Pension Scheme News: পেনশন বা ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের ওপর নির্ভর করে অবসরজীবনে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামলানো কঠিন হয়ে উঠছে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ ভাবা যেতে পারে। 

Pension Scheme News: অবসরের পরের জীবনটা অনেকের কাছেই বহু প্রতীক্ষিত— কাজের চাপ নেই, সময় নিজের মতো করে কাটানোর সুযোগ আছে। কিন্তু বাস্তব বলছে, এই সময়টাতেই আর্থিক অনিশ্চয়তা সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মুদ্রাস্ফীতির চাপে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়ছে, চিকিৎসা ব্যয় লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

ফলে শুধুমাত্র ফিক্সড ডিপোজিট বা সীমিত পেনশনের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। শুধু সঞ্চয় বা ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের উপর নির্ভর করলে এখন অনেক ক্ষেত্রেই মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন। তাই আর্থিক পরিকল্পনাকারীরা বলছেন, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করে এমন কিছু মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ ভাবা যেতে পারে, যা একদিকে পুঁজির সুরক্ষা, অন্যদিকে সম্ভাব্য বৃদ্ধির সুযোগ দেয়।

অবসরপ্রাপ্তদের জন্য পেনশনের বিশেষ স্কীম:-

ইক্যুইটি সেভিংস ফান্ড: স্থিরতার সঙ্গে মাঝারি বৃদ্ধি। এই ফান্ডে সাধারণত মোট সম্পদের একটি অংশ (প্রায় ৩০-৪০%) সরাসরি ইক্যুইটিতে, কিছু অংশ আর্বিট্রেজে এবং বাকিটা ডেট ইনস্ট্রুমেন্টে রাখা হয়।

সম্ভাব্য রিটার্ন: ৩ বছর মেয়াদে গড় বার্ষিক ৬%–৮% ৫ বছর বা তার বেশি সময় রাখলে ৮%–১০% পর্যন্ত হতে পারে (বাজার পরিস্থিতি সাপেক্ষে) যাঁরা মূলধন খুব বেশি ঝুঁকিতে ফেলতে চান না কিন্তু ব্যাংক আমানতের তুলনায় সামান্য বেশি ফলন চান, তাঁদের জন্য এটি ভারসাম্যপূর্ণ বিকল্প।

ব্যালান্সড অ্যাডভান্টেজ ফান্ড: বাজার বুঝে বিনিয়োগ এই ফান্ডে ইক্যুইটি ও ডেটের অনুপাত সময় অনুযায়ী বদলায়। বাজার বেশি দামে থাকলে শেয়ারের অংশ কমানো হয়, আর বাজার সস্তা হলে বাড়ানো হয়।

সম্ভাব্য রিটার্ন: ৩–৫ বছরে গড়ে ৭%–১০% ৫–৭ বছর দৃষ্টিভঙ্গিতে ৯%–১২% পর্যন্ত সম্ভাবনা এই ফান্ড দীর্ঘমেয়াদি অবসর পরিকল্পনায় তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেয় এবং বড় পতনের ঝুঁকি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

মাল্টি-অ্যাসেট অ্যালোকেশন ফান্ড: বৈচিত্র্যের শক্তি ইক্যুইটি, ডেট ও সোনায় অন্তত ১০% করে বিনিয়োগ রাখার নিয়ম এই শ্রেণির বৈশিষ্ট্য। ফলে একাধিক সম্পদশ্রেণির সুবিধা পাওয়া যায়।

সম্ভাব্য রিটার্ন: ৫ বছরের মেয়াদে ৮%–11% ৭ বছর বা তার বেশি রাখলে ৯%–12% পর্যন্ত সম্ভাবনা দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে এবং ঝুঁকি ছড়িয়ে দিতে এই ফান্ড কার্যকর হতে পারে।

অ্যাগ্রেসিভ হাইব্রিড ফান্ড: বাড়তি বৃদ্ধির সম্ভাবনা। এখানে প্রায় ৬৫–৮০% অর্থ ইক্যুইটিতে এবং বাকিটা ডেটে থাকে। ফলে বাজার ভালো চললে রিটার্ন তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

সম্ভাব্য রিটার্ন: ৫ বছরে ৯%–১২% ৭–১০ বছর সময় দিলে ১০%–১৪% পর্যন্ত সম্ভাবনা। তবে স্বল্পমেয়াদে ১০–১৫% পর্যন্ত ওঠানামা দেখা যেতে পারে—এই বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

অবসর পোর্টফোলিও গঠনের কিছু বাড়তি পরামর্শ:

মোট বিনিয়োগের একটি অংশ (প্রায় ২০–৩০%) কম ঝুঁকির ডেট বা লিকুইড ফান্ডে রাখা যেতে পারে, যাতে জরুরি খরচ সামলানো যায়। ৬–১২ মাসের ব্যয়ের সমপরিমাণ অর্থ সহজে তোলা যায় এমন বিনিয়োগে রাখা নিরাপদ। নিয়মিত আয়ের জন্য সিস্টেম্যাটিক উইথড্রয়াল প্ল্যান (SWP) ব্যবহার করলে মাসিক বা ত্রৈমাসিক নগদ প্রবাহ নিশ্চিত করা যায়। বছরে অন্তত একবার পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করে সম্পদের অনুপাত ঠিক রাখা দরকার।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—অবসর মানেই সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ নয়, বরং হিসেবি ঝুঁকি। ১৫–২০ বছরের অবসরকাল ধরে পরিকল্পনা করলে শুধুমাত্র সুরক্ষিত সুদের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাই সময়সীমা, আয়-ব্যয়ের চাহিদা এবং ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা বিচার করে বিনিয়োগ বণ্টন করা উচিত।

সতর্কীকরণ: উপরোক্ত রিটার্ন অনুমান অতীত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ধারণা মাত্র। বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী ফলন কমবেশি হতে পারে। বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক প্রয়োজন ও ঝুঁকি সহনশীলতা বিচার করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। এই প্রতিবেদন কেবল তথ্যভিত্তিক।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।