Indian Home Market: ডেলয়েট ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্ট বলছে, ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্রেতা সোশ্যাল মিডিয়া ঘেঁটে ঘর সাজানোর জিনিসপত্র কেনেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাজার ২৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। মূলত কমবয়সি এবং টেক-স্যাভি ক্রেতারাই এই বাজার কাঁপাচ্ছেন।

Indian Home Market: ডেলয়েট ইন্ডিয়ার (Deloitte India) সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট বলছে, ভারতের প্রায় ৮০% ক্রেতা এখন সোশ্যাল মিডিয়া ঘেঁটে ঘর সাজানোর জিনিসপত্র কেনেন। অর্থাৎ, মানুষ এখন নিজেদের ঘরের জন্য কী কিনবেন, তা ঠিক করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপরই বেশি ভরসা করছেন (Indian Home Market)। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে ভারতের হোম অ্যান্ড হাউসহোল্ড মার্কেট (Home and household market) ১.৬ গুণ বাড়বে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাজারের অঙ্ক গিয়ে দাঁড়াবে ২৬০ বিলিয়ন ডলারে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, "প্রায় ৮০ শতাংশ ক্রেতা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রোডাক্ট খোঁজেন। আর ৬০ শতাংশ মানুষ দোকানে গিয়েও ই-কমার্স অ্যাপ ঘেঁটে দাম মেলান বা অফার চেক করেন।"

কমবয়সি ক্রেতাদের হাত ধরেই ডিজিটাল বিপ্লব

রিপোর্টে বলা হয়েছে, কমবয়সি এবং টেক-স্যাভি ক্রেতারাই মূলত এই ট্রেন্ড সেট করছেন। আগে মানুষ সাধারণত ৪০-এর কোঠায় গিয়ে প্রথম বাড়ি কিনতেন। এখন সেই বয়সটা কমে ৩০-এর কোঠায় চলে এসেছে। এই কেনাকাটার জার্নিতে সোশ্যাল মিডিয়া এখন একটা বড় অংশ। ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সিদের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশ ক্রেতা ক্রিয়েটর বা ইনফ্লুয়েন্সারদের দেখে অনুপ্রাণিত হন। যেখানে ৪৫ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের মধ্যে এই হার মাত্র ২৭ শতাংশ।

দোকানে গিয়েও অনলাইনে দাম মেলানোর ঝোঁক

রিপোর্ট বলছে, ঘরের জিনিসপত্র কেনার সময় ক্রেতারা এখন একাধিক ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করছেন। প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ দোকানে গিয়েও ই-কমার্স অ্যাপ খুলে প্রোডাক্টের রিভিউ পড়েন, দাম মেলান এবং অফার খোঁজেন।

এআই এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটির প্রভাব

এআই (AI) এবং অন্যান্য নতুন প্রযুক্তির কারণে ক্রেতাদের প্রোডাক্ট খোঁজার ধরনটাই বদলে যাচ্ছে। এআই, অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) এবং ডিজিটাল প্ল্যানিং টুলের সাহায্যে ক্রেতারা এখন নিজেদের পছন্দমতো কেনাকাটার অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন। রিপোর্টে এও বলা হয়েছে যে, যেই সমস্ত রিটেলার অগমেন্টেড রিয়েলিটি এবং মডিউলার কনফিগারেটর ব্যবহার করছেন, তাদের আয় প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি প্রোডাক্ট রিটার্ন আসার হারও ২৫ শতাংশ কমে গেছে।

টায়ার-২ শহরেও বাড়ছে বাজার

এই পরিবর্তন শুধু বড় শহরগুলোর মধ্যেই আটকে নেই। ২০২৫ সালের হিসেবে, টিয়ার-২ শহরের পরিবারগুলো ঘরের ইন্টেরিয়রের পেছনে গড়ে ৩.৯ লাখ টাকা খরচ করেছে। যা টিয়ার-১ শহরের খরচের প্রায় ৭৪ শতাংশ।

বদলে যাচ্ছে ক্রেতাদের পছন্দ

রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘরের জিনিসপত্র কেনার ক্ষেত্রে এখন মাত্র চারজনের মধ্যে একজন দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেন। বাকিরা দামের চেয়ে প্রোডাক্টের কোয়ালিটি, টেকসই হওয়া এবং কেনাকাটার সামগ্রিক অভিজ্ঞতার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্রেতা ঘরের জন্য গড়ে চারটির বেশি ক্যাটাগরির জিনিস কেনেন। অর্থাৎ, মানুষ এখন শুধু একটা নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট না কিনে, ঘরের জন্য নানা ধরনের জিনিস একসঙ্গে কিনছেন।

বিশেষজ্ঞদের মত এবং ভবিষ্যৎ

ডেলয়েট সাউথ এশিয়ার পার্টনার এবং কনজ্যুমার ইন্ডাস্ট্রি লিডার আনন্দ রামনাথন বলেন, "ভারতের হোম অ্যান্ড হাউসহোল্ড মার্কেট এখন বৃদ্ধির একটা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সেক্টর ১.৬ গুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রেতাদের কেনাকাটার ধরনও বদলে যাচ্ছে। ডিজিটাল চ্যানেল, ক্রিয়েটর এবং নতুন প্রযুক্তির কারণে ক্রেতারা এখন অনেক বেশি তথ্য পাচ্ছেন। সেই সঙ্গে কোয়ালিটি এবং অভিজ্ঞতার দিক থেকেও তাঁদের প্রত্যাশা বাড়ছে।"

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।