অনেকেই মনে করেন প্রয়োজন হলে তারা পুরো ব্যালেন্স তুলে নিতে পারবেন, তবে তা হয় না। আপনি অবসর গ্রহণ করলে বা কমপক্ষে দুই মাস বেকার থাকলে তবেই সম্পূর্ণ সেটেলমেন্ট পাওয়া যায়। চাকরি করার সময় শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট কারণে আংশিক উত্তোলন পাওয়া যায়।

প্রভিডেন্ট ফান্ডের (PF) টাকা তোলার জন্য এখন কড়া ই-কেওয়াইসি (e-KYC) যাচাইকরণ, আধার কার্ডের সাথে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক এবং ব্যাঙ্কের সঠিক তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় দাবি বাতিল হতে পারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চাকরি ছাড়ার ২ মাস পর সম্পূর্ণ টাকা তোলা যায়, তবে এখন ৭৫% টাকা ১ মাস পরেই তোলা সম্ভব এবং বাকি ২৫% পরবর্তীকালে তোলা যায়।

কর বাঁচানোর জন্য পিএফ তোলাও সঠিক উপায় নয়। যদি আপনি ৫ বছর আগে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেন এবং টাকার পরিমাণ 50000 টাকার বেশি হয়, তাহলে টিডিএস কাটবেই। ফর্ম পূরণ করলেও এই নিয়ম বদলায় না। তাই পিএফকে কর বাঁচানোর উপায় মনে করা ভুল হতে পারে।

*পিএফ (EPF) টাকা তোলার বিস্তারিত নিয়ম*:

• আবশ্যিক শর্ত: আপনার Universal Account Number (UAN) সক্রিয় থাকতে হবে এবং আধার কার্ডের সাথে লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বর চালু থাকতে হবে।

• সম্পূর্ণ টাকা (Full Withdrawal): অবসর গ্রহণ (৫৮ বছর বয়সে) বা চাকরি ছাড়ার ২ মাস পর সম্পূর্ণ টাকা তোলা যায়।

• আংশিক টাকা (Partial Withdrawal): বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে (যেমন- চিকিৎসা, বিয়ে, শিক্ষা বা বাড়ি কেনা) চাকরি থাকা অবস্থায় নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা তোলা যায়।

• টাকা তোলার কারণ: এখন টাকা তোলার কারণগুলোকে প্রধান ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে:

অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন (অসুস্থতা, শিক্ষা, বিয়ে), বাসস্থান এবং বিশেষ পরিস্থিতি।

• অনলাইন আবেদন: EPFO-এর মেম্বার পোর্টালে (Unified Portal) লগ-ইন করে ফর্ম ১৯ (চূড়ান্ত সেটেলমেন্ট), ১০সি (পেনশন) বা ৩১ (আংশিক) ফিলাপ করে আবেদন করতে হয়।

• নথিপত্র: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস (ক্যান্সেল চেক বা পাসবুক) আপলোড করা জরুরি।

সতর্কতা:

১. চাকরি না ছাড়লে আংশিক টাকা তোলা গেলেও, সম্পূর্ণ টাকা তোলা যায় না।

২. ৫ বছরের কম সময়ে সার্ভিস থাকাকালীন টাকা তুললে কর (TDS) কাটতে পারে।

৩. ব্যাঙ্ক বা আধারের তথ্যে ভুল থাকলে টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে আসবে না।

নোট: নিয়মগুলো পরিবর্তনশীল, তাই সবসময় সর্বশেষ EPFO নির্দেশিকা অনুসরণ করা উচিত।