- Home
- Business News
- Oil Prices: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ, বিশ্ববাজারে আগুন জ্বালানি তেলের দামে! ব্যারেল প্রতি দাম জানলে চমকে উঠবেন
Oil Prices: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ, বিশ্ববাজারে আগুন জ্বালানি তেলের দামে! ব্যারেল প্রতি দাম জানলে চমকে উঠবেন
Oil Prices: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ, বিশ্ববাজারে আগুন জ্বালানি তেলের দামে, ব্যারেল প্রতি দাম জানলে চমকে উঠবেন

Oil prices rise sharply as Middle East tensions grow
বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম একলাফে অনেকটাই বেড়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাত জ্বালানি জোগানের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছেন, কারণ এই অঞ্চলে কোনও সমস্যা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের জোগান ব্যাহত হতে পারে।
ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অশোধিত তেলের ফিউচার দর তিন শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। জানুয়ারি ২০২৫-এর পর এটি সর্বোচ্চ স্তরগুলোর মধ্যে একটি।
Crude oil price on March 5
৫ মার্চ, ২০২৬-এ অশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭৭.৯৪ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ৪.৩৯ শতাংশ বেশি।
তেলের জোগান সুরক্ষিত থাকবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ার ফলেই এই দাম বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত এক মাসে অশোধিত তেলের দাম ২২.৬৪ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় দাম ১৭.৪৫ শতাংশ বেশি। যা জ্বালানির বাজারে একটি শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে।
ঐতিহাসিকভাবে, অশোধিত তেলের দাম একবার ব্যারেল প্রতি ৪১০.৪৫ ডলারের অত্যন্ত উচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল। ট্রেডিং ডেটা অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৫-এ এই রেকর্ড হয়েছিল।
Middle East conflict affecting oil supply
মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাতের কারণেই মূলত তেলের দাম বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে তেল উৎপাদনে এই অঞ্চলের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই এখানে সামান্য সমস্যা হলেও জোগানে তার বড় প্রভাব পড়ে।
বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ইরান ও পারস্য উপসাগরের অন্যান্য দেশগুলোর পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এর ফলে ওই অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি সীমিত হয়ে যেতে পারে।
এই উদ্বেগের কারণে বিশ্ববাজারে একটা চাপা উত্তেজনা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা এই সংঘাতের প্রতিটি আপডেটের দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।
তেলের বাজারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে চিনের একটি সিদ্ধান্ত। তারা তাদের প্রধান শোধনাগারগুলো থেকে ডিজেল ও গ্যাসোলিন রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা বাড়ার কারণেই চিন সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশে বেশি জ্বালানি মজুত রেখে চিন সম্ভাব্য জোগান ঘাটতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
Strait of Hormuz shipping disruption
এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলও প্রভাবিত হয়েছে।
এই সরু জলপথটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের রুট। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে অশোধিত তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এর মধ্যে দিয়ে যায়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় এই এলাকায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এই রুটে বড় কোনও বাধা তৈরি হলে তেলের দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারে।
বিভিন্ন দেশের সরকার এবং শিল্প গোষ্ঠীগুলো তেলের বাজারের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছে। কিছু প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে তেল ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য বিমার ব্যবস্থা করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জলপথে জাহাজগুলোকে নৌবাহিনীর সুরক্ষা দেওয়া।
তবে, এই পদক্ষেপগুলো বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। অনেক ব্যবসায়ীই সতর্ক থাকছেন কারণ এই সংঘাত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দিন চলতে পারে।
US crude inventory provides some relief
দাম বাড়ার এই খবরের মধ্যেও একটি বিষয় বাজারের ভয় কিছুটা কমিয়েছে।
মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (EIA)-এর তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার অশোধিত তেলের মজুত ৩৫ লক্ষ ব্যারেল বেড়েছে। এর ফলে মোট মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৯.৩ মিলিয়ন ব্যারেলে।
এই বৃদ্ধি বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। এটি ইঙ্গিত দেয় যে আমেরিকার কাছে বর্তমানে একটি শক্তিশালী জোগান ভাণ্ডার রয়েছে।
আগামী সপ্তাহগুলোতে বিশ্বজুড়ে জোগান সংকট আরও বাড়লে এই অতিরিক্ত মজুত পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করতে পারে।
How rising crude prices could hit India's growth and inflation
বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়তে থাকলে ভারতের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়তে পারে। এসএমসি গ্লোবাল সিকিউরিটিজের বন্দনা ভারতীর মতে, তেলের দাম প্রতি ১০ ডলার বাড়লে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৫% কমে যেতে পারে। ভারতের প্রায় অর্ধেক অশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয়। তাই হরমুজ প্রণালীর কাছে উত্তেজনা বাড়লে জোগান ব্যাহত হতে পারে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে, টাকার দাম কমতে পারে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ধীর হয়ে যেতে পারে।
আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়েছে, যা বিশ্ববাজারে একটি 'যুদ্ধকালীন প্রিমিয়াম' যোগ করেছে। বিশ্লেষক বন্দনা ভারতী সতর্ক করেছেন যে ভারত একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে, কারণ দেশের প্রায় ৫০% অশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি, বিমার প্রিমিয়াম এবং জোগানের অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং মুদ্রা ও আর্থিক বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে এক সপ্তাহের মধ্যে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৬৯ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট চলতে থাকলে দাম ৮৫-৮৭ ডলারে পৌঁছতে পারে। ভারতের কাছে প্রায় ২৫-৩০ দিনের জরুরি মজুত রয়েছে, কিন্তু জোগান ব্যাহত হলে তা এশিয়ার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, সারের দাম বাড়াতে পারে এবং ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ বাড়াতে পারে।
(এএনআই ইনপুট সহ)