- Home
- Business News
- PM RAHAT Scheme: পথ দুর্ঘটনায় আহতদের দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ফ্রি চিকিৎসা! জানুন পিএম রাহাত প্রকল্পের খুঁটিনাটি
PM RAHAT Scheme: পথ দুর্ঘটনায় আহতদের দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ফ্রি চিকিৎসা! জানুন পিএম রাহাত প্রকল্পের খুঁটিনাটি
PM RAHAT Scheme: পথ দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে তাঁর দ্রুত চিকিৎসা পাওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। টাকার অভাবে যাতে চিকিৎসায় দেরি না হয়, তার জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে এসেছে পিএম রাহাত প্রকল্প।

পিএম রাহাত প্রকল্পে ফ্রি চিকিৎসা
পথ দুর্ঘটনায় আহতরা যাতে ঠিক সময়ে চিকিৎসা পান, তার জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার পিএম রাহাত (PM-RAHAT) প্রকল্প চালু করেছে। এর পুরো নাম 'প্রাইম মিনিস্টারস রোড অ্যাক্সিডেন্ট হসপিটালাইজেশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট'। সারা দেশে ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এই প্রকল্প শুরু হয়। দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা প্রাণ বাঁচানোর জন্য সবচেয়ে জরুরি। টাকার অভাবে বা হাসপাতালের বিলের ভয়ে যাতে এই সময়ে চিকিৎসায় দেরি না হয়, সেটাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক এই বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকা জারি করেছে।

দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ফ্রি চিকিৎসা
এই প্রকল্পের আওতায় মোটর গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত প্রত্যেক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। দুর্ঘটনার দিন থেকে টানা সাত দিন পর্যন্ত এই সুবিধা মিলবে। তবে চিকিৎসার খরচ দেড় লাখ ছাড়িয়ে গেলে বা সাত দিন পার হয়ে গেলে, বাকি খরচ নিজেকেই টানতে হবে। দুর্ঘটনা কোন রাস্তায় ঘটেছে, তার উপর ভিত্তি করে কাউকে ফেরানো যাবে না। তবে দুর্ঘটনায় মোটর গাড়ির যোগ থাকা বাধ্যতামূলক। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পকেট থেকে টাকা দেওয়ার চাপ কমাতেই এই দারুণ সুবিধা আনা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় পড়লে ১১২ নম্বরে কল করুন
রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটলে আহত ব্যক্তি, তাঁর সঙ্গী বা প্রত্যক্ষদর্শীরা সরাসরি ১১২ এমার্জেন্সি নম্বরে কল করতে পারেন। এখান থেকেই কাছাকাছি থাকা অনুমোদিত হাসপাতাল ও অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ মিলবে। সাধারণ আঘাতের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা এবং প্রাণঘাতী আঘাতের ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। যারা দুর্ঘটনায় আহতদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন, তাঁদের 'রাহ বীর' হিসেবে উৎসাহ দেওয়া হয়। তবে সাহায্য করার আগে নিজের সুরক্ষার দিকটি নিশ্চিত করে ইমার্জেন্সি নম্বরে কল করা বুদ্ধিমানের কাজ।
কীভাবে কাজ করে এই প্রকল্প?
এই সুবিধার জন্য আগে থেকে অনলাইনে আবেদন করে বসে থাকার দরকার নেই। আহত ব্যক্তিকে অনুমোদিত হাসপাতালে ভর্তি করলেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রেশন ও ভেরিফিকেশনের কাজ সেরে চিকিৎসা শুরু করবে। দুর্ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করার ই-ড্যার (e-DAR) পোর্টাল এবং জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের (NHA) আইটি সিস্টেম একসঙ্গে যুক্ত রয়েছে। গাড়িটির ইনস্যুরেন্স করা থাকলে মোটর ভেহিকেল অ্যাক্সিডেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে খরচ মেটানো হয়। আর ইনস্যুরেন্স না থাকলে সরকারি তহবিল থেকে টাকা দেওয়া হয়। তাই পকেটে টাকা না থাকলেও দ্রুত চিকিৎসা পেতে কোনো সমস্যা হয় না।
হাসপাতাল ফেরালে কী করবেন?
আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বা প্রকল্পের সুবিধা পেতে কোনো সমস্যা হলে জেলা স্তরের সড়ক নিরাপত্তা কমিটির কাছে যাওয়া যায়। জেলা শাসকের নেতৃত্বে থাকা এই কমিটির কাছে সরাসরি অভিযোগ জানানো সম্ভব। এছাড়া ১১২ নম্বরে কল করে বা রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানোর নম্বর পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার সময় ও অন্যান্য প্রমাণ গুছিয়ে রাখা এক্ষেত্রে খুব কাজে দেয়। মনে রাখবেন, এই প্রকল্পে সব ধরনের চিকিৎসার খরচ দেওয়া হয় না। ১.৫ লক্ষ টাকা এবং সাত দিনের নিয়মটি মাথায় রাখতে হবে। তাই দুর্ঘটনার পর টাকার কথা না ভেবে সবার আগে ১১২ নম্বরে কল করে প্রাণ বাঁচানোই সবচেয়ে জরুরি।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

