India Product Exports: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে অগাস্ট মাস পর্যন্ত, ভারতের রপ্তানি ব্যবসায় দারুণ বৃদ্ধি দেখা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ৬.১৭% বৃদ্ধি পেয়ে ৪২.৭৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে, চিনে রপ্তানি ৩৮.৭১% বেড়ে ৯.৬১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। জাপান, ইতালি এবং দক্ষিণ কোরিয়াতেও ভারতীয় পণ্যের চাহিদা বেড়েছে।
India Product Exports: চলতি অর্থবর্ষে (২০২৬-২৭) ভারতের পণ্য রপ্তানির ব্যবসা বেশ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রিল থেকে অগাস্ট—এই পাঁচ মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (US) চালান ৬.১৭% বেড়ে ৪২.৭৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে জাপান, চিন, ইতালি এবং দক্ষিণ কোরিয়াতে রপ্তানি বৃদ্ধির হার বেশ চোখে পড়ার মতো। বাণিজ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল-অগাস্ট পর্বে আমেরিকায় ভারতের রপ্তানি বেড়ে হয়েছে ৪২.৭৯ বিলিয়ন ডলার। যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৪০.৩১ বিলিয়ন ডলার (India Product Exports)। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (EU) রপ্তানি ৩.৮৪% বৃদ্ধি পেয়ে ২৭.৭৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে। যা আগে ছিল ২৬.৭৬ বিলিয়ন ডলার। তবে এই তিনটি বড় বাজারের মধ্যে চিনে রপ্তানি বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। সেখানে রপ্তানি ৩৮.৭১ শতাংশ বেড়ে ৯.৬১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৬.৯৩ বিলিয়ন ডলার।
অন্যান্য দেশের মধ্যে জাপানে ভারতের রপ্তানি ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৩.৪৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত বছর এই অঙ্কটা ছিল ২.৪১ বিলিয়ন ডলার। দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি ২২ শতাংশ বেড়ে ৩.২১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে (আগে ছিল ২.৬৩ বিলিয়ন ডলার), এবং ইতালিতে চালান ২৯.৯ শতাংশ বেড়ে ৩.৯২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে (আগে ছিল ৩.০২ বিলিয়ন ডলার)।
ভারত-চিন বাণিজ্যিক সম্পর্ক
বাণিজ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ, বিশেষ করে বাণিজ্য ঘাটতি এবং সাপ্লাই-চেইন সমস্যা মেটাতে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার পরেই চিনে রপ্তানি এতটা বেড়েছে। বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, সম্প্রতি বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং তাঁর চিনা প্রতিপক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে। এটি ছিল প্রাথমিক আলোচনা। যার লক্ষ্য হল, দুই পক্ষের উদ্বেগগুলিকে মেটানো। আগরওয়াল বলেন, “দুই দেশের নেতারাই একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন। সেই পথেই দুই পক্ষ বাণিজ্য ক্ষেত্রে একে অপরের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে।” তিনি আরও জানান, দুই দেশই কাঠামোগত বাণিজ্য ঘাটতি, সাপ্লাই-চেইনের সমস্যা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে আস্থা ফেরানোর উপায় নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে।
চিনে কোন কোন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে?
রাজেশ আগরওয়াল জানান, চিনে রপ্তানি বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, যা মোট বৃদ্ধির ২০.৭৩ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে ইলেকট্রনিক পণ্য (১৫.৪%), পেট্রোলিয়াম পণ্য (১৩.৫৫%), জৈব ও অজৈব রাসায়নিক (১০.৫৩%) এবং লৌহ আকরিক (৯.৯৭%)। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যাতায়াত বৃদ্ধি এবং বেজিং ও দিল্লির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় ধীরে ধীরে আস্থা ফিরছে। অপরদিকে, বাণিজ্য সচিব জানিয়েছেন যে ভারত-নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য চুক্তিটি ২০২৬ সালের অক্টোবরের দ্বিতীয়ার্ধে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই পক্ষ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করার পর চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

