এসবিআই রিসার্চের নতুন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কেন্দ্রের রাজকোষ ঘাটতি বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১.২ লক্ষ কোটি টাকা বেড়ে যেতে পারে। ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং কর আদায় কমার কারণেই সরকারের কোষাগারে এই চাপ বাড়ছে।
নয়াদিল্লি [ভারত], ৩ নভেম্বর (এএনআই): ২০২৬-২৭ অর্থবছরে (FY27) কেন্দ্রের রাজকোষ ঘাটতি বা ফিসক্যাল ডেফিসিট বাজেটের হিসাবের চেয়ে প্রায় ১.২ লক্ষ কোটি টাকা বেড়ে যেতে পারে। এসবিআই রিসার্চ তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে এমনটাই জানিয়েছে। মূলত ভর্তুকি খাতে খরচ বৃদ্ধি এবং কর আদায় কমার কারণেই সরকারের কোষাগারে এই বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজকোষ ঘাটতি জিডিপির ৪.৭ শতাংশে পৌঁছতে পারে। অথচ বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪.৩ শতাংশ। নতুন এই হিসাবটি কষা হয়েছে ২০২২-২৩ সালের জিডিপির ভিত্তিবর্ষ ধরে। অন্যদিকে, বাজেটের হিসাবটি ছিল ২০১১-১২ সালের ভিত্তিবর্ষের ওপর দাঁড়িয়ে। এসবিআই রিসার্চ বলছে, কাঠামোগত কারণ এবং জিডিপির নতুন ভিত্তিবর্ষের প্রভাবেই এই ঘাটতি বাড়ছে।
কোষাগারে এই চাপ বাড়ার পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেমন, আবগারি শুল্ক কমানোয় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১.১ লক্ষ কোটি টাকা। পাশাপাশি, সার খাতে অতিরিক্ত ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং পেট্রোলিয়াম ও রান্নার গ্যাসের (LPG) ভর্তুকি বাবদ প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। তবে এসবিআই রিসার্চ জানিয়েছে, এই বাড়তি ঘাটতি সামাল দিতে সরকারকে নতুন করে ঋণ নিতে হবে না। বরং হাতে থাকা নগদ টাকা আর খরচ কমানোর মাধ্যমেই সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, "রাজকোষ ঘাটতি বাজেটের সীমার মধ্যে রাখতে গেলে সরকারের কাছে একমাত্র উপায় হলো খরচ কমানো।" রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গত তিন বছরে সরকার গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা করে খরচ কমিয়েছে। হিসাব বলছে, ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষে সরকারের হাতে নগদ টাকার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮.৫ লক্ষ কোটি টাকা (কোর লিকুইডিটি অ্যাডজাস্ট করার পর)। ঠিক এক বছর আগে এই অঙ্কটা ছিল ২.২ লক্ষ কোটি টাকা। তবে ২০২৭ সালের মার্চের শেষে এই নগদের পরিমাণ কমে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে।
বন্ড সুইচ এবং বাইব্যাকের কারণে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ইতিমধ্যেই ১.২৩ লক্ষ কোটি টাকা কমেছে। ফলে বাজেটে যেখানে ১৭.২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, বর্তমান হিসাবে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫.৯৭ লক্ষ কোটি টাকায়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধেও সরকারের কোষাগারে এই চাপের ছবিটা স্পষ্ট। গত বছরের তুলনায় রাজকোষ ঘাটতি ২৪.৭ শতাংশ বেড়ে ৭.১৪ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই সময়ে মোট খরচ বেড়েছে ১০.৭ শতাংশ, যেখানে রাজস্ব আদায় বেড়েছে মাত্র ৩.৬ শতাংশ।
এসবিআই রিসার্চ মনে করছে, জিএসটি আদায় বৃদ্ধি, বিলগ্নিকরণ থেকে বেশি আয় এবং মূলধনী ব্যয় (ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার) সামান্য কমালে এই বাড়তি আর্থিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেলে খরচ কমানোটাই সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে চলেছে।






