এসআরসিসি (SRCC) শতবর্ষী সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় পীযূষ গয়াল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম অংশটি চূড়ান্ত হয়েছে। এখন এর চূড়ান্ত রূপরেখা ও আইনি খসড়া তৈরির কাজ চলছে। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই এটি চূড়ান্ত করতে পারব এবং অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছনোর পর তা কার্যকর করতে পারব।”

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত হয়েছে এবং বর্তমানে এর আইনি খসড়া তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এসআরসিসি (SRCC) শতবর্ষী সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় পীযূষ গয়াল বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম অংশটি চূড়ান্ত হয়েছে। এখন এর চূড়ান্ত রূপরেখা ও আইনি খসড়া তৈরির কাজ চলছে। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই এটি চূড়ান্ত করতে পারব এবং অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছনোর পর তা কার্যকর করতে পারব।"

পরবর্তীতে বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানান, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা সঠিক পথেই এগিয়ে চলেছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা সম্ভবত খুব ভাল অবস্থানে রয়েছি। আমরা আশা করছি যত দ্রুত সম্ভব এই চুক্তিটি চূড়ান্ত করে স্বাক্ষর করা যাবে।" আগরওয়াল আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক শুল্ক কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হওয়ার পরই এই বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তিনি বলেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কাজ সমান্তরালভাবে চলছে। 'সেকশন ৩০১'-এর অধীনে কিছু ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আমরা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে এগিয়ে যাব।"

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই সপ্তাহে 'ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরাম'-এ বক্তব্য রাখার সময় বলেন যে, আলোচনাটি একটি চূড়ান্ত পরিণতির (landing point) দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তিগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, "যখন কোনও দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো অর্থনীতির সঙ্গে আলোচনা করে, তখন এর একটি দিক হল—আপনারা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মধ্যে কী সমঝোতায় পৌঁছাচ্ছেন। আর অন্য দিকটি হল অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনীতির তুলনায় আপনারা কেমন অবস্থানে থাকছেন।"

তিনি আরও বলেন, "দ্বিতীয় বিষয়টি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, কারণ সব দেশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছতে পারেনি। তবে বাণিজ্যমন্ত্রীরা, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) এবং আমাদের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন এবং তাঁরা জটিল বিষয়গুলোর সমাধান করছেন।" জয়শঙ্কর যোগ করেন, "আমার মনে হয়, বিষয়টি একটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।"

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের শুরু থেকেই একটি প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই চুক্তির লক্ষ্য হল শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধ নিরসন, অশুল্ক বাধা দূর করা এবং দ্বিপাক্ষিক বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করা। আমেরিকার বাজারে নিজেদের পণ্যের জন্য প্রতিযোগীদের তুলনায় সুবিধাজনক শুল্ক হার পাওয়ার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি।

এই মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে, তবে খুব দ্রুতই কোনও চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। গ্রিয়ার আরও বলেন, উভয় পক্ষ অমীমাংসিত বিষয়গুলো চিহ্নিত করেছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছনোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

গত বছর ওয়াশিংটন ভারতের উপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করলে এবং ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাত প্রশমনে নিজের ভূমিকা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করলে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি ঘটে—যা ভারতীয় কর্মকর্তাদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

ওয়াশিংটনের নতুন অভিবাসন নীতি এবং এইচ-১বি (H1B) ভিসার ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতিতে ভূমিকা রেখেছে। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) ও উইপ্রো-সহ বড় বৈশ্বিক ও ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি (IT) কোম্পানিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রিন-কার্ড প্রক্রিয়াকরণ কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্র সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলে, দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে ডামাডোল সৃষ্টি হয়।