নন্দীগ্রামের সাত নম্বর বুথ অর্থাৎ বয়াল পোলিং বুথ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে। সেই প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার বয়ালে ভোটগ্রহণ ব্যহত হয়নি। দ্বিতীয় দফায় ভোটের দিন প্রথম থেকেই শিরোনামে ছিল নন্দীগ্রাম। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচারের সব আলো গিয়ে পড়ে মোকতাব প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই কেন্দ্রে ছাপ্পা ভোট পড়েছে বলে অভিযোগ তোলে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যা। সেখানে প্রায় দুঘণ্টা আটকে পড়েন তিনি। তারপরেও নির্বাচন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই বয়ালে অশান্তি হলেও সেখান থেকে কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের পাঠানো সাধারণ দুই পর্যবেক্ষক যে রিপোর্ট দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে নির্বিঘ্নেই ভোট গ্রহণ হয়েছে বয়ালে। 

'পিএ ৭ নম্বর বুথ (বয়াল মোকতাব প্রাথমিক বিদ্যালয়) ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবেই চলছে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনিও রয়েছে। প্রায় দেড় ঘণ্টা তিনি বুথে ছিলেন । বেলা সাড়ে তিনটের দিকে তিনি সেখান থেকে যান।' - পর্যবেক্ষকরা এই রিপোর্ট দিয়েছে বলেও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে কোনও মুহূর্তেই ভোটগ্রহণ ব্যহত হয়নি। 

বয়ালকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফার ভোটে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা দাবি করেছিল যে ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের পোলিং এজেন্টকে বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। আর এই খবর পেয়েই চেনা ছক ভেঙে ভোটের দিন বেরিয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুথে চলে যান তিনি। তবে ঘটনার সূত্রপাত তার অনেক আগেই। তৃণমূলের পোলিং এজেন্টের মা ওই কেন্দ্রে তাঁর ছেলেকে বসার অনুমতি দেয়নি। তারপরেই অন্যদুজন এজেন্টের না প্রস্তাব করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু তাদের কাগজপত্র যাথাযথ ছিল না বলেও জানান হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। সেই জন্য অন্যদুজনকে বসতে দেওয়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবেল  তবে বেলা দেড়টার দিকে বুথে যান। তারপরই দীর্ঘ দুঘণ্টা তিনি সেখানে আটকে পড়েন। 

রণক্ষেত্র বদলের সঙ্গে বদলে ফেললন ছক, নন্দীগ্রামের বাড়ি থেকে বেরিয়ে বুথের পথে মমতা ...

ভোটের দিনেও মমতাকে দেখে জয় শ্রীরাম স্লোগান নন্দীগ্রামে, তৃণমূল নেত্রী বললেন ওরা বহিরাগত ...

পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন অর্থ ও পেশী শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। আর সেই কারণেই তিনি গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন নন্দীগ্রামে তিনি জয়ী হবেন- এবিষেয় তিনি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। তিনি আরও বলেন প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় যে ৬০টি আসনে ভোট হয়েছে তার অধিকাংশই তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হবে।