দেশের সবচেয়ে ছোট রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও, গোয়া রোজগারের নিরিখে ভারতের এক নম্বর। বার্ষিক প্রায় ৬ লক্ষ টাকা মাথাপিছু আয় নিয়ে এটি দিল্লি, কর্ণাটকের মতো রাজ্যকেও পিছনে ফেলেছে। 

সুন্দর সমুদ্রের ঢেউ আর বিচে ঘেরা গোয়া, দেশের সবচেয়ে ছোট রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও রোজগারের দিক থেকে বড় বড় রাজ্যকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ-বিহার বা তামিলনাড়ু-কর্নাটকের মতো রাজ্যও এর কাছে পাত্তা পায় না। গোয়া শুধু ঘোরার জায়গা নয়, ভারতের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির একটি কেন্দ্র। ছোট রাজ্য হয়েও পর্যটন, শিল্প, খনি এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কারণে এর কোনও প্রতিযোগী নেই। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রশ্ন হল, গোয়া এত ধনী হল কীভাবে? সেখানে এমন কী বিশেষত্ব আছে যা তাকে বাকি রাজ্য থেকে আলাদা করে? রোজগারে গোয়া এক নম্বর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র গত বছরের শেষে প্রকাশিত 'হ্যান্ডবুক অফ স্ট্যাটিস্টিকস অন ইন্ডিয়ান স্টেটস' অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে গোয়ার মাথাপিছু বার্ষিক আয় গোটা দেশে সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ, এখানে একজন ব্যক্তি বছরে যা আয় করেন, তা ভারতের অন্য কোনও রাজ্যের নাগরিক করতে পারেন না। 

সবচেয়ে বেশি মাথাপিছু আয়ের সেরা ৫ রাজ্য 

গোয়া ৫.৮৬ লক্ষ 

দিল্লি ৪.৯৩ লক্ষ 

তেলেঙ্গানা ৩.৮৭ লক্ষ 

কর্নাটক ৩.৮০ লক্ষ 

তামিলনাড়ু ৩.৬২ লক্ষ 

গোয়ার এই সাফল্যের রহস্য কী? 

১. পর্যটন- গোয়ার আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হল পর্যটন শিল্প। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভারতীয় এবং বিদেশি পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। এখানকার বিচ, নাইট লাইফ, সি-ফুড, চার্চ এবং সুন্দর হোটেলগুলো গোয়াকে বিশেষ করে তুলেছে। পর্যটনের হাত ধরে হোটেল ব্যবসা, ট্যাক্সি ও ট্র্যাভেল এজেন্সি, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে এবং স্থানীয় বাজার—সবাই লাভবান হয়। অর্থাৎ, গোটা রাজ্যই পর্যটন থেকে আয় করে। 

২. ছোট রাজ্য, কম জনসংখ্যা- অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় গোয়ার জনসংখ্যা বেশ কম। যখন কোনও রাজ্যের মোট আয় ভালো হয় এবং জনসংখ্যা কম থাকে, তখন মাথাপিছু আয় স্বাভাবিকভাবেই বেশি দেখায়। গোয়ার ক্ষেত্রেও ঠিক এটাই হয়েছে। 

৩. খনি ও শিল্প থেকেও প্রচুর আয়- গোয়া শুধু ঘোরার জায়গা নয়। এখানে আয়রন ওর, ম্যাঙ্গানিজ এবং বক্সাইটের মতো খনিজ পদার্থও পাওয়া যায়। বহু বছর ধরেই খনি শিল্প গোয়ার অর্থনীতির একটি বড় অংশ। এছাড়া এখানে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি, রাসায়নিক শিল্প, ফুড প্রসেসিং এবং হস্তশিল্পও দ্রুতগতিতে বাড়ছে। 

৪. কৃষি ও মাছ ধরাও বেশ শক্তিশালী- গোয়াতে শুধু হোটেল ব্যবসা চলে না। এখানে চাষবাস এবং মাছ ধরার কাজও বড় আকারে হয়। এখানকার প্রধান ফসলগুলির মধ্যে কাজু, নারকেল, আম, আখ এবং চাল উল্লেখযোগ্য, যা দেশ-বিদেশে পাঠানো হয়। 

৫. বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব- গোয়া দীর্ঘদিন পর্তুগালের অধীনে ছিল। এই কারণেই এখানকার সংস্কৃতি ভারতের বাকি অংশের থেকে কিছুটা আলাদা। এখানে পুরনো চার্চ, ইউরোপীয় স্থাপত্য, ভিন্ন ধরনের খাবার এবং একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশ দেখা যায়। এই বিষয়টিই বিদেশি পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। 

৬. দুর্দান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা- সড়ক, রেল, বিমান এবং জলপথে গোয়া দেশ-বিদেশের সঙ্গে ভালোভাবে যুক্ত। ডাবোলিম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কোঙ্কন রেলওয়ে, বড় বন্দর এবং চমৎকার হাইওয়ে এখানকার পর্যটন ও ব্যবসাকে আরও সহজ করে তুলেছে। 

সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রাতেও সেরা গোয়া গোয়া শুধু টাকার অঙ্কেই নয়, জীবনযাত্রার মানেও বিশেষ। প্রায় ৪৫০ বছর পর্তুগিজ শাসনের কারণে এখানকার সংস্কৃতিতে একটি আলাদা ছাপ রয়েছে। পশ্চিম উপকূলে যেমন ক্যাথলিক চার্চ দেখা যায়, তেমনই পাহাড়ি এলাকায় সুন্দর হিন্দু মন্দিরও রয়েছে। এখানকার মানুষ কোঙ্কনি, মারাঠি এবং ইংরেজি ভাষায় স্বচ্ছন্দ। কোঙ্কন রেলওয়ে এবং ডাবোলিম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দৌলতে গোয়া আজ গোটা বিশ্বের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।