NTA Dissolution:NEET-UG 2026 পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিকে (NTA) ভেঙে দেওয়ার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে গেল ডাক্তারদের সংগঠন ইউনাইটেড ডক্টরস ফ্রন্ট (UDF)। তাদের দাবি, বর্তমান NTA-কে বাতিল করা হোক
NEET-UG 2026 পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় এবার ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা NTA-কেই ভেঙে দেওয়ার দাবি উঠল সুপ্রিম কোর্টে। ইউনাইটেড ডক্টরস ফ্রন্ট (UDF) নামে ডাক্তারদের একটি সংগঠন এই মামলা করেছে।

UDF-এর দাবি
সংগঠনের অভিযোগ, NEET-UG 2026 পরীক্ষা পরিচালনায় NTA চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই আবেদন করা হয়েছে। UDF চাইছে, সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০-এর অধীনে তৈরি বর্তমান NTA-কে ভেঙে দিয়ে সংসদের আইন মেনে একটি নতুন বিধিবদ্ধ জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা তৈরি করা হোক।
অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড রিতু রেনিওয়াল এবং অ্যাডভোকেট মহেন্দ্র কুমাবতের মাধ্যমে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার আইন এনে এমন একটি সংস্থা তৈরি করুক যার নির্দিষ্ট আইনি ক্ষমতা থাকবে, স্বচ্ছতার নিয়ম থাকবে এবং সরাসরি সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি, আগামী পরীক্ষাগুলো যাতে কোনওভাবেই ফাঁস না হয়, তা নিশ্চিত করতে আদালত-নিযুক্ত একটি কমিটির তত্ত্বাবধানে পুরো প্রক্রিয়া চালানোর দাবিও জানানো হয়েছে।
পিটিশনে দাবি
পিটিশনে বলা হয়েছে, গত ৩ মে প্রায় ২২.৭ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য NEET-UG 2026 পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একাধিক রাজ্যে হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে 'গেস পেপার' ছড়িয়ে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে নষ্ট করা হয়েছে। রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (SOG) এবং সিবিআই-এর এফআইআর-এর কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, পরীক্ষার পবিত্রতা একেবারে গোড়া থেকে নষ্ট হয়েছে।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন, জিপিএস ট্র্যাকিং এবং এআই-যুক্ত সিসিটিভি নজরদারির মতো সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার প্রায় ৪২ ঘণ্টা আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। পরে পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে, কর্তৃপক্ষ আসল পরীক্ষার্থীদের থেকে ফাঁস-কাণ্ডে লাভবানদের আলাদা করতে পারেনি।
UDF-এর যুক্তি, NTA একটি নথিভুক্ত সোসাইটি হওয়ায় এর কোনও 'জবাবদিহির জায়গা' নেই। ইউপিএসসি বা এসএসসি-র মতো সাংবিধানিক বা বিধিবদ্ধ সংস্থা যেমন সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকে, NTA তেমন নয়। আবেদনে বলা হয়েছে, বারবার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা সংবিধানের ১৪ এবং ২১ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করছে। কারণ এটি মেধার ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে এবং পড়ুয়াদের মারাত্মক মানসিক যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়।
পিটিশনে সুপ্রিম কোর্টের ২০২৪ সালের নিট বিতর্কের পর্যবেক্ষণ এবং কে. রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কমিটি আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা, আউটসোর্সিং কমানো এবং কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষার দিকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল।


