টানা বেশ কয়েকদিন পতনের পর ভারতীয় শেয়ার বাজারে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন ঘটেছে, যেখানে সেনসেক্স প্রায় ৫০০ পয়েন্ট এবং নিফটি ১০০ পয়েন্টের বেশি বেড়েছে।

Share Market Today: টানা বেশ কয়েকদিন পতনের পর বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন দেখা গেছে। সেনসেক্স প্রায় ৫০০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,৪৬৮-তে পৌঁছেছে, অন্যদিকে নিফটি ৫০-ও ১০০ পয়েন্টের বেশি শক্তিশালী হয়ে ২৪,২০০-এর উপরে লেনদেন হয়েছে। বাজারের এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

এর আগে, নিফটি টানা সাতটি ট্রেডিং সেশনে পড়ে গিয়েছিল। সেনসেক্সও টানা চারবার পতনের শিকার হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের এই উত্থানের কারণ হিসেবে শর্ট-কভারিং এবং উন্নত বৈশ্বিক সংকেতকে দায়ী করা হচ্ছে। মিড-ক্যাপ এবং স্মল-ক্যাপ স্টকগুলিতেও উল্লেখযোগ্য ক্রয় দেখা গেছে। নিফটি মিডক্যাপ ১০০ এবং নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ উভয়ই অর্ধ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সেনসেক্স স্টকের উত্থান

সেনসেক্সের ৩০টি স্টকই ইতিবাচক ধারায় লেনদেন হচ্ছিল। ইনফোসিস, ইন্ডিগো, টিসিএস, বাজাজ ফাইন্যান্স এবং টেক মাহিন্দ্রা ছিল প্রধান লাভবানদের মধ্যে, যেগুলোর শেয়ারের দাম প্রায় ১-২% বেড়েছে। পাওয়ার গ্রিড, বিইএল, এসবিআই, ভারতী এয়ারটেল, আইটিসি, এইচডিএফসি ব্যাংক, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এইচসিএল টেক-এর শেয়ারের দামও প্রায় ১% বেড়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, বাজার হঠাৎ করে কেন এতটা ঊর্ধ্বমুখী হলো? এর পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

১. মার্কিন বন্ডের ইল্ড কমে যাওয়া

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদী সরকারি বন্ডের ইল্ড কমে যাওয়া বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি দীর্ঘমেয়াদী বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি বন্ডের ইল্ডকে প্রভাবিত করেছে। ১০-বছর মেয়াদী মার্কিন বন্ডের ইল্ড কমে প্রায় ৪.৬৩৭%-এ এবং ৩০-বছর মেয়াদী ইল্ড কমে ৫.১৮১%-এ দাঁড়িয়েছে। বন্ডের ইল্ড কমে যাওয়ায় শেয়ার বাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলোর জন্য পরিবেশ উন্নত হতে পারে।

২. রুপির শক্তিশালী হওয়া

বৃহস্পতিবারের প্রথম দিকের লেনদেনে ডলারের বিপরীতে রুপি ১৭ পয়সা শক্তিশালী হয়ে ৯৫.৫৬-এ পৌঁছেছে। ডলারের দুর্বলতার কারণে রুপি সমর্থন পেয়েছে। তবে, অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯২ ডলারের উপরেই রয়েছে। তেলের এই চড়া দাম রুপির শক্তিকে সীমিত করতে পারে।

৩. শর্ট-কভারিং বাজারকে সমর্থন জোগাচ্ছে

টানা সাত দিন পতনের পর বাজারে শর্ট-কভারিং দেখা গেছে। গত সাত সেশনে নিফটির দর ২%-এর বেশি কমে গিয়েছিল, যা প্রায় ১১ মাসের মধ্যে এর দীর্ঘতম পতন। বাজারের পতনের আশঙ্কায় যারা শর্ট পজিশন নিয়েছিলেন, সেই ট্রেডাররা মুনাফা তুলতে বা লোকসান কমাতে শেয়ার কিনেছেন, যা বাজারকে চাঙ্গা করেছে।

৪. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্রয়

বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও (FIIs) বাজারে শেয়ার কিনছেন। এনএসই-র প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বুধবার প্রায় ৪০৮ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। আগের ট্রেডিং সেশনেও FII-রা প্রায় ২,৫৭৩ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছিল। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই ক্রয় বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ।

৫. বিশ্ববাজার থেকে ভালো সংকেত

ভারতীয় বাজার অন্যান্য এশীয় বাজার থেকেও সমর্থন পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। জাপানের নিক্কেই এবং হংকংয়ের হ্যাং সেংও ১ শতাংশের বেশি শক্তিশালী হয়েছে। আগের সেশনে মার্কিন বাজারেও লাভ দেখা গেছে। প্রযুক্তি খাতের অন্যতম প্রধান স্টক নাসডাক প্রায় ০.১৬ শতাংশ বেড়ে বন্ধ হয়েছে। এই সংকেতগুলো ভারতীয় বাজারকেও প্রভাবিত করেছে।

বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ কী হবে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান এই ঊর্ধ্বগতিকে সম্পূর্ণ প্রবণতা পরিবর্তনের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। নিফটির জন্য ২৪,৩০০ স্তরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি সূচকটি এই স্তরের উপরে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে, তবে ২৪,৪৫০-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ২৪,০০০ স্তরটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদি নিফটি ২৪,০০০-এর নিচে নেমে যায়, তবে ২৩,৮০০-এর দিকে পতনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।