- Home
- Business News
- Gold Reserves Legal Limits: বাড়িতে এর বেশি সোনা থাকলেই হতে পারে জেল! জেনে নিন নিয়ম-বিধি
Gold Reserves Legal Limits: বাড়িতে এর বেশি সোনা থাকলেই হতে পারে জেল! জেনে নিন নিয়ম-বিধি
Gold Reserves Legal Limits: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সোনা না কেনার আর্জির পরেই কেন্দ্র সোনা-রুপোর উপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি সোনা বাড়িতে থাকলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

দেশবাসীকে এক বছর সোনা না কেনার আর্জি প্রধানমন্ত্রীর
Gold Reserves Legal Limits: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার (ফরেক্স) বাঁচাতে এক বছর, হায়দরাবাদের এক জনসভা থেকে দেশবাসীকে সোনা না কেনার আর্জি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই আর্জির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই, অর্থাৎ বুধবার থেকে সোনা-রুপোর উপর আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি করল কেন্দ্র।

৬ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হল
আগে এই দুই ধাতুর আমদানিতে ৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এ বার তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হল। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে হলুদ ধাতুর দাম এক লাফে অনেকটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্বর্ণব্যবসায়ীরা। এই বিষয়টি নিয়ে দেশবাসীর মনেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয়দের অনেকের মনে এ প্রশ্নও জাগছে, ঠিক কত সোনা বাড়িতে মজুত করতে পারবেন তাঁরা? এ নিয়ে সরকারি নিয়মই বা কী?
ভবিষ্যতের সঞ্চয় হিসাবে মানেন সোনাকে
মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই ভবিষ্যতের সঞ্চয় হিসাবে মানেন সোনাকে। সোনাকে ভারতীয়রা সম্পদ বলেই মনে করে। এ ছাড়া বরাবরই বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে সোনাই ছিল ভারতীয়দের একমাত্র ভরসা। আর তাই গয়না হোক বা বার, প্রায় প্রত্যেকেই সাধ্য অনুযায়ী বাড়িতে কিছু সোনা রাখেন।
ভারতীয় সংস্কৃতিতে উৎসবের সময়েও সোনা কেনার রীতি আছে
ভারতীয় সংস্কৃতিতে উৎসবের সময়েও সোনা কেনার রীতিও রয়েছে। তবে এবার থেকে বাড়িতে কতটা পরিমানে সোনা রাখতে পারবেন এবং সরকারের নির্দিষ্ট কী কী নিয়ম রয়েছে তা জেনে রাখা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট পরিমানের বেশি সোনা থাকলে গ্রেফতার, এমনকি হাজতবাস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিবাহিত মহিলা নিজের কাছে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনা রাখতে পারবেন
‘সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডিরেক্ট ট্যাক্সেস’-এর (CBDT) নিয়ম অনুসারে, কোনও বিবাহিত মহিলা নিজের কাছে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনা রাখতে পারেন। পাশাপাশি অবিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ২৫০ গ্রাম। পরিবারের পুরুষরা ১০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনা রাখতে পারবেন নিজেদের কাছে। ব্যক্তিগত ভাবে সোনা রাখার এই অনুমোদিত সীমার জন্য বিনিয়োগ সংক্রান্ত কোনও নথির প্রয়োজন হবে না।
নির্দিষ্ট পরিমানের বেশি সোনা থাকলে তার নথি থাকতে হবে
নিয়ম অনুসারে, নাগরিকদের কাছে নির্দিষ্ট পরিমানের বেশি সোনা থাকলে তার নথি থাকতে হবে। তবে বাড়িতে অতিরিক্ত সোনা থাকলে তল্লাশির সময়ে সরকারি আধিকারিক ইচ্ছা করলেই তা বাজেয়াপ্ত করতে পারবেন না। সোনার উপর আয়করের বেশ কয়েকটি নিয়ম রয়েছে। যেমন, যদি কোনও ব্যক্তি ঘোষিত আয় বা করমুক্ত আয়ের (যেমন কৃষি) টাকায় হলুদ ধাতু কিনে থাকেন, তবে তাঁকে কোনও কর দিতে হবে না।
দীর্ঘমেয়াদি মূলধন লাভ
সোনা রাখার ক্ষেত্রে আয়কর না থাকলেও বিক্রির ক্ষেত্রে অবশ্যই কর দিতে হবে। যদি কোনও ব্যক্তি হলুদ ধাতু মজুত থাকার তিন বছর পর বিক্রি করেন, তা হলে সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ ‘দীর্ঘমেয়াদি মূলধন লাভ’ (লং টার্ম ক্যাপিটাল গেনস) হিসাবে গণ্য হবে। এর পরিমাণ ২০ শতাংশ। কিন্তু গ্রাহক সোনা কেনার তিন বছরের মধ্যে তা বিক্রি করলে সেই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। সে ক্ষেত্রে লভ্যাংশ যুক্ত হবে ব্যক্তিগত আয়ের সঙ্গে। এর পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপর প্রযোজ্য করের ধাপের উপর ভিত্তি করে কর নেবে সরকার।
এক দিনে দু’লক্ষ টাকার বেশি নগদ লেনদেন করতে পারবেন না
অন্য দিকে সরকারি নিয়ম এ-ও বলছে, সোনা কেনার জন্য কোনও গ্রাহক এক দিনে দু’লক্ষ টাকার বেশি নগদ লেনদেন করতে পারবেন না। আয়কর আইনের ধারা ২৬৯এসটি অনুযায়ী, দু’লক্ষ টাকা পর্যন্ত সোনা নগদে কেনা যাবে। এর বেশি পরিমাণ অর্থ কার্ড বা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
আয়কর আইনের ১১৪বি ধারা অনুযায়ী এটি বাধ্যতামূলক
কোনও ব্যাক্তি যদি দু’লক্ষ টাকা বা তার বেশি মূল্যের সোনা কেনেন, তা হলে তাঁকে দোকানে প্যান কার্ডের বিবরণ জমা দিতে হবে। আয়কর আইনের ১১৪বি ধারা অনুযায়ী এটি বাধ্যতামূলক। আবার আয়কর আইনের ২৭১ডি ধারা অনুযায়ী, একদিনে দু’লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের সোনা নগদে কিনলে, নগদ লেনদেনের সমপরিমাণ জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে।
নির্দিষ্ট পরিমাণের সোনা রাখার নির্দেশ
সোনার নথিপত্রে গরমিল থাকলেই যে অলঙ্কার আয়কর দফতর বাজেয়াপ্ত করবে, এমনটা নয়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষে কিছু ছাড় মিলবে। উদাহরণ হিসাবে বিবাহিত মহিলাদের কথা বলা যেতে পারে। তাঁদের কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে অধিক সোনা থাকলে তা বাজেয়াপ্ত না করার নির্দেশ দিয়েছে সিবিডিটি।
বিশ্বে সোনা কেনার ক্ষেত্রে ভারত দ্বিতীয়
বিশ্বে সোনা কেনার ক্ষেত্রে ভারত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। জানলে অবাক হবে প্রতি বছর দেশের মানুষ ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনা কেনেন। কিন্তু ভারতে বছরে সোনা মেলে মাত্র এক থেকে দু’টন। ফলে প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ সোনা আমদানি করতে হয়। এই সোনা আমদানি করতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়।
অতিরিক্ত সোনা আমদানির খরচও বেড়েছে
এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের ফলে তেলের দামও বেড়েছে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আমদানির খরচও। আমদানি-রফতানি ব্যবস্থায় তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা। একই ভাবে এই অতিরিক্ত সোনা আমদানির খরচও বেড়েছে। এর জেরেই চাপ পড়ছে দেশের বৈশ্বিক মুদ্রার ভান্ডারে। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে এক বছর সোনা না কেনার অনুরোধ করেছেন বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

