সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম ও দশম শ্রেণির ভাষা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে। ২০২৬ সালের ১৫ মে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানিয়েছে যে, এই সংশোধিত কাঠামোটিকে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ এবং স্কুল শিক্ষার জন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম রূপরেখা (NCF-SE) ২০২৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম ও দশম শ্রেণির ভাষা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে। ২০২৬ সালের ১৫ মে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানিয়েছে যে, এই সংশোধিত কাঠামোটিকে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০ এবং স্কুল শিক্ষার জন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম রূপরেখা (NCF-SE) ২০২৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি ভাষা—R1, R2 এবং R3—পড়া বাধ্যতামূলক হবে। বোর্ড আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই তিনটি ভাষার মধ্যে অন্তত দুটি অবশ্যই ভারতের নিজস্ব বা দেশীয় ভাষা হতে হবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নবম ও দশম শ্রেণির ভাষা কাঠামো সংশোধন করল CBSE

বোর্ড জানিয়েছে যে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য নবম ও দশম শ্রেণির সদ্য প্রকাশিত NCERT পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান শিক্ষাবর্ষটি ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয়ে গেছে; তবে CBSE জানিয়েছে যে, এই নতুন নিয়মটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটি 'রূপান্তর পদ্ধতি' (transitional approach) অনুসরণ করা হবে।

সংশোধিত ভাষা নীতি অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী কোনও বিদেশি ভাষা অধ্যয়ন করতে ইচ্ছুক, তারা কেবল তখনই সেই ভাষাটি বেছে নিতে পারবে, যদি তাদের নির্বাচিত অন্য দুটি ভাষা ভারতের নিজস্ব বা দেশীয় ভাষা হয়। এছাড়া, বিদেশি ভাষাকে একটি অতিরিক্ত চতুর্থ ভাষা হিসেবেও অধ্যয়ন করা যেতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মধ্যম পর্যায় (Middle Stage) এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের (Secondary Stage) শিক্ষার ক্ষেত্রে পঠন অনুধাবন, মৌখিক যোগাযোগ, ব্যাকরণ এবং লিখন দক্ষতার মতো ভাষাগত দক্ষতাগুলোর মধ্যে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ মিল বা পুনরাবৃত্তি (overlap) রয়েছে।

যতদিন না পর্যন্ত 'R3'-এর জন্য সুনির্দিষ্ট পাঠ্যপুস্তক চালু হচ্ছে, ততদিন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তাদের নির্বাচিত ভাষার জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির 'R3' পাঠ্যপুস্তকগুলোই ব্যবহার করবে। বিদ্যালয়গুলোকে আরও অনুরোধ করা হয়েছে যেন তারা এই পাঠ্যপুস্তকগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় বা রাজ্য-ভিত্তিক সাহিত্যিক উপকরণ—যার মধ্যে কবিতা, ছোটগল্প এবং অন্যান্য কথাসাহিত্য অন্তর্ভুক্ত—সেগুলোও ব্যবহার করে শিক্ষার মানকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। CBSE জানিয়েছে যে, এই সহায়ক উপকরণগুলোর নির্বাচন এবং শিক্ষণ-পদ্ধতিগত প্রয়োগ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা ১৫ জুন, ২০২৬-এর মধ্যে জারি করা হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা

বোর্ড স্বীকার করেছে যে, এই রূপান্তরের সময়কালে দেশীয় ভারতীয় ভাষাগুলোর জন্য যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ বা ব্যবস্থা করতে গিয়ে কিছু বিদ্যালয়কে সমস্যার সম্মুখীন হতে হতে পারে। তাই CBSE বিদ্যালয়গুলোকে কিছু নমনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে; যেমন—'সহোদয়া ক্লাস্টার'-এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষক বা সম্পদের আদান-প্রদান (resource sharing), হাইব্রিড বা মিশ্র শিক্ষণ সহায়তা গ্রহণ, অবসরপ্রাপ্ত ভাষা শিক্ষকদের কাজে লাগানো এবং উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা। বোর্ড আরও জানিয়েছে যে, ১৯টি তফসিলি ভাষার জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির 'R3' পাঠ্যপুস্তকগুলো ১ জুলাই, ২০২৬-এর আগেই বিদ্যালয়গুলোর কাছে সহজলভ্য করে তোলা হবে।