মোদীর থালা বাজানো কর্মসূচী নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। মোমবাতি জ্বালানো কর্মসূচি নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন 'বাস্তবোচিত' হতে। কিন্তু, নিজেরাই লকডাউন বিধি মানলেন না। মুখে নেই মাস্কের বালাই। গাড়ির মধ্যে সামাজিক দূরত্ব না রেখেই বসে ভাই-বোন। তাঁদের দাঁড় করিয়েছেন পুলিশকর্মীরা। এরকমই একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্য়াল মিডিয়া জুড়ে। কোথাও সঙ্গে লিখে দেওয়া হচ্ছে, 'দেখুন, সারা দুনিয়াকে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ানো ব্যক্তিরা নিজেরাই লকডাউন বিধি ভাঙলেন'। কোথাও এই ভিডিও পোস্ট করে সরাসরি নাম করে বলা হচ্ছে রাহুল গান্ধী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী লকডাউন ভেঙেছেন।

কিন্তু, ভিডিওটি কি সত্যি? সত্যিই কি দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দলের অন্যতম দুই প্রধান মুখ, তথা দেশের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক পরিবারের দুই সদস্য কি সত্যিই এতটা দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো কাজ করলেন? এশিয়ানেট নিউজ বাংলা খতিয়ে দেখল এর পিছনের কি লুকিয়ে আছে অন্য কোন সত্যি, নাকি ভিডিওটি একেবারে খাঁটি।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি সাদা এসইউভি হগাড়িতে বসে আছেন রাহুল-প্রিয়ঙ্কা। তাঁদের আটকেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পুলিশ বলছে, ১৪৪ ধারা জারি করা, তাই যেতে দেওয়া যাবে না। রাহুল-প্রিয়ঙ্কা এবং সেখানে উপস্থিত কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারা পুলিশকে অনুরোধ করেন, গিয়েই চলে আসবেন। বেশিক্ষণ থাকবেন না। কিন্তু পুলিশ তা মানেনি এবং তাদের নামে কেস-ও দেওয়া হয়।

ভিডিওটি দেখলে বেশ কয়েকটি জায়গায় খটকা লাগে। প্রথমত, উত্তরপ্রদেশে এখন বেশ গরম পড়ে গিয়েছে। সেখানে রাগুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীসহ প্রায় প্রত্যেকের গায়েই বেশ মোটা শীতপোশাক। সেইসঙ্গে, এখন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কোনও সরকারি পরিষেবা দানকারীকেই মাস্ক ছাড়া দেখাই যাচ্ছে না। বস্তুত, মাস্ক না পরাটাই অপরাধ হিসাবে গন্য হচ্ছে। রাহুল-প্রিয়ঙ্কা নাহয় লকডাউন ভেঙে বেপরোয়া, তাঁদের মুখে মাস্ক আশা করাই উটিত নয়, কিন্তু কোনও পুলিশকর্মীর মুখেও মাস্ক নেই।

করোনা রোধে গোটা ভারতে 'ভিলওয়ারা মডেল' চাইছে মোদী সরকার, কীভাবে কাজ করে এই ব্যবস্থা

১৪ এপ্রিলের পর জোড়া কৌশলে চলবে করোনা-যুদ্ধ, জেনে নিন মোদী সরকারের পরিকল্পনা

 

৯/১১ হামলাকেও ছাপিয়ে গেল করোনা, একদিনেই মৃত্যুপুরী নিউইয়র্ক

এরপরই এশিয়ানেট নিউজ বাংলা ভিডিওটির একটি স্ক্রিনশট তার ভিত্তিতে অতীত তথ্যানুসন্ধান চালায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, ভিডিও-র ওই দুই ব্যক্তি বাস্তবিকই রাহুল প্রিয়ঙ্কা। আইন ভাঙার কারণেই পুলিশ তাঁদের আটকেছে ঠিকই, কিন্তু তা মহামারী আইন বা লকডাউন বিধি ভাঙার জন্য নয়। বস্তুত, ভিডিওটি ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বরের, অর্থাৎ মাস তিনেত পুরোনো। ওই দিন রাহুল প্রিয়ঙ্কা উত্তরপ্রদেশেক মেরঠে যাচ্ছিলেন, পুলিশের গুলিতে নিহত সিএএ-২০১৯ বিক্ষোভকারীদের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হতে। কিন্তু, সেইসময় শান্তি বজায় রাখার জন্য ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। তাই, পুলিশ রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর গাড়ি আটকেছিল।

একাধিক বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ চ্যানেলে এই ভিডিওটি সংবাদ-সহ রয়েওছে। কাজেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, করোনাভাইরাস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেখানে গোটা দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ছে, সেখানে এইরকম ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে একাংশের মানুষ রাজনৈতিক ভেদাভেদের অঙ্ক কষছেন। কাজেই এই ভিডিও যদি সোশ্য়াল মিডিয়ায় আসে, তাহলে বিশ্বাস তাকে করার কোনও কারণ নেই।