Elon Musk News: আর অফিস যেতে হবে না, বসের বকা শুনতে হবে না, মাসের শেষে টাকার চিন্তা থাকবে না! এমনই এক ভবিষ্যতের ছবি দেখালেন টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক। তাঁর দাবি, AI এবং রোবটিক্স এতটাই উন্নত হবে যে মানুষকে আর জীবিকার জন্য কাজ করতেই হবে না। কাজ তখন বাধ্যবাধকতা নয়, শখ হয়ে যাবে। সম্প্রতি অল-ইন সামিটে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় গোটা বিশ্ব।
Elon Musk: সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস ছোটা, মাসের শেষে EMI, রোজগারের চিন্তা, এসবই কি একদিন ইতিহাস হয়ে যাবে? হ্যাঁ, এমনটাই মনে করেন বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের ইলন মাস্ক। সম্প্রতি আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ‘অল-ইন সামিট ২০২৬’-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মাস্ক এক চমকে দেওয়া ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।
ঠিক কী বলেছেন ইলন মাস্ক?
মাস্কের কথায়, “AI এবং রোবটিক্সের উন্নতি এমন জায়গায় পৌঁছবে যে, মানুষের করা ৯০% কাজই মেশিন করে দেবে। তখন কাজ করা আর বেঁচে থাকার জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে না।” অর্থাৎ, ভবিষ্যতে চাকরি হবে অনেকটা এখনকার শখের মতো। আপনি চাইলে বাগান করবেন, ছবি আঁকবেন, গান গাইবেন— কারণ আপনার ভালো লাগে, টাকার জন্য নয়। রোজগারের দায়িত্ব নেবে রোবট। তিনি আরও বলেন, টেসলার Optimus রোবটের মতো হিউম্যানয়েড রোবট যখন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে, তখন কারখানা থেকে রান্নাঘর— সব কাজই করবে তারা। মানুষ শুধু নিজের পছন্দের জীবন কাটাবে।
তাহলে টাকা আসবে কোথা থেকে?
এখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। যদি কেউ চাকরিই না করে, তাহলে খাবে কী? এই প্রসঙ্গেই মাস্ক আবারও ‘ইউনিভার্সাল হাই ইনকাম’ বা UBI-র তত্ত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, AI ও রোবট যে বিপুল সম্পদ তৈরি করবে, তার লাভ সবার মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে। সরকার প্রত্যেক নাগরিককে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেবে, কাজ করুক বা না করুক। যাতে কেউ গরিব না থাকে। তবে মাস্কের এই স্বপ্নের উল্টো পিঠেও রয়েছে উদ্বেগের মেঘ। এআই এবং রোবট যদি মানুষের অধিকাংশ কাজই করতে শুরু করে, তাহলে বহু প্রচলিত চাকরির প্রয়োজনীয়তা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের সংসার সম্পূর্ণভাবে মাসিক বেতন বা দৈনিক মজুরির উপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য এই পরিবর্তন বড়সড় আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি, এআই ও রোবটের মালিকানা যদি হাতে গোনা কয়েকটি সংস্থা বা ধনী ব্যক্তির কাছে কেন্দ্রীভূত থাকে, তাহলে প্রযুক্তির বিপুল মুনাফাও তাঁদের হাতেই জমা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়লেও সাধারণ মানুষের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি নাও হতে পারে। তাই প্রশ্ন উঠছে, যন্ত্রের তৈরি সম্পদের সুবিধা কি সমাজের সব স্তরের মানুষ পাবেন, নাকি বাড়বে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান? অনেক অর্থনীতিবিদ অবশ্য বলছেন, মাস্কের এই ভাবনা শুনতে সুন্দর হলেও বাস্তবায়ন করা কঠিন। AI-র জন্য এখনই চাকরি হারাচ্ছে অনেকে, কিন্তু তার বদলে নতুন রোজগারের ব্যবস্থা এখনও তৈরি হয়নি।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।






