২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে সরকার প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে এবং এই খাতের জন্য ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এটি গত বছরের ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকার তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

Defence Budget 2026: ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে সরকার প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে এবং এই খাতের জন্য ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এটি গত বছরের ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকার তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই বর্ধিত বরাদ্দ এমন এক সময়ে এসেছে যখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক রাফাল যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন এবং উন্নত ড্রোন কেনার জন্য় চুক্তি করার পরিকল্পনা করেছে। এই মোট বরাদ্দের মধ্যে ২.১৯ লক্ষ কোটি টাকা বিশেষভাবে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এই তহবিল উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হবে।

প্রতিরক্ষা বরাদ্দের বিস্তারিত বিবরণ

বর্ধিত বাজেট প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভরশীলতার দিকে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে, যা অপারেশনাল প্রস্তুতিকে শক্তিশালী করবে এবং নিশ্চিত করবে যে বাহিনীগুলো উদীয়মান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সজ্জিত থাকে। বাজেট নথি অনুসারে, ২০২৭ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জন্য মোট বরাদ্দের মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা পরিষেবার রাজস্ব ব্যয়, মূলধনী ব্যয়, প্রতিরক্ষা পেনশন এবং মন্ত্রকের অধীন বেসামরিক সংস্থাগুলোর জন্য ব্যয়। এই বর্ধিত বরাদ্দ অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা উন্নয়ন উভয়কেই সমর্থন করার লক্ষ্য রাখে।

পূর্ববর্তী বাজেটের সঙ্গে তুলনা

২০২৬ অর্থবছরের বাজেটে কেন্দ্র প্রতিরক্ষা খাতের জন্য ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল, যা ছিল সরকারি ব্যয়ের অন্যতম বৃহত্তম একটি অংশ। এর মধ্যে, প্রতিরক্ষা পরিষেবার রাজস্ব ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩.১২ লক্ষ কোটি টাকা, যা বেতন, ভাতা, সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং অপারেশনাল প্রয়োজনীয়তা অন্তর্ভুক্ত করে।

বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজেটের সঙ্গে ভারতের তুলনা

বিশ্বব্যাপী, ভারত শীর্ষ প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে রয়ে গেছে। চিন ২০২৫-২৬ সালের জন্য ২৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট ঘোষণা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭.২ শতাংশ বৃদ্ধি। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক ব্যয়কারী দেশ। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট ৮৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল অঙ্কের।

এই নতুন বাজেট এই সব কাজে সাহায্য করবে

রাফাল যুদ্ধবিমান: নৌবাহিনীর জন্য অতিরিক্ত রাফাল-এম (২৬ বা তার বেশি) কেনার চুক্তি। বিমান বাহিনীর কাছে ইতিমধ্যেই ৩৬টি রাফাল রয়েছে, আরও কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাবমেরিন: প্রকল্প ৭৫আই-এর অধীনে AIP প্রযুক্তি-সহ ছয়টি নতুন স্টিলথ সাবমেরিন তৈরি করা হচ্ছে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য চুক্তি।

ড্রোন: MQ-9B, দেশীয় ড্রোন এবং কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেমের মতো ড্রোন। সাম্প্রতিক সংঘাতগুলিতে ড্রোন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যান্য: LCA Mk1A/Mk2 Tejas যুদ্ধবিমান, LCH Prachand হেলিকপ্টার, BrahMos মিসাইল, S-400 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং নতুন মিসাইল ও রাডার সিস্টেম। এই প্রকল্পগুলি সামরিক বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করবে। দেশীয় কোম্পানিগুলি বাজেটের একটি বড় অংশ পাবে।

এত বড় বাজেট কেন?

অপারেশন সিঁদুরের মতো ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা প্রতিরক্ষা বাজেট ২০ শতাংশ বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছিলেন। যা মোটামুটি পূরণ হয়েছে। ২০২৬ সালের বাজেট প্রতিরক্ষা খাতে একটি বড় সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কাঁচামালের উপর মৌলিক শুল্ক মুকুব করা হয়েছে। এর ফলে বিমানের যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য আমদানি করা সরঞ্জামগুলি দেশেই তৈরি করার অনুমতি পাওয়া যাবে। রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত বা ওভারহল (MRO) সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। প্রতিরক্ষা খাতের ইউনিটগুলির জন্য এই ছাড় পাওয়া যাবে, যা দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করবে এবং খরচ কমাবে। অসামরিক, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য বিমানের উপাদানগুলির উপরও শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে।