আপনি কি সোনার গয়নার ওপর লেখা '916', '750' বা '585' এই নম্বরগুলোর মানে জানেন? এগুলো আসলে এক ধরনের কোড, যা সোনা কেনার সময় আপনাকে সতর্ক করে। এই নম্বরগুলো চিনতে পারলে আসল সোনা কেনা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক এই কোডগুলোর মানে এবং সোনা কেনার আগে কোন ৫টা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

Gold Buying Tips: একদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদী এক বছর সোনা না কেনার জন্য আবেদন জানিয়েছেন, অন্যদিকে সোনার দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। IBJA (ইন্ডিয়ান বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন) অনুযায়ী, ১২ মে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ১,৬০০ টাকা বেড়ে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫১,৯৫০ টাকা হয়েছে। আজকের দিনে যখন সোনার দাম আকাশছোঁয়া, তখন আপনার একটা ছোট্ট ভুল হাজার হাজার টাকার লোকসান করে দিতে পারে। আপনি যখন আপনার সোনার আংটি বা চেন ভালো করে দেখেন, তখন তাতে 916, 750 বা 585-এর মতো ছোট ছোট নম্বর দেখতে পান। অনেকেই ভাবেন এটা হয়তো কোনো ডিজাইন বা সিরিয়াল নম্বর, কিন্তু আসলে এই নম্বরগুলোই বলে দেয় আপনার সোনা কতটা খাঁটি। আসুন, এই নম্বরগুলোর মানে আর সোনা কেনার আগে যে ৫টা বিষয় অবশ্যই জানা উচিত, সেগুলো জেনে নিই...

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গয়নার ওপর এই নম্বরগুলো থাকে কেন?

999 মানে কী (২৪ ক্যারেট)

আপনি যখন সোনা কিনতে যান, তখন দোকানদার বলেন, 'এটা ২২ ক্যারেট' বা 'এটা ১৮ ক্যারেট'। এই নম্বরগুলোর সঙ্গে ক্যারেট অর্থাৎ সোনার বিশুদ্ধতার সরাসরি সম্পর্ক আছে। 999 হলো সবচেয়ে খাঁটি সোনা (99.9%), কিন্তু এটা এতটাই নরম হয় যে তা দিয়ে গয়না বানানো যায় না। এটা শুধু সোনার কয়েন বা বিস্কুট বানানোর কাজেই ব্যবহার হয়।

916 মানে কী (২২ ক্যারেট)

ভারতে সবচেয়ে বেশি এই সোনাটাই বিক্রি হয়। এর মানে হলো, এতে 91.6% খাঁটি সোনা আছে আর বাকি অংশে রুপো বা তামা মেশানো থাকে, যাতে গয়না মজবুত হয়।

750 মানে কী (১৮ ক্যারেট)

এতে 75% খাঁটি সোনা থাকে। আপনি যদি হীরে (Diamond) বা দামি পাথর বসানো গয়না কেনেন, তাহলে তাতে এই নম্বরটাই দেখতে পাবেন। কারণ হীরে বসানোর জন্য সোনা একটু শক্ত হওয়া দরকার।

585 মানে কী (১৪ ক্যারেট)

এতে 58.5% সোনা থাকে। এটা সাধারণত রোজকার ব্যবহারের জন্য বা হালকা ওজনের আধুনিক ডিজাইনের গয়নায় ব্যবহার করা হয়।

সোনা কেনার আগে এই ৫টি বিষয় জেনে নিন

১. শুধু নম্বর নয়, 'লোগো'-ও দেখুন

শুধু 916 লেখা থাকাই যথেষ্ট নয়। গয়নার ওপর BIS (Bureau of Indian Standards)-এর ত্রিভুজ আকৃতির লোগোটা অবশ্যই দেখে নেবেন। এটা এই গ্যারান্টি দেয় যে সোনার বিশুদ্ধতা সরকারি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।

২. HUID কোডই আসল সুরক্ষা

এখন নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক গয়নার ওপর ৬ সংখ্যার একটা কোড (HUID) থাকে। এটা প্রত্যেক গয়নার নিজস্ব 'আধার নম্বর'-এর মতো। আপনি 'BIS Care' অ্যাপে এই কোডটা দিয়ে নিজেই চেক করে নিতে পারবেন সোনা আসল না নকল।

৩. ডায়মন্ড জুয়েলারির অঙ্কটা আলাদা

অনেকেই হীরের গয়নাও ২২ ক্যারেটে খোঁজেন। মনে রাখবেন, দামি হীরে আর পাথর সবসময় ১৮ ক্যারেট (750) বা ১৪ ক্যারেট (585) সোনাতেই সেট করা হয়, যাতে সেগুলো সহজে খুলে না যায়।

৪. বিলের হিসেবটা বুঝুন

দোকানদার বোর্ডের ওপর যে দামটা লিখে রাখে, সেটা শুধু সোনার দাম। আপনার ফাইনাল বিলে মেকিং চার্জ (গড়ন), ওয়েস্টেজ আর GST-ও যোগ হয়। তাই স্ট্যাম্প দেখার পাশাপাশি এই চার্জগুলো নিয়েও কথা বলুন।

৫. বিশুদ্ধতা মানেই বেশি দাম

নম্বর যত বড় হবে (যেমন 916), সোনার দামও তত বেশি হবে। আপনি যখন পুরনো সোনা বিক্রি করতে যাবেন, তখন এই নম্বরটাই ঠিক করে দেবে আপনি কত টাকা ফেরত পাবেন।