- Home
- Business News
- LPG Price Hike: ইরান যুদ্ধের কোপ হেঁশেলে? এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম
LPG Price Hike: ইরান যুদ্ধের কোপ হেঁশেলে? এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম
LPG Price Hike: শনিবার, ৭ মার্চ থেকে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ১৪.২ কেজির গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের জন্য এখন আরও বেশি টাকা গুনতে হবে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে ১১৫ টাকা।

যুদ্ধের কোপে গৃহস্থের রান্নাঘার
৭ মার্চ থেকে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল। সূত্র অনুযায়ী, ১৪.২ কেজির গার্হস্থ্য LPG সিলিন্ডারের দাম একবারে ৬০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও ১১৫ টাকা করে বেড়েছে। এর ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বাড়বে।
কলকাতায় ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, দিল্লিতে ১৪.২ কেজি ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম ৮৫৩ টাকা থেকে বেড়ে ৯১৩ টাকা হয়েছে। মুম্বইতে নতুন দাম হয়েছে ৯১২.৫০ টাকা, যা আগে ছিল ৮৫২.৫০ টাকা। কলকাতায় দাম ৮৭৯ টাকা থেকে বেড়ে ৯৩৯ টাকা হয়েছে। আর চেন্নাইতে দাম ৮৬৮.৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯২৮.৫০ টাকা। এই নতুন দাম আজ থেকেই কার্যকর হয়েছে।
কলকাতায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম
বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে। দিল্লিতে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১৭৬৮.৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮৮৩ টাকা। মুম্বইতে দাম ১৭২০.৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮৩৫ টাকা হয়েছে। একইভাবে, কলকাতায় দাম ১৮৭৫.৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৯০ টাকা এবং চেন্নাইতে ১৯২৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪৩.৫০ টাকা হয়েছে।
এপ্রিলেও LPGর দাম বৃদ্ধি
এর আগে, এপ্রিল ২০২৫ থেকে গার্হস্থ্য LPG সিলিন্ডারের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তখন দিল্লিতে ভর্তুকিহীন সিলিন্ডারের দাম ছিল ৮৫৩ টাকা। এবারের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ী, উভয়ের জন্যই বেশ বড় ধাক্কা।
ভারতে জ্বালানী গ্যাসের অভাব নেই
ভারতে জ্বালানির জোগান নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এই দাম বাড়ানো হল। যদিও কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী আশ্বাস দিয়ে বলেছেন যে দেশে শক্তির কোনো অভাব নেই এবং গ্রাহকদের সরবরাহ নিয়ে চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। তিনি এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে বলেন, "আমাদের অগ্রাধিকার হল দেশের নাগরিকদের জন্য সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল জ্বালানি নিশ্চিত করা, এবং আমরা সেটা স্বচ্ছন্দেই করছি। ভারতে শক্তির কোনো অভাব নেই, এবং আমাদের শক্তি গ্রাহকদের চিন্তার কোনো কারণ নেই।"
ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশনের বার্তা
এদিকে, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনও সোশ্যাল মিডিয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের ঘাটতির গুজবকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সংস্থাটি এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "ভারতে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। ইন্ডিয়ান অয়েল সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে বা পেট্রোল পাম্পে ভিড় না করে সঠিক তথ্যের জন্য শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করার অনুরোধ করা হচ্ছে।"
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ভারতের বার্তা
এর আগে শুক্রবার সরকারি সূত্রে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহে বাধার আশঙ্কা সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেল, পেট্রোপণ্য এবং এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারত "খুবই স্বস্তিদায়ক জায়গায়" রয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে যে পরিমাণ সরবরাহ প্রভাবিত হতে পারে, তার চেয়ে অনেক বেশি জ্বালানি ভারত এখন বিভিন্ন উৎস থেকে পাচ্ছে। দেশের বর্তমান অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোপণ্যের মজুতও অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট।
কেন্দ্রের দাবি
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং হরমুজ প্রণালীর সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। তারা আরও জানিয়েছে যে ভারত গত কয়েক বছরে তার অপরিশোধিত তেল আমদানির উৎসগুলিতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৈচিত্র্য এনেছে।
রাশিয়ার তেল
২০২২ সাল থেকে ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। ২০২২ সালে ভারতের মোট তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল মাত্র ০.২ শতাংশ, যা পরবর্তী বছরগুলিতে অনেকটাই বেড়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, "ফেব্রুয়ারিতে ভারত তার মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ২০ শতাংশ রাশিয়া থেকে করেছে, যার পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় ১.০৪ মিলিয়ন ব্যারেল।"
উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ
এলপিজির ক্ষেত্রে, সরকার সমস্ত এলপিজি শোধনাগারকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে যাতে সারা দেশে পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করা যায়। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এলপিজি মজুতের ক্ষেত্রে ভারত বর্তমানে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, জানুয়ারি মাস থেকে আমেরিকা থেকেও এলপিজি ভারতে আসতে শুরু করেছে। ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি নভেম্বর ২০২৫-এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গালফ কোস্ট থেকে ২০২৬ সালের জন্য বছরে প্রায় ২.২ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানির জন্য এক বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

