SEBI SEBI-র ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭.৭% জিডিপি বৃদ্ধির হাত ধরে ২০২৬-২৭ সালে ভারতের বাজার মজবুত থাকবে। তবে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, জিনিসপত্রের চড়া দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগের ওঠাপড়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে।

SEBI: সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI) তাদের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে(SEBI Annual Report) জানিয়েছে যে, ২০২৬-২৭ সালে ভারতের আর্থিক বাজার দেশের মজবুত অর্থনীতির কারণে শক্তিশালী থাকবে। তবে রিপোর্টে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, জিনিসপত্রের চড়া দাম এবং বিদেশি বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা।

অর্থনৈতিক শক্তি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালে বিশ্বজুড়ে প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি বেশ শক্তিশালী ছিল। তার মূল কারণ হল, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, সরকারি মূলধনী ব্যয় এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। এই অর্থবর্ষে আসল জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৭ শতাংশ, যা আগের বছরের ৭.১ শতাংশের থেকে বেশি। দেশের মোট জিডিপির (নমিনাল) মধ্যে ব্যক্তিগত কেনাকাটার ভাগ ছিল ৫৬.৭ শতাংশ এবং বিনিয়োগের ভাগ ছিল ৩১.৯ শতাংশ।

আরও পড়ুনঃ RBI Repo Rate: রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, তবে ভবিষ্যতে কমার সুযোগ কম?

তবে আগামী দিনেও বিশ্ব পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। IMF-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৫ শতাংশ, যেখানে গোটা বিশ্বের বৃদ্ধির হার মাত্র ৩.১ শতাংশ। ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে, সংস্থাগুলির আর্থিক অবস্থাও ভালো এবং দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও ভরসা জোগাচ্ছে। এই কারণগুলির জন্য ভারত অন্যদের থেকে ভালো ফল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মিডল ইস্টের সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তাহলে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি বাড়তে পারে এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপও তৈরি হতে পারে।

বাজারের পারফরম্যান্স এবং বিনিয়োগের স্রোত

২০২৫-২৬ সালটা ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য বেশ কঠিন ছিল। ডলারের হিসেবে নিফটি ৫০ এবং অন্যান্য প্রধান সূচকগুলি প্রায় ১৪ শতাংশ পড়ে যায়। তার কারণ হল, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) লাগাতার শেয়ার বিক্রি, টাকার দাম কমে যাওয়া, বাজারের ভ্যালুয়েশন নিয়ে উদ্বেগ এবং মিডল ইস্টের সংঘাতের প্রভাব। তবে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা, বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ডগুলি, বিপুল বিনিয়োগ করে বাজারকে অনেকটাই সামাল দিয়েছে। এই বছরে FPI-রা রেকর্ড ১৯.৭ বিলিয়ন ডলার বাজার থেকে তুলে নিয়েছে। তবে SEBI এটাও জানিয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন নতুন করে সাজানো হলে ভারতের জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। মিডল ইস্টের সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হলে এবং জ্বালানির দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে বিদেশি বিনিয়োগ আবার বাড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া-তে কর্মী নিয়োগ, দেখে নিন কারা করতে পারবেন আবেদন

জিনিসপত্রের দামের ঝুঁকি

জিনিসপত্রের দামও একটা বড় চিন্তার কারণ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানির খরচ বাড়বে। যার ফলে, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি দেখা দেবে এবং মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকিও অনেকটা বাড়বে। তাই দেশের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম ভান্ডার, বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা দিয়ে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি হবে। সবমিলিয়ে, SEBI-র মূল্যায়ন হল, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো। কিন্তু বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি, জ্বালানির দাম এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের গতিপ্রকৃতির উপর।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।