আপনার PAN কার্ড আছে মানেই নিশ্চিন্ত? যদি আপনি ব্যবসায়ী হন, প্রফেশনাল হন বা কারও বেতন/ভাড়া থেকে TDS কাটেন, তাহলে PAN-এর সাথে TAN কার্ডও বাধ্যতামূলক। TAN অর্থাৎ Tax Deduction and Collection Account Number ছাড়া TDS কাটা বা জমা দেওয়া বেআইনি। কাদের লাগবে, কীভাবে বানাবেন, রইল A to Z গাইড।

PAN কার্ড নিয়ে আমরা সবাই সচেতন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে ৫০ হাজারের বেশি লেনদেন – সবেতেই PAN মাস্ট। কিন্তু ‘TAN’ শব্দটা শুনলেই অনেক ব্যবসায়ী বা অফিসের HR ঘাবড়ে যান। TAN জিনিসটা কী?

সহজ করে বললে, PAN হল আপনার ট্যাক্স দেওয়ার নম্বর। আর TAN হল অন্যের হয়ে ট্যাক্স কেটে সরকারকে জমা দেওয়ার নম্বর। ইনকাম ট্যাক্স আইন বলছে, আপনি যদি কারও আয় থেকে ট্যাক্স কেটে রাখেন, অর্থাৎ TDS বা TCS করেন, তাহলে আপনার TAN থাকতেই হবে।

*TAN কার্ড ঠিক কাদের লাগবে?*

*১. ব্যবসায়ী/কোম্পানি:* আপনি যদি আপনার কর্মচারীর বেতন থেকে TDS কাটেন। অথবা কনট্রাক্টর, প্রফেশনাল ফি, বাড়ি ভাড়া, কমিশন ৩০ হাজার টাকার বেশি পেমেন্ট করেন এবং তার থেকে TDS কাটেন।

*২. বাড়ির মালিক:* কোম্পানিকে অফিস বা দোকান ভাড়া দিয়েছেন? মাসে ৫০,০০০ টাকার বেশি ভাড়া হলে কোম্পানি আপনার থেকে TDS কাটবে। সেই TDS জমা দিতে তাদের TAN লাগবে।

*৩. সরকারি অফিস, ব্যাঙ্ক, স্কুল:* যারা বেতন বা পেমেন্ট দেয়।

*৪. NGO বা ট্রাস্ট:* যারা বেতন দেয় বা ডোনেশনের উপর TCS কাটে।

*সংক্ষেপে:* আপনি যদি TDS কাটেন বা কালেক্ট করেন, TAN আপনার জন্য বাধ্যতামূলক। শুধু নিজের ট্যাক্স দিলে বা বেতন পেলে PAN-ই যথেষ্ট, TAN লাগবে না।

*PAN আর TAN-এর মধ্যে ৩টি বড় পার্থক্য:*

*১. কাজ:* PAN দিয়ে সরকার আপনার আয়ের হিসাব রাখে। TAN দিয়ে সরকার বোঝে আপনি অন্যের ট্যাক্স ঠিকমতো কেটে জমা দিচ্ছেন কি না।

*২. ফরম্যাট:* PAN ১০ সংখ্যার আলফানিউমেরিক, যেমন ABCDE1234F। TAN-ও ১০ সংখ্যার, কিন্তু শুরু হয় এলাকার কোড দিয়ে, যেমন CALA12345B।

*৩. কার্ড:* PAN কার্ড সবার থাকে। TAN কার্ড শুধু TDS কাটে যারা তাদের লাগে। এক ব্যক্তির একটাই PAN, কিন্তু ব্যবসার আলাদা ব্রাঞ্চ হলে একাধিক TAN থাকতে পারে।

*TAN না থাকলে কী বিপদ?*

ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্টের সেকশন 203A অনুযায়ী, TAN ছাড়া TDS কাটলে বা TDS রিটার্নে TAN না দিলে *প্রতিদিন ১০,০০০ টাকা জরিমানা* হতে পারে। যতদিন না TAN নিচ্ছেন, ততদিন জরিমানা চলবে। এছাড়া TDS সার্টিফিকেট অর্থাৎ ফর্ম 16 বা 16A ইস্যু করতে পারবেন না। ফলে যার টাকা কেটেছেন তার ট্যাক্স রিফান্ড আটকে যাবে, আইনি ঝামেলায় পড়বেন আপনি।

*TAN কার্ড বানাবেন কীভাবে? অনলাইন পদ্ধতি:*

*ধাপ ১:* NSDL-এর ওয়েবসাইটে যান। ‘TAN’ সেকশনে গিয়ে ‘Apply Online’ ক্লিক করুন। ফর্ম 49B খুলবে।

*ধাপ ২:* ক্যাটাগরি সিলেক্ট করুন – কোম্পানি, ফার্ম, ইন্ডিভিজুয়াল। নাম, ঠিকানা, AO কোড দিন। AO কোড না জানলে ইনকাম ট্যাক্সের ওয়েবসাইটে ‘Know Your AO’ থেকে জেনে নিন।

*ধাপ ৩:* ফর্ম ফিলাপ করে সাবমিট করুন। ১৪ সংখ্যার অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর পাবেন।

*ধাপ ৪:* ফর্ম প্রিন্ট করে সই করুন। তার সাথে ঠিকানার প্রমাণ, আইডি প্রুফের কপি দিয়ে NSDL অফিসে পাঠান। ফি লাগবে ৬৫ টাকা + GST।

*ধাপ ৫:* ১৫ দিনের মধ্যে স্পিড পোস্টে বাড়িতে TAN কার্ড চলে আসবে। অনলাইনেও স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারবেন।

*মনে রাখুন ৩টি জরুরি কথা:*

*১. এক TAN বহু কাজ:* একটা TAN দিয়েই সব ধরনের TDS জমা দেওয়া যায়। আলাদা আলাদা লাগে না।

*২. রিটার্ন ফাইল মাস্ট:* TAN থাকলেই ত্রৈমাসিক TDS রিটার্ন ফাইল করতে হবে। না করলে প্রতি দিন ২০০ টাকা লেট ফি।

*৩. PAN-TAN লিঙ্ক নয়:* PAN আর TAN লিঙ্ক করার দরকার নেই। দুটো আলাদা কাজের জন্য।

আপনার অফিসে যদি ২-৩ জন কর্মচারীও থাকে আর বেতন থেকে ট্যাক্স কাটেন, আজই TAN-এর জন্য অ্যাপ্লাই করুন। ৬৫ টাকার কার্ড না বানিয়ে দিনে ১০,০০০ টাকা জরিমানা গুনতে কেউ চাইবে না। সাবধান থাকুন, আইন মেনে চলুন।