এলআইসি বা Life Insurance Corporation of India (LIC)-এর ‘জীবন প্রগতি’ পরিকল্পনা কম বিনিয়োগে বড় সঞ্চয় ও বাড়তে থাকা লাইফ কভারের সুযোগ দেয়। প্রতিদিন প্রায় ২০০ টাকা জমালে মাসে ৬,০০০ টাকা বিনিয়োগ হয় এবং ২০ বছরে বোনাস-সহ প্রায় ২৫-২৮ লক্ষ টাকা পাওয়া সম্ভব। 

দেশে আর্থিক নিরাপত্তার কথা উঠলেই যে নামটি এখনও কোটি মানুষের মনে ভরসা জাগায়, তা হল এলআইসি বা Life Insurance Corporation of India (LIC)। সময় বদলেছে, খরচ বেড়েছে, অনিশ্চয়তাও আগের থেকে অনেক বেশি—তবুও একটি বিষয় অপরিবর্তিত: ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার প্রয়োজন। আর সেই প্রয়োজন থেকেই ফের আলোচনায় LIC-এর ‘জীবন প্রগতি’ পরিকল্পনা, যা কম টাকায় বড় সঞ্চয় এবং বাড়তে থাকা লাইফ কভারের এক অনন্য সমন্বয়। 

ভাবুন তো, প্রতিদিনের খরচের ভিড়ে ২০০ টাকা আলাদা করে রাখা কি খুব কঠিন? অনেক সময়ই এই অঙ্কটাই অজান্তে খরচ হয়ে যায়। অথচ সেই সামান্য টাকাই যদি নিয়ম করে বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে সময়ের সঙ্গে তা বড় আকার নিতে পারে। মাসে প্রায় ৬,০০০ টাকা এবং বছরে একটি উল্লেখযোগ্য সঞ্চয়—এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে ২০ বছর পর বোনাস-সহ মোট রিটার্ন প্রায় ২৫ থেকে ২৮ লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ, ছোট পদক্ষেপ থেকেই তৈরি হতে পারে বড় আর্থিক সুরক্ষা। তবে ‘জীবন প্রগতি’কে আলাদা করে তোলে শুধু এই সঞ্চয়ের অঙ্ক নয়, এর বুদ্ধিদীপ্ত কাঠামো। এই পলিসির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল—সময় যত এগোয়, লাইফ কভারও তত বাড়ে। সাধারণ বিমা পলিসিতে যেখানে কভারেজ স্থির থাকে, সেখানে এখানে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বিমার অঙ্ক বৃদ্ধি পায়। ফলে জীবনের প্রতিটি ধাপে—চাকরি, পরিবার, সন্তানের দায়িত্ব—আপনার আর্থিক সুরক্ষাও ধাপে ধাপে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ধরা যাক, আপনি একটি নির্দিষ্ট সাম অ্যাসিওরড দিয়ে পলিসি শুরু করলেন। প্রথম পাঁচ বছর সেটিই কার্যকর থাকবে। কিন্তু এরপরই শুরু হবে বৃদ্ধির ধাপ—পরবর্তী পাঁচ বছরে কভার বাড়বে, তার পরের পাঁচ বছরে আরও বৃদ্ধি পাবে, এবং মেয়াদের শেষদিকে তা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান সুরক্ষা বিশেষ করে তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাঁদের ওপর পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব রয়েছে। 

পলিসির মেয়াদ সাধারণত ১২ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রাখা যায়, এবং নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে থেকেই এতে বিনিয়োগ শুরু করতে হয়। প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে যথেষ্ট নমনীয়তা—বার্ষিক, অর্ধবার্ষিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থ জমা দেওয়া সম্ভব। ফলে নিজের আয় অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজানো যায় সহজেই। আরও একটি বড় দিক হল, এটি একটি নন-লিঙ্কড পলিসি। অর্থাৎ, শেয়ার বাজারের ওঠানামার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে বাজারের ঝুঁকি এড়িয়ে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রিটার্ন পাওয়া যায়। যারা ঝুঁকি কম রেখে নিশ্চিত সঞ্চয়ের পথে হাঁটতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি নিরাপদ বিকল্প হিসেবেই ধরা হয়। এছাড়াও, পলিসিহোল্ডারের অকাল মৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তি শুধু বিমার মূল অঙ্কই পান না, তার সঙ্গে যুক্ত হয় জমা হওয়া বোনাস এবং চূড়ান্ত অতিরিক্ত বোনাসও। ফলে পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা আরও দৃঢ় হয়। 

আবার জীবনের অনিশ্চয়তা মাথায় রেখে রাখা হয়েছে সারেন্ডার সুবিধাও—সাধারণত তিন বছর প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনে পলিসি বন্ধ করে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেরত নেওয়া যায়। বর্তমান সময়ে যখন প্রতিটি সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের উপর প্রভাব ফেলে, তখন সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। শুধু সঞ্চয় করলেই হবে না, সেই সঞ্চয়কে সুরক্ষিত রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতেই ‘জীবন প্রগতি’ পরিকল্পনাকে অনেকেই কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখছেন। সবশেষে একটাই কথা—বড় সঞ্চয়ের জন্য সবসময় বড় বিনিয়োগ দরকার হয় না। প্রয়োজন নিয়মিততা, ধৈর্য এবং সঠিক পরিকল্পনা। প্রতিদিনের ছোট্ট ২০০ টাকার অভ্যাসই ভবিষ্যতে আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য গড়ে তুলতে পারে এক শক্ত আর্থিক ভিত্তি।