBI, ডলার পিছু ১০০ টাকার মনস্তত্ত্বকে আপনাদের নীতি নির্ধারণ করতে দেবেন না। ১০০ শুধু একটা সংখ্যা, ৯৯ বা ১০১-এর মতোই। তেলের সংকট কম সময়ের জন্য হোক বা দীর্ঘমেয়াদী, এই মুহূর্তে সঠিক পদক্ষেপ হলো টাকাকে পড়তে দেওয়া।"
এই অর্থনীতিবিদ ব্যাখ্যা করেন, তেলের এই সংকট কতদিন চলবে, তার ওপর নির্ভর করে দেশের অর্থনীতি নিজেকে মানিয়ে নেবে। তাঁর মতে, যদি তেলের বাজারে এই সমস্যা কিছুদিনের (৩ মাস থেকে ১ বছর) হয়, তাহলে এখন টাকার দাম কমলেও পরে তা অনেকটাই সামলে উঠবে।
পানাগারিয়া যোগ করেন, "তেল আমদানির খরচ কমলে এবং সস্তা টাকার সুবিধা নিতে বিদেশি বিনিয়োগ ভারতে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।"
অন্যদিকে, যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে টাকার দাম ধরে রাখার জন্য বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার খরচ করা বা সুদের হার বদলানোর চেষ্টা করলে লোকসান হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, "টাকাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে রিজার্ভ কমতে থাকবে এবং একদিন তা শেষ হয়ে যাবে।"
পানাগারিয়া আরও বলেন, ডলার-ভিত্তিক বন্ড বা প্রবাসী বা অনাবাসী ভারতীয়দের (NRI) জন্য উচ্চ সুদের ডলার আমানতের মতো বিকল্পগুলি সাময়িক স্বস্তি দিলেও আখেরে কোনো লাভ হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, "এগুলো বড়জোর একটা ব্যান্ড-এইডের মতো কাজ করবে। শেষ পর্যন্ত আপনাকে ১০০-টাকা-প্রতি-ডলারের মনস্তাত্ত্বিক বাধা পার করতেই হবে।"
দেশের অর্থনৈতিক হাল নিয়ে প্রতিক্রিয়া
দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন পানাগারিয়া। তিনি মনে করিয়ে দেন, এখনকার পরিস্থিতি ২০১৩ সালের মতো নয়। তখন মুদ্রাস্ফীতি ছিল দুই অঙ্কের ঘরে। তিনি যোগ করেন, "আরবিআই-এর বিচক্ষণ নীতির ফলে এখন পরিস্থিতি অনেক ভালো। তাই টাকার দাম কমলে যে সামান্য মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হবে, তা সামলানোর ক্ষমতা অর্থনীতির আছে।" বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ঋণপত্র চালুর বিষয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, "ডলার-ভিত্তিক বন্ড এবং উচ্চ-সুদের এনআরআই ডলার আমানতগুলি বেশ ব্যয়বহুল। ভারত তার নিজস্ব বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ থেকে যা আয় করে, তার চেয়ে অনেক বেশি সুদ এখানে দিতে হয়। এটা আসলে ধনী এনআরআইদের কাছে টাকা হস্তান্তরের সামিল।"
এই প্রতিবেদনটি লেখার সময়, ডলারের তলনায় রুপির দর ছিল ৯৬.১৯।


