Gold Loan: সোনার বিস্কুট জমা রাখলে কেন লোন দেয় না ব্যাঙ্ক? আসল কারণ জানুন
অনেকেই ভাবেন, সোনা থাকলেই ব্যাঙ্ক থেকে সহজে লোন পাওয়া যায়। কিন্তু যে ব্যাঙ্ক বা ফিন্যান্স কোম্পানিগুলো সোনার গয়নার ওপর লোন দেয়, তারা সোনার বিস্কুট বা বারের ওপর লোন দিতে সাধারণত আগ্রহ দেখায় না। এর পেছনের আসল কারণটা কী?

গোল্ড লোনের জন্য কেমন সোনা নেওয়া হয়?
ভারতের ব্যাঙ্ক এবং নন-ব্যাঙ্কিং ফিন্যান্স কোম্পানিগুলো (NBFC) সাধারণত সোনার গয়না বন্ধক রেখে লোন দেয়। আংটি, চেইন বা চুড়ির মতো গয়নার ওপর লোন পাওয়া বেশ সহজ। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এই গয়নার ওজন ও খাঁটিত্ব যাচাই করে লোনের অঙ্ক ঠিক করে। তবে সোনার বিস্কুট বা বারের ক্ষেত্রে নিয়মটা আলাদা। বিস্কুটের সোনা অনেক বেশি খাঁটি হলেও সব ব্যাঙ্ক বা ফিন্যান্স কোম্পানি একে বন্ধক হিসেবে নিতে চায় না। তাই সোনার বিস্কুট থাকলেই যে লোন মিলবে, এমনটা ভাবা ভুল।

সোনার বিস্কুটের ওপর কেন লোন দেওয়া হয় না?
সোনার বিস্কুটের ওপর লোন দিতে ব্যাঙ্কগুলোর অনীহার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।
মালিকানা প্রমাণ: গয়না সাধারণত পারিবারিক প্রয়োজনে কেনা হয়। কিন্তু সোনার বিস্কুট কোথা থেকে কেনা হয়েছে, কে বিক্রি করেছে বা কেনার আসল বিল আছে কি না—এই সব তথ্য ব্যাঙ্ককে খতিয়ে দেখতে হয়। সঠিক কাগজ না থাকলে সোনার উৎস বোঝা কঠিন।
জালিয়াতি আটকানো: সোনার বিস্কুট বা বার খুব সহজেই হাতবদল করা যায়। তাই কেনার আসল তথ্য না জেনে লোন দিলে জালিয়াতির ঝুঁকি থাকে।
সোনার বিস্কুটের ওপর কেন লোন দেওয়া হয় না?
খাঁটিত্ব যাচাই: শুধু বাইরের রং বা হলমার্ক দেখে বিস্কুটের খাঁটিত্ব বোঝা যায় না। এর জন্য আলাদা পরীক্ষার দরকার হয়।
ব্যাঙ্কের নিজস্ব নিয়ম: প্রতিটি ব্যাঙ্কের নিজস্ব কিছু নিয়ম থাকে, যার ফলে তারা বিস্কুট বন্ধক নিতে চায় না। তবে সব সংস্থাই যে বিস্কুটের ওপর লোন দেয় না, তা নয়। এটা পুরোপুরি তাদের পলিসির ওপর নির্ভর করে।
গয়না নাকি বিস্কুট, বন্ধক হিসেবে কোনটা ভালো?
সোনার গয়না এবং বিস্কুট—দুটিতেই সোনা থাকলেও লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু তফাত রয়েছে। গয়নার ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলো খুব সহজেই ওজন ও খাঁটিত্ব মেপে লোনের অঙ্ক ঠিক করে ফেলে। তাদের কাছে গয়না যাচাই করার স্পষ্ট নিয়ম থাকে। তাই গয়না বন্ধক রেখে লোন পাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সহজ।
অন্যদিকে, সোনার বিস্কুট অনেক বেশি খাঁটি হলেও ব্যাঙ্ক সেটা নেবে কি না, তা তাদের নিজস্ব নিয়মের ওপর নির্ভর করে। কেনার বিল থাকলেও যে লোন মিলবেই, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। মনে রাখবেন, গয়নার ওপর লোন দেওয়ার সময় ব্যাঙ্ক কিন্তু গয়নার মেকিং চার্জ বা ডিজাইনের দাম ধরে না। শুধু সোনার আসল ওজন ও খাঁটিত্বের ওপর ভিত্তি করেই লোনের টাকা দেওয়া হয়।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম কী বলছে?
গোল্ড লোনের ক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) নিয়ম খুব গুরুত্বপূর্ণ। সোনার দাম নির্ধারণ, খাঁটিত্ব যাচাই, লোনের সীমা এবং গ্রাহকের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলোকে আরবিআই-এর নিয়ম মেনেই চলতে হয়।
তবে আরবিআই যে সোনার বিস্কুটের ওপর লোন দেওয়ায় পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, এমনটা বলা ভুল। সোনার গয়না, কয়েন বা বিস্কুটের ক্ষেত্রে আরবিআই-এর নিয়ম এবং ব্যাঙ্কের নিজস্ব পলিসি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশেষ করে সোনার কয়েন এবং বিস্কুটকে এক নজরে দেখা হয় না। নিয়মানুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট সোনার কয়েনের ওপর লোন পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বিস্কুট বা বারের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক সেটা নেবে কি না, তা আগে থেকেই জেনে নেওয়া ভালো।
সোনার বিস্কুটের ওপর লোন পাওয়ার কি কোনও সুযোগ আছে?
আপনি যদি সোনার বিস্কুটের ওপর লোন নিতে চান, তবে সবার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা ফিন্যান্স কোম্পানির সঙ্গে কথা বলুন। তারা বিস্কুট বন্ধক নেয় কি না, কী কী কাগজ লাগবে এবং কীভাবে খাঁটিত্ব যাচাই করবে—সেসব জেনে নিন। সোনা কেনার বিল, বিক্রেতার তথ্য এবং প্রয়োজনীয় শংসাপত্র হাতের কাছে রাখা ভালো। তবে সব কাগজ থাকলেও ব্যাঙ্কের নিয়মের কারণে লোন বাতিল হতে পারে।
সোনার গয়না বন্ধক
বিস্কুটের ওপর লোন না পেলে, সোনার গয়না বন্ধক রেখে লোন নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। লোন নেওয়ার আগে অবশ্যই সুদের হার, প্রসেসিং ফি এবং দেরিতে টাকা মেটানোর জরিমানা সম্পর্কে খোঁজ নেবেন।
বিস্কুটের ওপর লোন পাওয়া কঠিন
মোদ্দা কথা হলো, সোনার বিস্কুট খাঁটি নয় বলে ব্যাঙ্ক লোন দেয় না—এমনটা নয়। মালিকানা প্রমাণ, জালিয়াতি আটকানো এবং ব্যাঙ্কের নিজস্ব নিয়মের কারণেই বিস্কুটের ওপর লোন পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।







