World Bank on Iran War: বিশ্বব্যাঙ্ক সতর্ক করেছে যে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ উত্তেজনা একটি বৈশ্বিক সংকট তৈরি করতে পারে, যা প্রায় ৪৫ মিলিয়ন মানুষকে অনাহারের দিকে ঠেলে দেবে। এই যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে, যার ফলে খাদ্য ও জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে এবং দরিদ্র দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
World Bank on Iran War: বিশ্ব একটি সংকট থেকে সেরে উঠতে না উঠতেই আরেকটি সংকট দেখা দেয়। ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ উত্তেজনা এখন সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি সংকট তৈরি করেছে। বিশ্ব ব্যাঙ্ক একটি ভয়াবহ সতর্কবার্তা জারি করে পূর্বাভাস দিয়েছে যে, এই উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন মানুষকে অনাহারের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিতে পারে।
বিশ্বব্যাঙ্কের 'খাদ্য সংকট সতর্কতা' প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান ও তার আশেপাশের যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হবে। ইরানের নিকটবর্তী হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম সমুদ্রপথ। শুধু তেলই নয়, শস্য এবং সারেরও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এর মধ্য দিয়ে যায়। এই পথ ব্যাহত হলে খাদ্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাবে।
কোন দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়বে দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর, যারা ইতোমধ্যেই মুদ্রাস্ফীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবের সম্মুখীন। খাদ্য সংকট এবং ক্রমবর্ধমান মূল্য অপুষ্টি ও সামাজিক অস্থিতিশীলতাকে আরও বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্বব্যাঙ্ক স্পষ্ট করেছে যে, যুদ্ধ চলতে থাকলে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা কয়েক দশক পিছিয়ে যাবে।
বিশ্বব্যাঙ্ক বিশেষভাবে ‘শক্তি-খাদ্য সংযোগ’ সম্পর্কে সতর্ক করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ইরান যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তা সরাসরি কৃষিকাজের খরচের ওপর প্রভাব ফেলবে। সার উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ফসল কাটা ও পরিবহনের জন্য ডিজেল প্রয়োজন। যখন জ্বালানির দাম বেড়ে যায়, তখন কৃষকদের পক্ষে চাষাবাদ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা বিশ্বব্যাপী শস্য উৎপাদন হ্রাসের কারণ হতে পারে। এ কারণেই বিশ্বব্যাঙ্ক এটিকে শুধু একটি আঞ্চলিক উত্তেজনা হিসেবে নয়, বরং একটি ‘বৈশ্বিক পণ্য সংকট’ হিসেবে দেখছে, যা উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় অর্থনীতিকেই প্রভাবিত করতে পারে।
সবকিছুর দাম কেন বাড়ে?
যুদ্ধ শুধু সীমান্তেই হয় না; এর প্রভাব সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছায়। তেলের দাম বাড়লে কৃষিকাজ ও পরিবহনের খরচ বাড়ে, ফলে সবকিছুই আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এই সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয় রোধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমানে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে।


