নিজের জনঔষধি কেন্দ্র খুলে মাসে ভালো আয় করতে চান? সরকার PMBJP স্কিমের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে। মহিলা, SC/ST, প্রতিবন্ধী এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠী আবেদনে অগ্রাধিকার পাবেন।

বাজারের দামের তুলনায় ৫০% থেকে ৯০% কম দামে জেনেরিক ওষুধ পাওয়া যায় প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি কেন্দ্রে। আর এই কেন্দ্র খুলেই এখন হাজার হাজার মানুষ স্বনির্ভর হচ্ছেন। সরকার চাইছে দেশের প্রতিটা কোণায় সস্তার ওষুধ পৌঁছে যাক। তাই PMBJP স্কিমের মাধ্যমে নতুন কেন্দ্র খোলার জন্য ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। দোকান সাজানো থেকে শুরু করে প্রথম দফার ওষুধ কেনা, সবেতেই সরকার পাশে থাকবে।

২ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা: কেন্দ্র খোলার জন্য সরকার মোট ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচের মধ্যে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেয়। এর সাথে প্রতিটা ওষুধ বিক্রির উপর ১৫% মার্জিন তো পাবেনই। তার উপর প্রতি মাসে বিক্রির উপর আরও ১৫% ইনসেনটিভ দেওয়া হয়, যা সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

যারা প্রথমবার দোকান খুলছেন তাদের জন্য কম্পিউটার, প্রিন্টার, আলমারি আর ফ্রিজ কেনার জন্য ৫০,০০০ টাকার আলাদা রিইম্বার্সমেন্টও রয়েছে। আর আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, মহিলা উদ্যোক্তা, SC/ST এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ লাখ টাকার বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা আছে। মানে সাধারণ আবেদনকারীর তুলনায় তারা বেশি সুবিধা পাবেন।

যোগ্যতা আর প্রয়োজনীয় কাগজ: আবেদন করার জন্য আপনাকে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং ন্যূনতম ১২ ক্লাস পাশ হতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হল আপনার http://D.Pharma বা http://B.Pharma ডিগ্রি থাকতে হবে অথবা একজন রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টকে নিয়োগ করতে হবে। কারণ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রে একজন যোগ্য ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক।

জায়গার ক্ষেত্রে নিজস্ব বা ভাড়া দোকান লাগবে যার সাইজ কমপক্ষে ১২০ স্কোয়ার ফুট। সরকারি হাসপাতাল, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার বা পঞ্চায়েত ভবনের কাছাকাছি জায়গা হলে আবেদন দ্রুত অনুমোদন পায়। আবেদনের সময় আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুক, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট, ফার্মাসিস্ট রেজিস্ট্রেশন আর দোকানের ভাড়া বা মালিকানার কাগজ জমা দিতে হবে।

অনলাইন প্রক্রিয়া একদম সহজ: আবেদন করতে হবে PMBJP-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট http://janaushadhi.gov.in এ গিয়ে। ওখানে "Apply for Kendra" অপশনে ক্লিক করে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। তারপর সব কাগজ স্ক্যান করে আপলোড করে সাবমিট করে দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে BPPI টিম ভেরিফিকেশন করে অনুমোদন দেয়। অনুমোদন পেয়ে গেলে কোম্পানিই আপনাকে ওষুধ সাপ্লাই, দোকানের ব্র্যান্ডিং এবং ট্রেনিং দিয়ে সাহায্য করবে। একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, একটা পঞ্চায়েত বা ৩ কিমি এরিয়ার মধ্যে সাধারণত ১টার বেশি কেন্দ্র অনুমোদন হয় না।

ব্যবসা ও সমাজসেবা একসাথে

জনঔষধি কেন্দ্র শুধু ব্যবসা নয়, এটা একটা সমাজসেবাও। গ্রামের মানুষ কম দামে ভালো ওষুধ পাবে আর আপনি পাবেন স্থায়ী আয়। বর্তমানে দেশে ১৪,০০০-এর বেশি জনঔষধি কেন্দ্র চলছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৬-এর মধ্যে এই সংখ্যা ২৫,০০০-এ নিয়ে যাওয়া। তাই নিজের ব্যবসা শুরু করার জন্য এখনই সঠিক সময়।